দেশ টেলিভিশন লিমিটেড, কর্ণফুলী মিডিয়া পয়েন্ট, ৪২, শহীদ সাংবাদিক সেলিনা পারভীন সড়ক, মালিবাগ, ঢাকা-১২১৭, বাংলাদেশ।
টেলিফোন: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৫৮, ৮৩৩২৯২২ ফ্যাক্স: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৮১ মেইল: [email protected]

শেরপুরে বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক-এর একটি শাখায় কর্মরত এক অস্থায়ী নৈশপ্রহরীর ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ।
নিহত ব্যক্তির নাম সৈয়দ হুমায়ূন কবির বাবু (৬৪)। তিনি শেরপুর সদর উপজেলার বাজিতখিলা ইউনিয়নের সুলতানপুর মধ্যপাড়া এলাকার বাসিন্দা এবং দুই ছেলে ও এক মেয়ের জনক।
রোববার (১৫ ফেব্রুয়ারি) সকালে বাড়ির পাশের একটি গাছে রশিতে ঝুলন্ত অবস্থায় তার মরদেহ দেখতে পান স্থানীয়রা। পরে তারা পুলিশে খবর দিলে ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ।
পুলিশ জানায়, মরদেহ উদ্ধারের সময় হুমায়ূন কবিরের পরনের জ্যাকেটের পকেট থেকে কয়েকটি চিরকুট পাওয়া যায়। একটি চিরকুটে লেখা ছিল, তুমি মাফ করে দিও, আমি টাকা পাঠাতে পারলাম না।
অন্য একটি চিরকুটে পারিবারিক দেনার কথা উল্লেখ ছিল। সেখানে এক ছেলের রিহ্যাবিলিটেশন সেন্টারে চিকিৎসা বাবদ ১৭ হাজার টাকা বকেয়া থাকার কথাও লেখা ছিল। পরিবারের সদস্যরা জানান, তার মেয়ে ওই বকেয়ার কিছু অংশ পরিশোধ করেছেন।
হুমায়ূন কবির বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক–এর শেরপুর সদর উপজেলার বাজিতখিলা শাখায় অস্থায়ী নৈশপ্রহরী হিসেবে কর্মরত ছিলেন। এর আগে তিনি একই ব্যাংকের নিয়মিত নৈশপ্রহরী ছিলেন এবং কয়েক বছর আগে অবসর নেন। পরে তাকে আবার অস্থায়ীভাবে দায়িত্ব দেওয়া হয়।
ব্যাংকের শেরপুর আঞ্চলিক শাখার উপমহাব্যবস্থাপক (এজিএম) আনন্দ মোহন গোপ বলেন, রোস্টার অনুযায়ী শনিবার রাতে হুমায়ূন কবিরের ডিউটি ছিল। রোববার সকালে তার মৃত্যুর খবর পেয়ে তারা ঘটনাস্থলে যান। পুলিশের উপস্থিতিতে তার জ্যাকেটের পকেট থেকে পাওয়া ব্যাংকের গেটের চাবি দিয়ে শাখার ভেতরে ঢুকে পরীক্ষা করে সবকিছু ঠিকঠাক পাওয়া যায়।
স্থানীয় বাসিন্দা ও পরিবারের সদস্যদের ভাষ্য, ঋণের চাপ ও পারিবারিক কলহের কারণে তিনি দীর্ঘদিন ধরে মানসিক চাপে ভুগছিলেন।
নিহতের ছোট ভাই মো. আবু হানিফ বলেন, আমার ভাইয়ের এক ছেলে নেশাগ্রস্ত হয়ে রিহ্যাবে আছে। সেখানে কিছু টাকা বকেয়া পড়ে গেছে। এসব দেনা আর ঋণের চাপেই সে আত্মহত্যা করেছে বলে আমরা ধারণা করছি।
এ বিষয়ে শেরপুর সদর থানা-র ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. সোহেল রানা বলেন, মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য জেলা সদর হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়েছে। মৃত্যুর প্রকৃত কারণ জানতে ঘটনাটি তদন্ত করে দেখা হচ্ছে।
জে আই