দেশ টেলিভিশন লিমিটেড, কর্ণফুলী মিডিয়া পয়েন্ট, ৪২, শহীদ সাংবাদিক সেলিনা পারভীন সড়ক, মালিবাগ, ঢাকা-১২১৭, বাংলাদেশ।
টেলিফোন: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৫৮, ৮৩৩২৯২২ ফ্যাক্স: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৮১ মেইল: [email protected]

ঝালকাঠি সদর উপজেলার গাবখান নদীর তীরবর্তী প্রায় দুই হাজার গাছ কাটার প্রকল্প আপাতত স্থগিত করা হয়েছে। পরিবেশকর্মীদের প্রতিবাদ এবং উচ্চ আদালতের একটি রায়ের পর জেলা প্রশাসনের নির্দেশে বন বিভাগ কাজ বন্ধ করেছে। তবে এর আগে গত এক সপ্তাহে অন্তত ১২০টি মূল্যবান গাছ কেটে ফেলা হয়েছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, গাবখান বাজার থেকে বারুহাট পর্যন্ত প্রায় চার কিলোমিটার এলাকায় পুরাতন রাস্তার দুই পাশে গাছ কাটার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছিল। বন বিভাগ ৪৭টি লটে মোট ১ হাজার ৮১৫টি গাছ চিহ্নিত করেছিল।
বন বিভাগের এক সূত্র জানিয়েছে, প্রকৃতপক্ষে এক লটে প্রায় ৫০টি করে গাছ কাটা হলে মোট সংখ্যা দাঁড়াবে প্রায় ২ হাজার ৩৫০টি।
পরিবেশকর্মী ও সাংবাদিক ইসমাঈল মুসাফির সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিষয়টি সামনে আনার পর জেলা প্রশাসকসহ বিভিন্ন দপ্তরে লিখিতভাবে গাছ কাটা বন্ধের অনুরোধ জানানো হয়। এ উদ্যোগে সহমত প্রকাশ করেন সুপ্রিম কোর্টের সিনিয়র আইনজীবী এবং হিউম্যান রাইটস অ্যান্ড পিস ফর বাংলাদেশের (এইচআরপিবি) চেয়ারম্যান অ্যাডভোকেট মঞ্জিল মোরশেদ।
ঝালকাঠি জেলা প্রশাসক মো. মমিন উদ্দিন বৃহস্পতিবার (১২ মার্চ) গাছ কাটা বন্ধের নির্দেশ দেন। এরপর জেলা বন বিভাগের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. জাকিরুল হক সরকার কাজটি বন্ধ করেন।
বন বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, প্রায় দেড় বছর ধরে পানি উন্নয়ন বোর্ড গাছ কাটার জন্য অনুরোধ জানিয়ে আসছিল। ৪৭টি লটের মধ্যে ৩৭টি লটের ঠিকাদারি পান ঝালকাঠির নলছিটি উপজেলার নজরুল মেম্বারসহ চারজন ঠিকাদার। বাকি ১০টি লট পান সদর ও কাঠালিয়া উপজেলার তিনজন ঠিকাদার।
বন বিভাগের নথি অনুযায়ী, কাটা হওয়া গাছের মধ্যে অন্তত ২৬ প্রজাতির গাছ রয়েছে, যেমন রাজ কড়ই, কাঞ্চন, তুলা, অর্জুন, শিশু, বাবলা, তেঁতুল, জারুল, কড়ই, জাম, নিম, কাঁঠাল, গামার, সেগুন ও আম। পরিবেশকর্মীদের মতে, এলাকায় প্রায় ১০০ প্রজাতির পাখি এবং বিরল সরীসৃপের আবাসস্থল রয়েছে।
ঝালকাঠির সিনিয়র আইনজীবী নাসির উদ্দীন কবীর বলেন, সংখ্যা দুই হাজার হোক বা তার বেশি, এত গাছ কাটার পরিকল্পনা গ্রহণ করা অনুচিত। এখানে সমৃদ্ধ জীববৈচিত্র্য রয়েছে। কোনোভাবেই গাছ কাটতে দেওয়া যাবে না।
জেলা বন বিভাগের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. জাকিরুল হক সরকার বলেন, জেলা প্রশাসকের নির্দেশ পাওয়ার পর কাজ বন্ধ হয়েছে। কোনো একটি ডালও কেউ কাটতে পারবে না।
জেলা প্রশাসক মো. মমিন উদ্দিন বলেন, উচ্চ আদালতের একটি রায়ের বিষয় উল্লেখ করা হয়েছে। পরবর্তী বৈঠকে এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।
অ্যাডভোকেট মঞ্জিল মোরশেদ বলেন, উচ্চ আদালতের নির্দেশনা অনুযায়ী পরিবেশ বিশেষজ্ঞসহ একটি কমিটির সুপারিশ ছাড়া গাছ কাটা আইনগতভাবে টেকসই নয়।
জে আই