দেশ টেলিভিশন লিমিটেড, কর্ণফুলী মিডিয়া পয়েন্ট, ৪২, শহীদ সাংবাদিক সেলিনা পারভীন সড়ক, মালিবাগ, ঢাকা-১২১৭, বাংলাদেশ।
টেলিফোন: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৫৮, ৮৩৩২৯২২ ফ্যাক্স: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৮১ মেইল: [email protected]

রাজবাড়ীর গোয়ালন্দ উপজেলার দেবগ্রাম ইউনিয়নের মুন্সিবাজার এলাকায় আবারও অসময়ে শুরু হয়েছে পদ্মা নদীর তীব্র ভাঙন। গত কয়েকদিনের ভাঙনে কৃষিজমি নদীগর্ভে বিলীন হয়ে গেছে, ঝুঁকির মুখে পড়েছে বসতবাড়ি, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, কবরস্থান ও ধর্মীয় স্থাপনাসহ বিস্তীর্ণ এলাকা।
স্থানীয় কৃষক জুলহাস সরদার জানান, একসময় তাদের পরিবারের প্রায় একশ বিঘা জমি থাকলেও নদীভাঙনে তা কমে এখন প্রায় ছয় বিঘায় দাঁড়িয়েছে। সেই সামান্য জমির ওপরই নির্ভর করে তাদের জীবন-জীবিকা। বর্তমানে পাকা ধানের ক্ষেত নদীতে বিলীন হওয়ার আশঙ্কায় তারা চরম দুশ্চিন্তায় রয়েছেন।
এলাকার ৪ ও ৫ নম্বর ওয়ার্ডে প্রায় ৫০ ফুটজুড়ে ভাঙন দেখা দিয়েছে। ইতোমধ্যে হাবিজল সরদারের ধানের খেতসহ প্রায় তিন কাঠা জমি নদীগর্ভে চলে গেছে। এছাড়া পেঁয়াজ ও অন্যান্য ফসলের খেতও হুমকির মুখে রয়েছে। গত কয়েকদিনেই প্রায় ১০ বিঘা কৃষিজমি বিলীন হয়েছে বলে স্থানীয়রা জানিয়েছেন।
ভাঙনের ঝুঁকিতে রয়েছে বেথুলী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, কবরস্থান, ইদগাহসহ শতাধিক বাড়িঘর। আতঙ্কে অনেক পরিবার নদীর পাড়েই অবস্থান করছে এবং কৃষকরা আগাম পাট কেটে নিচ্ছেন ক্ষতি কমানোর জন্য।
স্থানীয় বাসিন্দা জামাল মুনশি বলেন, প্রতিবছর ভাঙন শুরু হলে সাময়িকভাবে জিওব্যাগ ফেলা হয়, কিন্তু ততক্ষণে বহু জমি নদীতে হারিয়ে যায়। দীর্ঘদিন ধরে স্থায়ী কোনো প্রতিরোধ ব্যবস্থা না থাকায় এলাকাবাসী ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন।
অভিযোগ রয়েছে, দৌলতদিয়া ঘাট আধুনিকায়ন প্রকল্পের আওতায় ৬ কিলোমিটার এলাকায় স্থায়ী তীররক্ষা বাঁধ নির্মাণের পরিকল্পনা থাকলেও প্রায় সাত বছরেও তা বাস্তবায়িত হয়নি। ফলে প্রতি বছরই ভাঙনের পুনরাবৃত্তি ঘটছে।
স্থানীয় কৃষকরা জানান, প্রায় ৩০ বছর ধরে এই এলাকায় ভাঙন চলছে, কিন্তু কার্যকর কোনো স্থায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। রাজনৈতিক প্রতিশ্রুতি এলেও বাস্তবায়ন হয়নি বলে অভিযোগ তাদের।
গোয়ালন্দ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সাথী দাস বলেন, বিষয়টি গুরুত্বসহকারে দেখা হচ্ছে এবং পানি উন্নয়ন বোর্ডের সঙ্গে সমন্বয় করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
রাজবাড়ী পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী (ভারপ্রাপ্ত) মো. তাজমিনুর রহমান জানান, ঘটনাস্থলে একটি টিম পাঠানো হয়েছে। পরিস্থিতি পর্যালোচনা করে জরুরি ভিত্তিতে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে।
জে আই