দেশ টেলিভিশন লিমিটেড, কর্ণফুলী মিডিয়া পয়েন্ট, ৪২, শহীদ সাংবাদিক সেলিনা পারভীন সড়ক, মালিবাগ, ঢাকা-১২১৭, বাংলাদেশ।
টেলিফোন: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৫৮, ৮৩৩২৯২২ ফ্যাক্স: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৮১ মেইল: [email protected]

লালমনিরহাটের ওপর দিয়ে বয়ে যাওয়া হঠাৎ ঝড় ও শিলাবৃষ্টিতে ৫টি উপজেলার বিভিন্ন স্থানে ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে।
শুক্রবার (২৭ মার্চ) দিবাগত রাতের আকস্মিক দুর্যোগে জেলায় পাঁচ উপজেলার কয়েকটি গ্রামের অন্তত ৩ শতাধিক ঘরবাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে, উপড়ে পড়েছে অসংখ্য গাছপালা ও বৈদ্যুতিক খুঁটি। হেলে পড়েছে কৃষকের ভূট্টা, তামাকসহ নানা ফসল।
সরেজমিনে দেখা গেছে, শিলাবৃষ্টির দুর্যোগের কবলে পড়া বাড়িগুলোর টিনের ঘরের চালা ফুটো হয়ে গেছে।
জেলার আদিতমারী উপজেলার মহিষখোচা ইউনিয়নের চন্ডিমারী এলাকার সইদুল ইসলাম বলেন, ‘কিছু বুঝে ওঠার আগেই তীব্র বাতাসে ঘর ভেঙে পড়লে পরিবারের সদস্যদের নিয়ে কোনোমতে বাহিরে আসি এবং অন্যত্র আশ্রয় নিয়েছি। পরে শিলাবৃষ্টি শুরু হয়েছে। আমার বাড়ির তিনটি ঘরের চালা খুব ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।’
জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের প্রাথমিক হিসাব অনুযায়ী, প্রায় ৪০ হেক্টর জমির ভুট্টা এবং ৩০ হেক্টর জমির শাকসবজি ও তামাক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। তবে মাঠের বাস্তবতা ভিন্ন।
কৃষকদের দাবি, ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ এই সরকারি হিসাবের চেয়ে কয়েক গুণ বেশি। শিলাবৃষ্টিতে তামাক পাতা ফুটো হয়ে নষ্ট হয়ে গেছে এবং ফলন্ত ভুট্টার গাছগুলো মাটির সঙ্গে মিশে গেছে।
জেলার হাতীবান্ধার উপজেলার ফকিরপাড়া ইউনিয়নের বাসিন্দা তরিকুল ইসলাম বলেন, ‘ঘুম থেকে উঠে দেখি ভুট্টা খেত মাটিতে শুয়ে গেছে।’
একই এলাকার কৃষক মাহবুবুর রহমান বলেন, ‘চার দোন (প্রায় এক একর) জমিতে ভুট্টা লাগিয়েছিলাম। অধিকাংশ ভূট্টার গাছ হেলে মাটিতে পড়েছে। কী করবো বুঝে উঠতে পারছি না।’
কালীগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) শামিমা আক্তার জাহান জানান, কালীগঞ্জ উপজেলার ভোটমারী ও তুষভাণ্ডারসহ বিভিন্ন এলাকা পরিদর্শন করে দেখা গেছে, অনেক ঘরবাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
লালমনিরহাট কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক ড. সাঈখুল আরিফিন বলেন, ‘গতকাল শিলাবৃষ্টিতে আদিতমারী, হাতিবান্ধার উপজেলার কৃষকের প্রায় ৪০ হেক্টর জমির ভূট্টা ও ৩০ হেক্টর জমির সবজি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। আমরা ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ নিয়ে আরও কাজ চলমান রেখেছি। কৃষকদের পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে।’
লালমনিরহাট জেলা প্রশাসক এইচ এম রকিব হায়দার জানিয়েছেন, ক্ষয়ক্ষতির প্রকৃত চিত্র জানতে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাদের মাধ্যমে দ্রুত তালিকা তৈরির নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
প্রশাসনের পক্ষ থেকে মাঠ পর্যায়ে পরিদর্শনের কাজ চলছে বলেও জানান তিনি।
/অ