দেশ টেলিভিশন লিমিটেড, কর্ণফুলী মিডিয়া পয়েন্ট, ৪২, শহীদ সাংবাদিক সেলিনা পারভীন সড়ক, মালিবাগ, ঢাকা-১২১৭, বাংলাদেশ।
টেলিফোন: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৫৮, ৮৩৩২৯২২ ফ্যাক্স: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৮১ মেইল: [email protected]

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে শেরপুর-১ (সদর) আসনে ব্যাপক অনিয়মের অভিযোগ তুলে নির্বাচনের ফলাফল স্থগিত এবং পুনরায় গণনার দাবি জানিয়েছেন বিএনপি প্রার্থী ডা. সানসিলা জেবরিন প্রিয়াঙ্কা। একই সঙ্গে আদালতে যাওয়ার কথা জানিয়েছেন তিনি।
বৃহস্পতিবার (১৯ ফেব্রুয়ারি) ঢাকা রিপোর্টাস ইউনিটির সাগর রুনি মিলনায়তনে সংবাদ সম্মেলনে এ দাবি জানান তিনি।
সানসিলা জেবরিন প্রিয়াঙ্কা ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনে জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী রাশেদুল ইসলামের কাছে অর্ধলক্ষাধিক ভোটের ব্যবধানে হেরে গেছেন।
তার ভাষ্যমতে, ইতিমধ্যে ভোটে নানা অনিয়মের অভিযোগ ও ফল নিয়ে আপত্তির কথা তিনি নির্বাচন কমিশনকে জানিয়েছেন তিনি। এবার নির্ধারিত সময়ের মধ্যেই আদালতে যাবেন। সংবাদ সম্মেলনে প্রিয়াঙ্কা ফলাফলের শিটে প্রিসাইডিং অফিসারের স্বাক্ষর-সিল না থাকা, অনেক ক্ষেত্রে পোলিং এজেন্টদের নাম, স্বাক্ষর ও এনআইডি নম্বর না থাকার কিছু ‘প্রমাণ’ উপস্থাপন করেন।
তিনি অভিযোগ করে বলেন, কোনো কোনো প্রার্থীর পক্ষে দলীয় কর্মীরাই প্রিজাইডিং অফিসার হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। কিছু ক্ষেত্রে প্রিজাইডিং অফিসার নিজেই পোলিং এজেন্টদের নাম ও স্বাক্ষর দিয়েছেন।
সানসিলা বলেন, প্রিজাইডিং অফিসার ও পোলিং এজেন্টের নাম, এনআইডি ও স্বাক্ষরবিহীন ভোট গণনা বিবরণীপত্র কীভাবে শেরপুর জেলা রিটার্নিং অফিসার ও সহকারী রিটার্নিং অফিসার গ্রহণ করল?
নির্বাচনের পর দিন থেকে কয়েকজন পোলিং এজেন্ট অনিয়ম সংক্রান্ত তথ্য ও প্রমাণ উপস্থাপন শুরু করলে তারা হামলার শিকার হন অভিযোগ করে তিনি বলেন, এর ফলে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন। এতে নির্বাচনে অনিয়মের তথ্য প্রকাশ করতে ভয় পেয়ে মুখ খুলছেন না।
তিনি আরও বলেন, অভিযোগগুলো বারবার ডিসি অফিসে জানানোর পরও জেলা প্রশাসক, উপজেলা নির্বাহী অফিসার যথাযথ প্রতিকারের ব্যবস্থা নেননি। জেলা প্রশাসক সক্রিয় কুষ্টিয়া ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ে জামায়াত-শিবিরের রাজনীতি করতেন, এসিল্যান্ড অনৈতিক সুবিধা নিয়ে জামায়াত ও স্বতন্ত্র প্রার্থীর কাজ করেছেন।
যে এলাকায় বিএনপির ভোটার বেশি, সেসব এলাকার কেন্দ্রে ভোটারদের ঘণ্টার পর ঘণ্টা লাইনে দাঁড় করিয়ে রেখে ধীর গতিতে ভোট কাস্ট করা হয় অভিযোগ করে প্রিয়াঙ্কা বলেন, হট্টগোল করে ধানের শীষের কর্মীদের সঙ্গে সংঘর্ষে লিপ্ত হয়ে নির্বাচন বানচালের চেষ্টা করা হয়েছে। জামায়াত সমর্থিত এলাকায় ইচ্ছামতো জাল ভোট দেওয়া হয়েছে। বিএনপির মতো একটি বড় রাজনৈতিক দল হওয়া সত্ত্বেও আমি একটি কেন্দ্রে ৭টি ভোট, আরেকটি কেন্দ্রে ২৭টি ভোট, ৩৯টি ভোট, ৪৯টি ভোট, ৯৬টি ভোট পাই, যা কোনোভাবে বিশ্বাসযোগ্য নয়।
এসব অভিযোগের বিষয়ে তার দল জানে কি না কিংবা বিএনপি থেকে কী বলা হয়েছে প্রশ্নের উত্তরে প্রিয়াঙ্কা বলেন, আসলে নির্বাচনের সময় সবাই অনেক ব্যস্ত থাকে। প্রত্যেকটা আসনেই যে যার যার মতো ব্যস্ত ছিল, দল সবকিছুতে অবগত আছে। আমার দল অবশ্যই এ ব্যাপারে পরবর্তী ব্যবস্থা নেবে। সংবাদ সম্মেলন শেষে কিছু ভিডিও ডকুমেন্টারি দেখান ডা. প্রিয়াঙ্কা।
উল্লেখ্য, ১৩ ফেব্রুয়ারি প্রকাশিত বেসরকারি ফলাফল অনুযায়ী এ আসনে জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী হাফেজ মো. রাশেদুল ইসলাম ১ লাখ ২৭ হাজার ৮১১ ভোট পেয়ে বিজয়ী হন এবং বিএনপি মনোনীত প্রার্থী ডা. সানসিলা জেবরিন প্রিয়াঙ্কা ৭৮ হাজার ৩৪২ ভোট পেয়ে দ্বিতীয় অবস্থানে রয়েছেন।
তবে বিএনপির প্রার্খী প্রিয়াঙ্কা এ ফলাফল মেনে না নিয়ে নির্বাচন কমিশনের কাছে ফলাফল স্থগিত রেখে সংশ্লিষ্ট কেন্দ্রগুলোতে পুনরায় ভোটগ্রহণের আহ্বান জানিয়েছেন।
এবি/