দেশ টেলিভিশন লিমিটেড, কর্ণফুলী মিডিয়া পয়েন্ট, ৪২, শহীদ সাংবাদিক সেলিনা পারভীন সড়ক, মালিবাগ, ঢাকা-১২১৭, বাংলাদেশ।
টেলিফোন: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৫৮, ৮৩৩২৯২২ ফ্যাক্স: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৮১ মেইল: [email protected]

তুরস্কে এক মর্মান্তিক দুর্ঘটনায় ব্রাহ্মণবাড়িয়ার প্রবাসী বাবা-ছেলের মৃত্যু হয়েছে।
বুধবার সকালে তাদের শয়নকক্ষ থেকে মরদেহ উদ্ধার করে প্রতিষ্ঠান কর্তৃপক্ষ। এ ঘটনায় আরও একজন আহত হয়েছে।
নিহতরা হলেন- ব্রাহ্মণবাড়িয়া পৌর এলাকা মেড্ডা গ্রামের মৃত ইয়াকুব মিয়ার ছেলে তারেক মিয়া (৪৫) ও তার একমাত্র ছেলে সাব্বির (২২)।
এছাড়া আহত সাব্বিরের চাচাতো ভাই লিটন মিয়া (২৬) হাসপাতালে ভর্তি আছেন। এ ঘটনায় ফেনী জেলার এক যুবকও মারা গেছেন বলে জানা গেছে। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে খাদ্যে বিষক্রিয়া থেকে তাদের মৃত্যু হয়েছে।
পরিবারের সদস্যরা জানান, দীর্ঘ প্রায় ১৬ বছর আগে জীবিকার সন্ধানে তুরস্কে পাড়ি জমান তারেক মিয়া। সেখানে কুর্দিস্তান আরবিল নামক এলাকায় একটি প্লাস্টিক কোম্পানিতে তিনি কাজ করতেন। প্রথম স্ত্রী মারা যাওয়ায় পর চার বছর আগে প্রবাসে থাকাবস্থায় ভিডিও কলে পারভীন আক্তারকে দ্বিতীয় বিয়ে করেন। পরে দুই বছর আগে তিনি একমাত্র ছেলে সাব্বিরকে তুরস্কে নিয়ে যান। নিহত সাব্বিরের স্ত্রী ও এক বছর বয়সের একটি সন্তান রয়েছে। গত মঙ্গলবার রাতে কোম্পানিতে কাজ শেষে বাবা-ছেলে দুইজনসহ ৫ জন রাতের খাবার খেয়ে নিজেদের শয়নকক্ষে ঘুমিয়ে পড়েন। এরপর আর তাদের সাড়াশব্দ পাওয়া যাচ্ছিল না। বুধবার সকালে ওই প্রতিষ্ঠান কর্তৃপক্ষ তাদেরকে অচেতন অবস্থায় উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে যান। পরে সেখানে চিকিৎসক তাদের মৃত ঘোষণা করেন।
প্রবাসে থাকা তারেক মিয়ার সহকর্মীদের বরাত দিয়ে পরিবারর সদস্যরা আরও জানান, তুর্কি পুলিশ প্রাথমিকভাবে ধারণা করছে খাদ্যে বিষক্রিয়া থেকে তাদের মৃত্যু হয়েছে। সেখানকার একটি হাসপাতালে তাদের মরদেহের ময়নাতদন্ত করা হয়েছে।
এদিকে একসঙ্গে বাবা-ছেলের মৃত্যুতে পরিবারজুড়ে শোকের ছায়া নেমে এসেছে। খবরটি ছড়িয়ে পড়লে তাদের আত্মীয় স্বজনরা শোকার্ত পরিবারের বাড়িতে গিয়ে সান্ত্বনা দিচ্ছেন। মরদেহগুলো দ্রুত দেশে ফিরিয়ে আনতে সরকারের সহযোগিতা চেয়েছেন তারা।
মৃত তারেক মিয়ার দ্বিতীয় স্ত্রী পারভীন আক্তার বলেন, আমার বাবা ভাই কেউই বেঁচে নেই। এখন আমার স্বামী সন্তানও মারা গেছে। আমি একদম নিঃশ্ব হয়ে গেছি। আমার ছেলের ১ বছরের একটি ছেলে সন্তান রয়েছে। তার ভবিষ্যৎ কি হবে। আমার স্বামীর প্রথম স্ত্রী মারা যাওয়ার পর আমার সঙ্গে তার মোবাইলে বিয়ে হয়েছে। আমি তাকে এখনও সরাসরি দেখিনি। আমার সরকারের কাছে একটাই দাবি আমার স্বামী সন্তানের লাশগুলো যেন দেশে আনার ব্যবস্থা করে দেন। আমি তাদের একটিবার নিজ চোখে দেখতে চাই।
আরএ