দেশ টেলিভিশন লিমিটেড, কর্ণফুলী মিডিয়া পয়েন্ট, ৪২, শহীদ সাংবাদিক সেলিনা পারভীন সড়ক, মালিবাগ, ঢাকা-১২১৭, বাংলাদেশ।
টেলিফোন: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৫৮, ৮৩৩২৯২২ ফ্যাক্স: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৮১ মেইল: [email protected]

সাতক্ষীরার এক অসহায় বিধবা নারী ভিক্ষা ও অন্যের বাড়িতে কাজ করে জমানো শেষ সম্বলটুকুও হারিয়ে দিশেহারা হয়ে পড়েছেন। মোটা লাভের প্রলোভন দেখিয়ে তাঁর দীর্ঘদিনের সঞ্চয় আত্মসাতের অভিযোগ উঠেছে ‘রুপা এনজিও’ নামে একটি সমবায় সমিতির বিরুদ্ধে। টাকা ফেরত চাইতে গেলে টালবাহানা ও হুমকির মুখে পড়তে হচ্ছে বৃদ্ধাকে।
মঙ্গলবার (১৭ ফেব্রুয়ারি) সাতক্ষীরা সদর উপজেলার মধুমাল্লারডাঙ্গী গ্রামের মৃত সুলতান মিস্ত্রির স্ত্রী মোছা. ছখিনা খাতুন (৭০) সদর থানায় লিখিত অভিযোগ করেন। তিনি মনিরুল ইসলাম (৬০) ও সোমা খাতুন (৪০)-এর বিরুদ্ধে প্রতারণা ও অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ আনেন।
প্রতিবাদ সূত্রে জানা যায়, প্রায় ২৫ বছর আগে স্বামী মারা যাওয়ার পর ভিক্ষাবৃত্তি ও অন্যের বাড়িতে কাজ করে জীবিকা নির্বাহ করছিলেন ছখিনা খাতুন। ভবিষ্যতের কথা ভেবে তিনি ৬০ হাজার টাকা সঞ্চয় করেন। আট বছর আগে মনিরুল ইসলাম তাকে ‘রুপা’ সমবায় সমিতিতে টাকা জমা রাখার প্রস্তাব দেন। ছয় বছরে দ্বিগুণ টাকা ফেরত দেওয়ার আশ্বাসে ২০১৭ সালের ২৮ আগস্ট তিনি টাকা জমা দেন।
ছয় বছর পূর্ণ হওয়ার পর টাকা ফেরত চাইলে গত তিন বছর ধরে শুধু ‘দিচ্ছি, দেব’ বলে সময়ক্ষেপণ করা হচ্ছে বলে অভিযোগ করেন ভুক্তভোগী। সমিতির কার্যালয় বন্ধ হয়ে গেছে এবং মনিরুল ইসলাম পালিয়ে গেছেন বলেও দাবি স্থানীয়দের।
ছখিনা খাতুন আরও অভিযোগ করেন, চলতি বছরের ১৫ ফেব্রুয়ারি সোমা খাতুনের সাতক্ষীরার বাসায় গিয়ে পাওনা টাকা চাইলে তাকে গালিগালাজ ও হুমকি দেওয়া হয়। বৃদ্ধ ও অসহায় হওয়ায় বর্তমানে তিনি মানবেতর জীবনযাপন করছেন। স্থানীয় দুজন সাক্ষীর নামও তিনি দিয়েছেন।
স্থানীয়রা জানান, ‘রুপা এনজিও’ দীর্ঘদিন জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে আমানত সংগ্রহ করে আসছিল। কালীগঞ্জ উপজেলার ফতেপুর, বিষ্ণুপুর ও নলতা এলাকায় তাদের একাধিক কার্যালয় ছিল, যা বর্তমানে তালাবদ্ধ। ভুক্তভোগীদের দাবি, দীর্ঘ ১৫ বছরে কোটি কোটি টাকা সংগ্রহ করে সংশ্লিষ্টরা গা ঢাকা দিয়েছেন।
আরেক ভুক্তভোগী জাহানারা খাতুন বলেন, এনজিও কর্মী সোমা খাতুনের কথায় বিশ্বাস করে তিনি টাকা জমা দিয়েছিলেন। এখন চিকিৎসার খরচ জোগাতে না পেরে চরম কষ্টে দিন কাটছে।
অভিযুক্ত মনিরুল ইসলাম দাবি করেন, সরকার পরিবর্তন ও নির্বাচনের কারণে কিছু সমস্যা হয়েছে। তহবিল পেলে পর্যায়ক্রমে গ্রাহকদের টাকা পরিশোধ করা হবে।
জেলা সমবায় অফিসের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. রফিকুল ইসলাম জানান, ‘রুপা এনজিও’-র কোনো অনুমোদন নেই। অনুমোদন ছাড়া পরিচালিত হলে সেটি সম্পূর্ণ ভুয়া।
সাতক্ষীরা সদর থানার পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) শফিকুল ইসলাম বলেন, অভিযোগটি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
এমএস/