দেশ টেলিভিশন লিমিটেড, কর্ণফুলী মিডিয়া পয়েন্ট, ৪২, শহীদ সাংবাদিক সেলিনা পারভীন সড়ক, মালিবাগ, ঢাকা-১২১৭, বাংলাদেশ।
টেলিফোন: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৫৮, ৮৩৩২৯২২ ফ্যাক্স: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৮১ মেইল: [email protected]

কক্সবাজারের রামুতে পুলিশের অভিযানে বিপুল পরিমাণ ইয়াবা উদ্ধারকে কেন্দ্র করে নতুন বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। অভিযোগ উঠেছে, উদ্ধার হওয়া প্রায় দুই লাখ পিস ইয়াবার বড় অংশ ‘গায়েব’ করা হয়েছে। এ ঘটনায় অভিযানে নেতৃত্ব দেওয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মনিরুল ইসলাম ভুঁইয়ার বিরুদ্ধে প্রায় তিন কোটি টাকার ইয়াবা আত্মসাতের অভিযোগ এসেছে।
শনিবার (২৮ মার্চ) দুপুরে রামুর জোয়ারিয়ানালার মৌলভীপাড়া এলাকায় পুলিশের একটি অভিযানে প্রায় দুই লাখ পিস ইয়াবা উদ্ধার করা হয়। তবে জব্দ তালিকায় তা মাত্র ১ লাখ ৪ হাজার পিস হিসেবে দেখানো হয়। বাকি প্রায় ৯৬ হাজার পিসের কোনো হিসাব পাওয়া যায়নি। এটি স্থানীয়ভাবে এবং গণমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর পুলিশ রাত ৮টায় দ্বিতীয় দফায় অভিযান চালিয়ে তিনজনকে আটক করে থানায় নিয়ে যায়।
পরবর্তীতে জোয়ারিয়ানালার মৌলভীপাড়ার মৃত কামাল আক্তারের স্ত্রী মাবিয়া বেগম ওরফে আমেনা খাতুন (৬৫) গ্রেপ্তার দেখিয়ে একটি প্রেস বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হয়। সেখানে দাবি করা হয়, বিকাল সাড়ে ৩টার দিকে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে তার বসতঘরের খাটের নিচ থেকে ১ লাখ ৪ হাজার পিস ইয়াবা উদ্ধার করা হয়েছে এবং তা জব্দ তালিকাভুক্ত করা হয়েছে।
তবে সরেজমিনে গিয়ে স্থানীয় ও প্রত্যক্ষদর্শীরা জানিয়েছেন, অভিযানে পুলিশের একটি দল প্রায় দুই লাখ পিস ইয়াবা উদ্ধার করে এবং গণনা করা হয়। পরে ওসি মনিরুল ইসলাম ভুঁইয়া উপস্থিত হয়ে তার একটি অংশ উপস্থাপন করেন, বাকি অংশ সরিয়ে রাখা হয় বলে অভিযোগ উঠেছে।
একজন স্থানীয় বাসিন্দা বলেন, আমরা নিজের চোখে দেখেছি ইয়াবার পরিমাণ অনেক বেশি ছিল। কিন্তু পরে অর্ধেকেরও কম দেখানো হয়েছে। বিষয়টি অত্যন্ত সন্দেহজনক।
এর আগে, গত ১৮ ফেব্রুয়ারি রামু কেন্দ্রীয় সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সামনে বালুভর্তি একটি ট্রাকে ৪ লাখ ৫০ হাজার পিস ইয়াবা উদ্ধার করা হয়েছিল। ওই ঘটনাতেও ৩ লাখ পিস গায়েব হয়ে মাত্র ১ লাখ ৫০ হাজার পিস জব্দ হিসেবে দেখানো হয়েছিল বলে অভিযোগ উঠেছিল।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক পুলিশ সদস্যও বলেছেন, এত বড় চালান থেকে কম দেখানো স্বাভাবিক নয়। বিষয়টি তদন্ত হওয়া প্রয়োজন।
তবে এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন রামু থানার ওসি মনিরুল ইসলাম ভুঁইয়া।
তিনি বলেন, উদ্ধারকৃত সব ইয়াবা আইনগত প্রক্রিয়ায় জব্দ করা হয়েছে। গায়েবের অভিযোগ সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন।
এ বিষয়ে কক্সবাজার জেলা পুলিশের মুখপাত্র অতিরিক্ত পুলিশ সুপার দেবদ্যুত মজুমদার বলেছেন, বিষয়টি গুরুত্বসহকারে তদন্ত করা হবে। অভিযোগের সত্যতা পেলে বিভাগীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
জে আই