দেশ টেলিভিশন লিমিটেড, কর্ণফুলী মিডিয়া পয়েন্ট, ৪২, শহীদ সাংবাদিক সেলিনা পারভীন সড়ক, মালিবাগ, ঢাকা-১২১৭, বাংলাদেশ।
টেলিফোন: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৫৮, ৮৩৩২৯২২ ফ্যাক্স: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৮১ মেইল: [email protected]

জ্বালানি খাতে স্বচ্ছতা আনতে চালু হওয়া সরকারি ‘ফুয়েল পাস’ অ্যাপের তুলনায় নওগাঁ জেলা প্রশাসনের তৈরি স্থানীয় ফুয়েল ম্যানেজমেন্ট অ্যাপ সহজ ব্যবহার ও কার্যকারিতার কারণে বেশি জনপ্রিয় হয়ে উঠছে।
সরকারি ‘ফুয়েল পাস’ অ্যাপে ব্যবহারকারীদের জন্য পূর্ব রেজিস্ট্রেশন, ইন্টারনেট সংযোগ ও কিউআর কোড বাধ্যতামূলক হওয়ায় সাধারণ গ্রাহকদের মধ্যে জটিলতা তৈরি হচ্ছে। অনেক ক্ষেত্রে সার্ভার সমস্যার কারণে অ্যাপ ব্যবহারও ব্যাহত হচ্ছে বলে অভিযোগ রয়েছে।
বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম কর্পোরেশনের উদ্যোগে রাজধানীতে পরীক্ষামূলকভাবে চালু হওয়া এই অ্যাপ ব্যবহারে নানা সীমাবদ্ধতা দেখা গেলেও নওগাঁর স্থানীয় অ্যাপে গ্রাহকের কোনো রেজিস্ট্রেশন প্রয়োজন হয় না। ফিলিং স্টেশনের কর্মীর অ্যাকাউন্ট থেকেই পুরো প্রক্রিয়া পরিচালিত হওয়ায় ব্যবহার সহজ হয়েছে।
এই অ্যাপের অন্যতম সুবিধা হলো লিটারের পাশাপাশি টাকার পরিমাণ ইনপুট দেওয়ার সুযোগ, ফলে খুচরা টাকার ঝামেলা কমে এবং দ্রুত সেবা দেওয়া সম্ভব হয়। একই সঙ্গে সীমিত তথ্য ব্যবহারের কারণে সার্ভারের ওপর চাপও কম থাকে।
নওগাঁর অ্যাপে জ্বালানি নেওয়ার সময় বাধ্যতামূলকভাবে যানবাহনের মাইলেজ ইনপুট দিতে হয়। পরবর্তীবার জ্বালানি নিতে হলে তা হালনাগাদ করতে হয়, ফলে অবৈধ মজুদ বা অপচয়ের সুযোগ কমে আসে।
এতে রয়েছে নাম্বার প্লেট স্ক্যানিং, রিয়েল-টাইম মনিটরিং, ফিলিং স্টেশনের হিসাব ব্যবস্থাপনা এবং এআইভিত্তিক পর্যবেক্ষণ সুবিধা। সন্দেহজনক লেনদেন শনাক্ত করতেও এটি কার্যকর ভূমিকা রাখছে।
বর্তমানে নওগাঁসহ রাজশাহী, পাবনা, জয়পুরহাট ও বগুড়ার মোট ১৬২টি ফিলিং স্টেশনে এই অ্যাপ ব্যবহার হচ্ছে। এতে নিবন্ধিত কর্মী ৫৫৯ জন এবং প্রায় ১ লাখের বেশি যানবাহনে ইতোমধ্যে জ্বালানি সরবরাহ করা হয়েছে।
ব্যবহারকারীরা বলছেন, নিবন্ধনের ঝামেলা না থাকায় সহজেই তেল নেওয়া যাচ্ছে। ফিলিং স্টেশন মালিকদের মতে, কাগজের হিসাবের পরিবর্তে অ্যাপে কাজ হওয়ায় সময় ও জটিলতা কমেছে।
সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, স্থানীয় বাস্তবতা বিবেচনায় তৈরি এই অ্যাপটি জ্বালানি ব্যবস্থাপনায় স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে কার্যকর ভূমিকা রাখছে।
এমএস/