দেশ টেলিভিশন লিমিটেড, কর্ণফুলী মিডিয়া পয়েন্ট, ৪২, শহীদ সাংবাদিক সেলিনা পারভীন সড়ক, মালিবাগ, ঢাকা-১২১৭, বাংলাদেশ।
টেলিফোন: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৫৮, ৮৩৩২৯২২ ফ্যাক্স: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৮১ মেইল: [email protected]

নওগাঁর বদলগাছী উপজেলায় নিলাম বা টেন্ডার প্রক্রিয়া যথাযথভাবে সম্পন্ন না করেই তিনটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের পুরোনো মালামাল বিক্রির অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় সংশ্লিষ্ট বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক ও উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তার বিরুদ্ধে অনিয়মের অভিযোগ তুলেছেন স্থানীয়রা। তাদের দাবি, বাজারদরের চেয়ে কম মূল্যে মালামাল বিক্রি করে সরকারের আর্থিক ক্ষতি করা হয়েছে।
উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিস সূত্রে জানা যায়, ১৫ ফেব্রুয়ারি ছয়টি বিদ্যালয়ের অব্যবহৃত মালামাল খোলা ডাকে নিলামের জন্য নোটিশ দেওয়া হয়। ১৯ ফেব্রুয়ারি সকাল সাড়ে ১১টায় উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তার সভাকক্ষে নিলাম অনুষ্ঠিত হয়। এতে ছয়টি প্রতিষ্ঠানের লোহা/অ্যাংগেল, পুরোনো টিন, ফ্যান ও পিয়ানো বিক্রি সম্পন্ন হয়।
তবে অভিযোগ রয়েছে, একই দিনে জোলাপাড়া, বালুপাড়া ও ভান্ডারপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের মালামাল টেন্ডার ছাড়াই বিক্রির অনুমতি দেওয়া হয়। নথি অনুযায়ী, তিন প্রতিষ্ঠানের লোহা/অ্যাংগেল ২৩৭ কেজি, টিন ১৮৫ কেজি এবং শিটের বেঞ্চ, পিয়ানো, ফ্যান ও পায়া মিলিয়ে আরও ২১২ কেজি মালামাল বিক্রির প্রক্রিয়া নিলাম ছাড়া সম্পন্ন হয়।
অভিযোগে বলা হয়, নিলামে শামীম হোসেন নামে এক ব্যবসায়ী ছয়টি বিদ্যালয়ের মালামাল কেনার অনুমতি পেলেও একই দিনে ওই তিন বিদ্যালয়ের মালামালও তার কাছে বিক্রির অনুমোদন দেওয়া হয়।
১৯ ফেব্রুয়ারি জোলাপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় থেকে টেবিলের সিটের পায়া (৭০ কেজি), পুরোনো টিন (৬০ কেজি) ও অ্যাংগেল (৪০ কেজি) বিক্রি করা হয়। ২৪ ফেব্রুয়ারি ভান্ডারপুর বিদ্যালয় থেকে লোহা/অ্যাংগেল (৩০ কেজি), ফ্যান (৩৮ কেজি), পিয়ানো (২৪ কেজি) ও জানালা (২৫ কেজি) বিক্রি হয়। ৩ মার্চ বালুপাড়া বিদ্যালয় থেকে লোহা/অ্যাংগেল (৬৭ কেজি), শিটের বেঞ্চ (১৬৭ কেজি) ও টিন (১২৫ কেজি) সরিয়ে নেওয়ার সময় স্থানীয়দের বাধার মুখে তা বন্ধ হয়ে যায়।
স্থানীয়দের অভিযোগ, লোহা/অ্যাংগেল ৩৬ টাকা ১০ পয়সা কেজি, পুরোনো টিন ৩০ টাকা, জিআই পাইপ ৩৬ টাকা, শিটের বেঞ্চ ৩০ টাকা এবং কাঠের বেঞ্চ ১০০ টাকা কেজি দরে বিক্রি করা হয়েছে যা বর্তমান বাজারদরের তুলনায় অনেক কম।
স্থানীয় বাসিন্দা মেহেদী হাসান, সাকিব ও বিপ্লব বলেন, “তিনটি বিদ্যালয়ে প্রায় ২০০টির বেশি স্টিলের বেঞ্চ ছিল। নিলামের আগেই সেগুলোর অনেকাংশ সরিয়ে ফেলা হয়েছে। অবৈধভাবে মালামাল বিক্রি করা হয়েছে। আমরা দোষীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা চাই।”
বালুপাড়া বিদ্যালয়ের ম্যানেজিং কমিটির সদস্য মাহবুব হোসেন মাহাবুল বলেন, সরকারি নিয়ম অনুযায়ী টেন্ডার ছাড়া স্কুলের মালামাল বিক্রি করা যায় না। “আমরা কিছুই জানতাম না। হঠাৎ দেখি মালামাল নিয়ে যাওয়া হচ্ছে। এটি পুরোপুরি অনিয়ম।”
ভান্ডারপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক তহমিনা দাবি করেন, উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তার অনুমতি নিয়েই মালামাল বিক্রি করা হয়েছে। “টিও স্যার উপস্থিত ছিলেন। আমি কিছু করিনি, যা করার তিনি করেছেন।” তবে বিক্রির লিখিত কাগজপত্র দেখাতে পারেননি তিনি।
জোলাপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক সাইফুল ইসলাম বলেন, ১৫ তারিখের টেন্ডার বিষয়ে জানতে পারি। ১৬ তারিখে রেজুলেশন করে শিক্ষা কর্মকর্তার কার্যালয়ে জমা দিই। এর বাইরে কিছু জানা নেই।
বালুপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকের সঙ্গে মুঠোফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তার বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
মালামাল ক্রয়কারী ব্যবসায়ী শামীম হোসেন বলেন, আমি টেন্ডারের মাধ্যমেই মালামাল কিনেছি। এর বেশি কিছু জানি না।
উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা আমিরুল ইসলাম বলেন, ১৫ ফেব্রুয়ারি ছয়টি বিদ্যালয়ের জন্য উন্মুক্ত টেন্ডারের নোটিশ দেওয়া হয় এবং ১৯ ফেব্রুয়ারি নিলাম সম্পন্ন হয়। তবে তিনটি প্রতিষ্ঠানের বিষয়ে স্থানীয়দের অবহিত করা হয়নি। “এটি আমাদের ভুল হয়েছে,” স্বীকার করেন তিনি।
নিলাম কমিটির সভাপতি ও ইউএনও ইসরাত জাহান ছনি বলেন, টেন্ডারের দিন তিনি উপস্থিত ছিলেন না এবং বিষয়টি তার জানা নেই। অভিযোগ পেলে তদন্ত করে ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানান তিনি।
নওগাঁ জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা সানাউল হাবিব বিদ্যুৎ বলেন, বিষয়টি তার জানা নেই এবং কোনো অনুলিপিও তিনি পাননি। সরকারি মালামাল টেন্ডার ছাড়া বিক্রি করা যাবে না। অভিযোগ পেলে তদন্ত সাপেক্ষে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
স্থানীয়দের প্রশ্ন, যদি ছয়টি বিদ্যালয়ের জন্য উন্মুক্ত নিলাম ডাকা হয়ে থাকে, তাহলে তিনটি বিদ্যালয়ের ক্ষেত্রে কেন একই প্রক্রিয়া অনুসরণ করা হয়নি। কেন স্থানীয় অভিভাবক ও ব্যবস্থাপনা কমিটিকে জানানো হয়নি। আর বাজারদরের চেয়ে কম দামে বিক্রির অভিযোগের দায়ই বা নেবে কে।
ঘটনাকে কেন্দ্র করে এলাকায় চরম অসন্তোষ বিরাজ করছে। স্থানীয়রা দ্রুত তদন্ত ও জড়িতদের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা দাবি করেছেন।
জে আই