দেশ টেলিভিশন লিমিটেড, কর্ণফুলী মিডিয়া পয়েন্ট, ৪২, শহীদ সাংবাদিক সেলিনা পারভীন সড়ক, মালিবাগ, ঢাকা-১২১৭, বাংলাদেশ।
টেলিফোন: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৫৮, ৮৩৩২৯২২ ফ্যাক্স: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৮১ মেইল: [email protected]

ময়মনসিংহ জেলার গৌরীপুর উপজেলায় দলীয় কোন্দল ও নির্বাচন-পরবর্তী বিরোধের জেরে বিএনপির এক কর্মীর মাথা ন্যাড়া করে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় থানায় মামলা হয়েছে।
ভুক্তভোগী আবদুল মান্নান তালুকদার বুধবার রাতে গৌরীপুর থানায় মামলা করেন। মামলায় পৌর কৃষক দলের সভাপতি শাহী মুন্সীসহ অজ্ঞাতনামা আরও ৬-৭ জনকে আসামি করা হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (১৯ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে ময়মনসিংহ নগরীর টাউন হলে সংবাদ সম্মেলনে আবদুল মান্নান বিচার দাবি করেন।
মামলার এজাহার ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, বুধবার দুপুর ২টার দিকে আবদুল মান্নান অটোরিকশায় গৌরীপুর থেকে ময়মনসিংহ যাচ্ছিলেন। গৌরীপুর নতুন বাসস্ট্যান্ড সংলগ্ন রেলক্রসিং এলাকায় পৌঁছালে সিএনজিচালিত অটোরিকশার গতিরোধ করা হয়।
অভিযোগে বলা হয়, প্রধান আসামি শাহী মুন্সী তাকে অটোরিকশা থেকে টেনে নামিয়ে মারধর করেন। পরে তাকে একটি সেলুনে নিয়ে গিয়ে মাথার চুল ও চোখের ভ্রু ব্লেড দিয়ে কেটে ন্যাড়া করে দেওয়া হয়। এরপর পথচারীদের ডেকে এনে তাকে প্রকাশ্যে অপদস্থ করা হয়।
সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে স্বতন্ত্র প্রার্থী আহাম্মদ তায়েবুর রহমান হিরণ বলেন, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে তিনি ‘ঘোড়া’ প্রতীক নিয়ে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে অল্প ভোটে পরাজিত হন। এরপর থেকে ‘ধানের শীষ’ প্রতীকের প্রার্থীর সমর্থকরা তার কর্মী-সমর্থকদের বাড়িতে হামলা ও ভাঙচুর চালাচ্ছেন বলে অভিযোগ করেন তিনি।
আবদুল মান্নান দাবি করেন, তিনি স্বতন্ত্র প্রার্থী হিরণের পক্ষে কাজ করায় এ ঘটনার শিকার হয়েছেন। ১৭ বছর ফ্যাসিস্টের বিরুদ্ধে আন্দোলন করেছি, জেল খেটেছি। কিন্তু আজ নিজ দলের নেতাকর্মীদের হাতেই এমন উপহার পেলাম।
তবে অভিযোগ অস্বীকার করে শাহী মুন্সী বলেন, নির্বাচনের পর বিজয় মিছিলকে কেন্দ্র করে পরাজিত প্রার্থীর পক্ষ থেকে সাজানো নাটক তৈরি করা হয়েছে। এ ধরনের কোনো ঘটনা ঘটেনি। সঠিক তদন্ত হলে সত্যতা মিলবে না দাবি করেন তিনি।
গৌরীপুর, নান্দাইল ও ঈশ্বরগঞ্জ সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার দেবাশীষ কর্মকার বলেন, প্রাথমিকভাবে ঘটনার সত্যতা পাওয়ায় অভিযোগটি মামলা হিসেবে নথিভুক্ত করা হয়েছে। তদন্ত শেষে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক হাবিবুল ইসলাম খান শহীদ ঘটনাটিকে দুঃখজনক উল্লেখ করে বলেন, শাহী মুন্সী তার সংশ্লিষ্টতার কথা অস্বীকার করেছেন। দলের কেউ জড়িত থাকলে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
ময়মনসিংহ জেলা কৃষক দলের সভাপতি আবুল বাশার আকন্দ বলেন, বিষয়টি কেন্দ্রীয় কমিটিকে জানানো হয়েছে। সত্যতা প্রমাণিত হলে দ্রুত সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
জে আই