দেশ টেলিভিশন লিমিটেড, কর্ণফুলী মিডিয়া পয়েন্ট, ৪২, শহীদ সাংবাদিক সেলিনা পারভীন সড়ক, মালিবাগ, ঢাকা-১২১৭, বাংলাদেশ।
টেলিফোন: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৫৮, ৮৩৩২৯২২ ফ্যাক্স: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৮১ মেইল: [email protected]

সিলেটের ওসমানীনগরে চুরির গরু জবাই করে যুক্তরাজ্য প্রবাসী এক বিএনপি নেতার বাড়িতে ইফতার পার্টির আয়োজনের অভিযোগ উঠেছে। পরে গ্রাম্য সালিশের মাধ্যমে গরুর মালিককে ৭০ হাজার টাকা দিয়ে বিষয়টি আপসে মীমাংসা করা হয়েছে। ঘটনাটি এলাকায় ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে।
জানা গেছে, ৫ রমজান বেলা ৩টার দিকে উপজেলার পশ্চিম পৈলনপুর ইউনিয়নের গলমুকাপন মাদরাসার পূর্বের মাঠ থেকে একই গ্রামের নাজমুল ইসলামের একটি ষাঁড় গরু চুরি হয়। অভিযোগ রয়েছে, পার্শ্ববর্তী বাড়ির কেয়ারটেকার সাঈদি নাজমুলকে ভুল তথ্য দিয়ে বিভিন্ন স্থানে গরুর খোঁজে পাঠান।
সেদিন রাত ৮টার দিকে যুক্তরাজ্য প্রবাসী বিএনপি নেতা মধু মিয়ার বাড়িতে কসাই দিয়ে গরুটি জবাই করা হয় এবং সারারাত রান্না শেষে ৬ রমজান বিকালে ইফতার পার্টিতে পরিবেশন করা হয়। ইফতারে এলাকার প্রায় সহস্রাধিক মানুষ অংশ নেন।
গরুর মালিক নাজমুল ইসলাম জানান, ইফতারে গিয়ে জবাইকৃত গরুর দড়ি দেখে তিনি নিজের গরু চিনতে পারেন। বিষয়টি স্থানীয়দের জানালে বাড়ির সিসিটিভি ফুটেজ যাচাই করে উপস্থিত গণ্যমান্য ব্যক্তিরা নিশ্চিত হন যে গরুটি নাজমুলেরই ছিল।
৮ রমজান রাত ১১টার দিকে গ্রাম্য মুরব্বিদের মধ্যস্থতায় বৈঠক বসে। সেখানে নাজমুল ইসলামকে ৭০ হাজার টাকা প্রদান করে বিষয়টি আপসে নিষ্পত্তি করা হয়। একই সঙ্গে অভিযুক্ত কেয়ারটেকার সাঈদিকে চাকরি থেকে অব্যাহতি দিয়ে পরিবারের জিম্মায় দেওয়া হয়েছে বলে জানা গেছে।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে উপজেলা বিএনপির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক কয়েছ আহমদ চৌধুরী ও পশ্চিম পৈলনপুর ইউনিয়ন যুবদলের সদস্য হুসাইন আহমদ বলেন, বিষয়টি সমাধান হয়েছে। এ নিয়ে কোনো মন্তব্য করবেন না বলেও জানান তারা।
গরুর মালিক নাজমুল ইসলাম বলেন, ‘আমি তাদের বাড়িতে ইফতারে গিয়ে আমার গরুর দড়ি দেখে চিনতে পারি। পরে সিসিটিভি দেখে নিশ্চিত হওয়া যায়। সালিশে আমাকে ৭০ হাজার টাকা দেওয়া হয়েছে।’
ওসমানীনগর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মুরশেদুল আলম ভূঁইয়া বলেন, ‘এ বিষয়ে এখনো কোনো লিখিত অভিযোগ পাইনি। অভিযোগ পেলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’
অভিযুক্ত কেয়ারটেকার সাঈদির মোবাইল ফোন বন্ধ পাওয়া গেছে। প্রবাসী আহমদ মধুও সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলতে রাজি হননি। ঘটনাটি স্থানীয়ভাবে এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক আলোচনা সৃষ্টি করেছে।
এমএস/