দেশ টেলিভিশন লিমিটেড, কর্ণফুলী মিডিয়া পয়েন্ট, ৪২, শহীদ সাংবাদিক সেলিনা পারভীন সড়ক, মালিবাগ, ঢাকা-১২১৭, বাংলাদেশ।
টেলিফোন: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৫৮, ৮৩৩২৯২২ ফ্যাক্স: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৮১ মেইল: [email protected]

নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জ উপজেলায় সরকারের সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচি (ভিজিএফ) কর্মসূচির চাল বিতরণে অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। সরকারি নিয়ম অনুযায়ী প্রতি কার্ডধারীর বিপরীতে ১০ কেজি চাল দেওয়ার কথা থাকলেও অনেক ক্ষেত্রে দেওয়া হচ্ছে মাত্র ৮ থেকে ৯ কেজি চাল।
বৃহস্পতিবার (১২ মার্চ) তারাব পৌরসভার পাঁচটি কেন্দ্রে চাল বিতরণের সময় সরেজমিনে গিয়ে এ অভিযোগ পাওয়া গেছে। এতে দরিদ্র ও নিম্নআয়ের মানুষ তাদের প্রাপ্য সহায়তা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন বলে অভিযোগ উঠেছে।
উপজেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, ঈদ উপলক্ষে উপজেলার ৭টি ইউনিয়ন ও ২টি পৌরসভায় মোট ৭ হাজার ৭৭৪ জনকে ১০ কেজি করে চাল দেওয়ার কথা রয়েছে। এর মধ্যে তারাব পৌরসভায় ভিজিএফ কার্ডধারী রয়েছেন ৪ হাজার ৬২৫ জন।
সরেজমিনে দেখা যায়, সরকারি নির্দেশনা অনুযায়ী চাল ডিজিটাল স্কেলে মেপে দেওয়ার কথা থাকলেও অনেক ক্ষেত্রে বালতিতে করে আনুমানিকভাবে চাল বিতরণ করা হচ্ছে। ওজন করলে দেখা যায় কোথাও ৮ কেজি, আবার কোথাও ৯ কেজির মতো চাল দেওয়া হচ্ছে।
একাধিক কার্ডধারী অভিযোগ করেন, অনেক সময় চাল কম দেওয়া হলেও ভবিষ্যতে তালিকা থেকে নাম বাদ পড়ার আশঙ্কায় তারা প্রকাশ্যে প্রতিবাদ করতে সাহস পান না। এছাড়া সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে অতিরিক্ত চাল খোলা বাজারে বিক্রির অভিযোগও রয়েছে।
হাজেরা বেগম নামে এক কার্ডধারী বলেন, আমাদের বলা হয় ১০ কেজি চাল দেওয়া হচ্ছে। কিন্তু মেপে দেখলে প্রায় দেড় থেকে দুই কেজি কম পাওয়া যায়। আমরা গরিব মানুষ, তাই কিছু বলতেও পারি না।
স্থানীয়রা বলেন, ভিজিএফ কর্মসূচি মূলত অসহায়, দরিদ্র ও নিম্ন আয়ের মানুষের খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করার জন্য চালু করা হয়েছে। সেখানে যদি ওজনে কম দেওয়া হয় বা অনিয়ম ঘটে, তাহলে প্রকৃত উপকারভোগীরাই ক্ষতিগ্রস্ত হন এবং সরকারের মানবিক উদ্যোগ প্রশ্নবিদ্ধ হয়ে পড়ে। তাই তৃণমূল পর্যায়ে চাল বিতরণে স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা জরুরি।
এ বিষয়ে উপজেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক আরিফ মোহাম্মদ বলেন, আমরা ঠিক মাপমতো চাল দিয়ে দিয়েছি। পরে কেউ যদি চাল কম দেয়, সেটা আমাদের দেখার বিষয় না।
এ ব্যাপারে তারাব পৌর নির্বাহী কর্মকর্তা শরীফুল ইসলাম ভূইয়া বলেন, চালের বস্তা আনা-নেওয়ার সময় কিছু চাল পড়ে যেতে পারে। তখন ৫০০ গ্রাম কমবেশি হতে পারে। তবে ২ কেজি চাল কম দেওয়ার বিষয়টি অন্যায়। এমন হলে তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে। ভবিষ্যতে ডিজিটাল স্কেলে চাল মেপে দেওয়ার ব্যবস্থা করা হবে।
/অ