দেশ টেলিভিশন লিমিটেড, কর্ণফুলী মিডিয়া পয়েন্ট, ৪২, শহীদ সাংবাদিক সেলিনা পারভীন সড়ক, মালিবাগ, ঢাকা-১২১৭, বাংলাদেশ।
টেলিফোন: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৫৮, ৮৩৩২৯২২ ফ্যাক্স: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৮১ মেইল: [email protected]

তেল সংকটের আতঙ্কে শেরপুরের বিভিন্ন পেট্রোল পাম্পে ভিড় করছেন যানবাহন চালকরা। ফলে গত কয়েক দিনের মতো রোববারও জেলার বিভিন্ন ফিলিং স্টেশনে দেখা গেছে ব্যক্তিগত গাড়ি ও মোটরসাইকেলের দীর্ঘ সারি।
সরেজমিনে শহরের খোয়ারপাড় শাপলা চত্বরের মেসার্স হক ফিলিং স্টেশনে দেখা যায়, সড়ক থেকে পাম্প পর্যন্ত মোটরসাইকেল অপেক্ষা করছে। পাশাপাশি দীর্ঘ সারিতে রয়েছে ট্রাক, মিনিট্রাক ও প্রাইভেটকার। সিরিয়াল মেনে স্লিপ নিয়ে ধীরে ধীরে এগিয়ে পাম্প থেকে জ্বালানি তেল সংগ্রহ করা হচ্ছে। অন্যান্য পাম্পগুলোতেও প্রায় একই চিত্র দেখা গেছে।
পাম্পে তেল নিতে আসা মোটরসাইকেল চালকরা জানান, এক ঘণ্টার বেশি লাইনে দাঁড়িয়ে থাকার পর তারা তেল নিতে পারছেন। তবে তা সীমিত পরিমাণে। দুই লিটার তেল দেওয়া হচ্ছে।
শহরের আখের মামুদ বাজার এলাকার বাইকার আব্দুর রাজ্জাক জানান, গত দুই দিন পাম্পে অনেক ভিড় দেখে তিনি তেল নেননি। ভেবেছিলেন কয়েক দিন পর চাপ কমলে তখন নেবেন। কিন্তু এখন শুনছেন অনেক পাম্পে তেল নেই। তাই বাধ্য হয়ে দীর্ঘ লাইনে দাঁড়িয়ে তেল নিলেন।
শহরের মমিন ফিলিং স্টেশন সার্ভিসেও একই চিত্র দেখা গেছে। এখানে তেল নিতে আসা কামারের চর এলাকার বাসিন্দা মোস্তাক মিয়া জানান, গত শুক্রবার রাতে দেড় ঘণ্টা অপেক্ষা করেও তিনি পেট্রোল পাননি। রোববার সকালে আবার লাইনে দাঁড়িয়ে দীর্ঘক্ষণ অপেক্ষার পর মাত্র দুই লিটার তেল পেয়েছেন।
দুটি পাম্পে তেল নিতে আসা একাধিক বাইকার বলেন, বয়ড়াপরানপুর বাবর ফিলিংস স্টেশন ও পৌরপার্ক ফিলিংস স্টেশন (তেল পাম্প) রাত থেকে তেল না থাকায় সরবরাহ বন্ধ রেখেছে। এ কারণে এই দুই পাম্পে চাপ বেড়েছে। এতে সবচেয়ে বেশি ভোগান্তিতে পড়ছেন মোটরসাইকেল চালকরা।
মেসার্স হক ফিলিং স্টেশনের কর্মচারী আব্দুল ওয়াদুদ চেয়ারম্যান জানান, আমরা লাইনের থাকা প্রত্যেককেই সুশৃঙ্খলভাবে তেল দিচ্ছি। আমাদের এখানে কোনো প্রকার ঝামেলা হয়নি।
শেরপুর চেম্বার অব কমার্সের সভাপতি আলহাজ্ব আরিফ হাসান বলেন, জ্বালানি তেলের ব্যপারে জেলা প্রশাসন নীতিমালা দিয়েছেন। সেই নীতিমালা অনুযায়ী তেল নিলে তেমন একটা সমস্যা হবে না। তবে কেউ যেনো অতিরিক্ত সরবাহ না করে এবং পার্শ্ববর্তী দেশে পাচার না করে সেদিকে আমাদের সবার দৃষ্টি রাখতে হবে।
জেলা প্রশাসক ও জেলা ম্যাজিস্ট্রেট তরফদার মাহমুদুর রহমান জ্বালানি পণ্যের সরবরাহ নিরবচ্ছিন্ন রাখা ও জ্বালানি তেলের পাচার প্রতিরোধে পাম্প মালিক, সরবরাহকারী, ব্যবসায়ী, পুলিশ ও জেলা প্রশাসনের অংশগ্রহণে এক মতবিনিময় সভায় বৈশ্বিক প্রেক্ষাপটে সৃষ্ট সাময়িক জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় সমন্বিত উদ্যোগের ওপর গুরুত্বারোপ করেন। তিনি জ্বালানি তেল বিক্রয়ে স্বচ্ছতা নিশ্চিতকরণ, অবৈধ সরবরাহকারীদের বিরুদ্ধে মোবাইল কোর্ট পরিচালনা ও জনসচেতনতা বৃদ্ধিতে মাইকিংয়ের মাধ্যমে সরকার কতৃক জারিকৃত অবশ্যপালনীয় নির্দেশনা প্রচারের জন্য প্রদান করেন।
এদিকে জ্বালানি তেল বিক্রয়ে স্বচ্ছতা নিশ্চিতকরণে শেরপুর-১ আসনের সংসদ সদস্য রাশেদুল ইসলাম বিভিন্ন পাম্প পরিদর্শন করছেন এবং এসব বিষয়ে তদারকি করছেন। তিনি বলেন, তেলের মজুত রয়েছে। সুষ্ঠু বন্টন হলে আরও কয়েকদিন তেল সরবরাহ করা যাবে। আতঙ্কিত হওয়ার কিছু নেই।
আরএ