দেশ টেলিভিশন লিমিটেড, কর্ণফুলী মিডিয়া পয়েন্ট, ৪২, শহীদ সাংবাদিক সেলিনা পারভীন সড়ক, মালিবাগ, ঢাকা-১২১৭, বাংলাদেশ।
টেলিফোন: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৫৮, ৮৩৩২৯২২ ফ্যাক্স: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৮১ মেইল: [email protected]

টানা বৃষ্টিপাত ও উজানের ঢলে গত ২৪ ঘণ্টায় কিশোরগঞ্জে নদ-নদীর পানি বৃদ্ধি পেয়েছে। এতে নতুন করে প্রায় আড়াই হাজার হেক্টর জমি প্লাবিত হয়েছে। সব মিলিয়ে সাড়ে ৬ হাজার হেক্টর জমির ধান পানিতে তলিয়ে গেছে বলে জানা গেছে। ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন প্রায় ২১ হাজার কৃষক।
শুক্রবার (১ মে) সকালে পানি উন্নয়ন বোর্ড জানায়, জেলার চারটি গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টে পানি বৃদ্ধি পেয়েছে। ইটনা পয়েন্টে ধনু-বৌলাই নদীর পানি ৩.০১ মিটার, চামড়াঘাটে মেঘনা নদীর পানি ২.৬৩ মিটার, অষ্টগ্রামে কালনী নদীর পানি ২.৩০ মিটার এবং ভৈরব বাজারে মেঘনা নদীর পানি ১.৮৭ মিটার রেকর্ড করা হয়েছে। আগের দিনের তুলনায় এসব পয়েন্টে ২ থেকে ৫ সেন্টিমিটার পর্যন্ত পানি বেড়েছে।
পানি উন্নয়ন বোর্ডের তথ্য অনুযায়ী, সবকটি নদীর পানি এখনো বিপদসীমার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। বিভিন্ন পয়েন্টে পানি বিপদসীমার ১১৪ থেকে ৩৯৩ সেন্টিমিটার নিচে রয়েছে।
তবে টানা বৃষ্টিপাত ও উজান থেকে পানি প্রবাহ অব্যাহত থাকলে পরিস্থিতি আরও অবনতির আশঙ্কা রয়েছে বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন। এতে হাওরাঞ্চলের বোরো ধানের ক্ষতি আরও বাড়তে পারে।
ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকরা জানান, বছরের একমাত্র ফসল হারিয়ে তারা চরম অনিশ্চয়তায় পড়েছেন। ঋণ পরিশোধ ও পরিবার চালানো নিয়ে দুশ্চিন্তায় দিন কাটছে তাদের।
কিশোরগঞ্জ পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. সাজ্জাদ হোসেন বলেন, পরিস্থিতি সার্বক্ষণিক পর্যবেক্ষণে রাখা হয়েছে। ঝুঁকি মোকাবিলায় স্থানীয় প্রশাসন ও কৃষকদের সতর্ক থাকার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এর আগেই দ্রুত ধান কেটে ঘরে তোলার পরামর্শ দেওয়া হয়েছিল।
জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক ড. সাদিকুর রহমান জানান, মাঠপর্যায়ের তথ্যমতে এখন পর্যন্ত সাড়ে ৬ হাজার হেক্টর জমি পানিতে তলিয়ে গেছে। এর মধ্যে সবচেয়ে বেশি ক্ষতি হয়েছে ইটনা ও অষ্টগ্রাম উপজেলায়। তবে বৃষ্টিপাত না বাড়লে বড় ধরনের ক্ষতির আশঙ্কা তুলনামূলক কম থাকবে।
এমএস/