দেশ টেলিভিশন লিমিটেড, কর্ণফুলী মিডিয়া পয়েন্ট, ৪২, শহীদ সাংবাদিক সেলিনা পারভীন সড়ক, মালিবাগ, ঢাকা-১২১৭, বাংলাদেশ।
টেলিফোন: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৫৮, ৮৩৩২৯২২ ফ্যাক্স: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৮১ মেইল: [email protected]

লক্ষ্মীপুর সদর উপজেলা ভূমি অফিসের প্রধান সহকারী কাম হিসাবরক্ষক ফজলুল হক ফজলুর বিরুদ্ধে নামজারি আবেদনে অতিরিক্ত টাকা দাবির অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগ পাওয়া গেছে, তিনি অতিরিক্ত টাকা না দিলে নামজারি প্রক্রিয়া সম্পন্ন করেননি। এ বিষয়ে ইসমাইল হোসেন রাশেদ নামে এক দলিল লেখক জেলা প্রশাসকের কাছে লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন।
২৪ ফেব্রুয়ারি জেলা প্রশাসকের কাছে দায়ের করা অভিযোগে রাশেদ উল্লেখ করেন, ২০২৫ সালের ১১ ডিসেম্বর তার শাশুড়ি রত্না বেগমের নামে একটি নামজারি আবেদন (নথি নং-১৫৭১৪/২৫-২৬) জমা দেন। আবেদনটি তহসিলদার ও সার্ভেয়ার অনুমোদনের পর ভূমি অফিসের প্রধান সহকারী কাম হিসাবরক্ষক ফজলুল হকের টেবিলে যায়। অভিযোগ রয়েছে, ফজলু রাশেদের কাছ থেকে ৫ হাজার টাকা এবং মূল দলিল দাবি করেন। রাশেদ মূল দলিল দিলেও টাকা না দেওয়ায় নামজারি অনুমোদন করা হয়নি।
এর আগে ২০২৪ সালের ১৮ ফেব্রুয়ারি রাশেদ নিজের জমির নামজারি (নথি নং-১৭৮৩৪/২৩-২৪) করার জন্য আবেদন করেন। তখনও ফজলু ১০ হাজার টাকা দাবি করেন। টাকা না দেওয়ায় ফজলু অনলাইনে নামজারি বাতিল করেন।
স্থানীয় সূত্র জানায়, ফজলু এবং রাশেদের মধ্যে পূর্বের নামজারি প্রক্রিয়া নিয়ে সম্পর্ক ছিল। প্রায়ই রাশেদ অতিরিক্ত টাকা দিয়ে অন্যদের নামজারি করাতেন। ২০২৪ সালের ১৩ মার্চ ওই সময়ে সদর উপজেলা সহকারি কমিশনার (ভূমি) মকবুল হোসেন রাশেদকে ভূমি অফিসে অন্যের নামে দালালির কারণে আটক করেন।
ভুক্তভোগীদের মতে, সরকারি ফি ১১০০ টাকা হলেও ভূমি অফিসের অনৈতিক কর্মচারীরা প্রতিটি নামজারির জন্য ৫ থেকে ১০ হাজার টাকা দাবি করেন। বাঞ্চানগর এলাকার বাসিন্দা বেলাল হোসেন জানান, তিনি নামজারি প্রক্রিয়ার জন্য ফজলু থেকে সাড়ে ৬ হাজার টাকা দিয়েছেন।
রত্না বেগম বলেন, জমি খারিজ করতে সমস্যায় পড়েছেন। তিনি জানান, ফজলু নামজারি প্রক্রিয়া সম্পন্ন করছেন না এবং অতিরিক্ত টাকা দাবি করছেন।
সদর উপজেলা সহকারি কমিশনার (ভূমি) অভি দাশ বলেন, অফিসে কেউ টাকা চাইলে তা আমাকে জানাতে হবে। অভিযোগ পেলে তা তদন্ত করা হবে এবং প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। তিনি আরও জানান, অফিসে প্রতিটি কক্ষে সিসি ক্যামেরা ও সাউন্ড রেকর্ড রয়েছে। দালালির কারণে ফজলু আগের কর্মকর্তা কর্তৃক আটক হয়েছিল এবং মুচলেকা দিয়ে ছাড়া পায়। এখন ঘটনার তদন্ত করা হবে।
এমএস/