দেশ টেলিভিশন লিমিটেড, কর্ণফুলী মিডিয়া পয়েন্ট, ৪২, শহীদ সাংবাদিক সেলিনা পারভীন সড়ক, মালিবাগ, ঢাকা-১২১৭, বাংলাদেশ।
টেলিফোন: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৫৮, ৮৩৩২৯২২ ফ্যাক্স: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৮১ মেইল: [email protected]

মায়ের দীর্ঘদিনের ইচ্ছা পূরণ করতে হেলিকপ্টারে করে মাকে সঙ্গে নিয়ে নরসিংদীর বেলাবতে গ্রামের বাড়িতে ফিরলেন মালয়েশিয়া প্রবাসী দুই ভাই। তাদের এই ব্যতিক্রমী আগমনে এলাকায় সৃষ্টি হয় উৎসবমুখর পরিবেশ এবং দেখতে ভিড় করেন শত শত মানুষ।
বুধবার (১১ মার্চ) দুপুরে ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে হেলিকপ্টারে যাত্রা করে নরসিংদীর বেলাবো উপজেলার নারায়ণপুর ইউনিয়নের দড়িকান্দি গ্রামে নিজ বাড়িতে পৌঁছান মালয়েশিয়া প্রবাসী মো. হানিফ মিয়া ও তার ছোট ভাই মানিক বাদশা ক্বাদরী।
হেলিকপটারটি গ্রামের মাঠে অবতরণ করলে পরিবারের সদস্য, আত্মীয়-স্বজন ও গ্রামবাসীরা ফুল দিয়ে তাদের বরণ করে নেন। এ সময় হেলিকপ্টারে করে প্রবাসী দুই ভাইয়ের বাড়ি ফেরার খবর এলাকায় ছড়িয়ে পড়লে আশপাশের গ্রাম থেকেও অনেক উৎসুক মানুষ সেখানে ভিড় করেন। গ্রামের মানুষদের কাছে ঘটনাটি ছিল একেবারেই ব্যতিক্রমী ও আনন্দের।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, বড় ভাই মো. হানিফ মিয়া প্রায় ১৪ বছর ধরে এবং ছোট ভাই মানিক বাদশা ক্বাদরী প্রায় এক যুগ ধরে মালয়েশিয়ায় কর্মরত রয়েছেন। বড় ভাই হানিফ মিয়া মাঝে মধ্যে দেশে এলেও ছোট ভাই মানিক বাদশা দীর্ঘদিন পর এবার দেশে ফিরেছেন। তাদের মায়ের দীর্ঘদিনের ইচ্ছা ছিল বিদেশ থেকে ছেলেরা ফিরে এলে তাকে সঙ্গে নিয়ে হেলিকপ্টারে করে গ্রামের বাড়িতে আসবেন। সেই ইচ্ছা পূরণ করতেই ছেলেরা এই ব্যতিক্রমী উদ্যোগ নেন।
হানিফ মিয়ার বন্ধু মো. কামরুজ্জামান রাসেল বলেন, আমাদের বন্ধু হানিফ ও তার ছোট ভাই দীর্ঘদিন ধরে মালয়েশিয়ায় অবস্থান করছেন। এবার তারা দেশে এসে পরিবারের সঙ্গে ঈদ উদযাপন করবেন। বন্ধু দেশে ফিরেছে শুনে আমরা ফুল দিয়ে তাকে শুভেচ্ছা জানিয়েছি।
এদিকে স্থানীয় বাসিন্দা মো. জাকির ফরাজী বলেন, আমার ভাতিজারা দীর্ঘদিন পর দেশে এসেছে। তাদের মায়ের ইচ্ছা ছিল ছেলেদের সঙ্গে হেলিকপ্টারে করে গ্রামের বাড়িতে ফিরবেন। আজ সেই স্বপ্ন পূরণ হয়েছে দেখে আমরা খুব আনন্দিত।
মালয়েশিয়া প্রবাসী মানিক বাদশা ক্বাদরী বলেন, আমাদের মায়ের স্বপ্ন ছিল বিদেশ থেকে দেশে ফেরার পর তাকে নিয়ে হেলিকপ্টারে করে বাড়ি ফিরব। আল্লাহর রহমতে আজ আমরা সেই স্বপ্ন পূরণ করতে পেরেছি। মায়ের মুখে হাসি দেখতে পারাই আমাদের সবচেয়ে বড় আনন্দ। আমার মনে হয়, প্রত্যেক সন্তানেরই উচিত তার মায়ের স্বপ্ন পূরণে চেষ্টা করা।
গ্রামবাসীরা জানান, হেলিকপ্টারে করে প্রবাসী দুই ভাইয়ের আগমন তাদের জন্য ছিল এক বিরল অভিজ্ঞতা। অনেকেই প্রথমবারের মতো এত কাছ থেকে হেলিকপ্টার দেখেছেন। ফলে ঘটনাটি পুরো এলাকায় ব্যাপক আলোচনার সৃষ্টি করেছে।
জে আই