দেশ টেলিভিশন লিমিটেড, কর্ণফুলী মিডিয়া পয়েন্ট, ৪২, শহীদ সাংবাদিক সেলিনা পারভীন সড়ক, মালিবাগ, ঢাকা-১২১৭, বাংলাদেশ।
টেলিফোন: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৫৮, ৮৩৩২৯২২ ফ্যাক্স: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৮১ মেইল: [email protected]

এসএসসি পরীক্ষার ফলাফলে দিনাজপুরের বিরামপুর উপজেলায় চমক দেখিয়েছেন যমজ তিনি ভাইবোন। উপজেলার পাইলট উচ্চবিদ্যালয় থেকে বিজ্ঞান বিভাগে পরীক্ষায় অংশ নিয়ে তিনজনই জিপিএ-৫ পেয়েছে। এদের মধ্যে একজন জিপিএ গোল্ডেনও পায়।
জিপিএ-৫ প্রাপ্তরা হলো-ভাই লাসার সৌরভ মুরমু এবং দুইবোন মেরি মৌমিতা মুরমু ও মারথা জেনিভিয়া মুরমু। তিন ভাই-বোনের মধ্যে লাসার সৌরভ মুরমু ইঞ্জিনিয়ার এবং দুইবোন ডাক্তার হওয়ার স্বপ্ন বুনছেন।
বিরামপুর উপজেলার পলিপ্রায়াগপুর ইউনিয়নের চন্ডিপুর গ্রামের জোহানেস মুরমু ও সোহাগীনি হাসদার দম্পতির যমজ সন্তান তারা। বাবা উত্তরবঙ্গ শিশু উন্নয়ন প্রকল্প নামের একটি বে-সরকারি সংস্থায় চাকরি করেন।
যমজ তিন সন্তানের মা সোহাগীনি হাসদার জানান, ২০০৬ সালের ১১ সেপ্টেম্বর পার্বতীপুর একটি মিশন হাসপাতালে একে তিন সন্তান জন্ম নেয়। ছোটবেলা থেকেই তারা তিন ভাই-বোন পড়াশোনায় অনেক মনোযোগী। ২০১৭ বিরামপুর মডেল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় থেকে পিইসি সমাপনী পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়ে পাইলট উচ্চবিদ্যালয়ে ভর্তি হয় তারা। করোনা ভাইরাসের কারণে জেএসসি পরীক্ষায় অংশ নিতে না পারলেও এবার তারা এসএসসি পরীক্ষায় অংশ নিয়ে তিনজনই জিপিএ-৫ পেয়েছে। এটা আমাদের জন্য অনেক সৌভাগ্যের ব্যাপার।
মানবিক বিভাগ থেকে এসএসসি পাস করা মা সোহাগীনি হাসদা বলেন, সন্তানদের সাফল্যে আমরা অনেক খুশি। মেয়ের স্বপ্ন বড় হয়ে ডাক্তার হওয়া আর ছেলে ইঞ্জিনিয়ার। আমরা সর্বাত্মক চেষ্টা করে যাবো ছেলে-মেয়েদের স্বপ্ন পূরণের জন্য। এজন্য সবার দোয়া প্রার্থনা।
মেরি মৌমিতা মুরমু জানায়, আমরা তিন ভাইবোন একসঙ্গেই পড়াশোনা করি। আমারা এমন ফলাফলে অনেক খুশি। আমাদের সবচেয়ে বড় শিক্ষক মা। বাবার উৎসাহে আমাদের অনুপ্রেরণা ছিল। আমারা কোনো ফোন ব্যবহার করতাম না। ক্লাসে আমাদের পাশাপাশি রোল ছিল। শিক্ষকরা আমাদের অনেক উৎসাহ দিতেন।
প্রতিবেশী আব্বাস আলী বলেন, তাদের এমন সুন্দর ফলাফল আমাদের গ্রামের সম্মান উজ্জ্বল করেছে। এটা আমাদের গর্বের বিষয়। গ্রামবাসীর চাওয়া তারা আরও ভালো ফলাফল করে তাদের স্বপ্নপূরণ করুক।
বিরামপুর পাইলট উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আরমান হোসেন বলেন, এবার এসএসসি পরীক্ষায় একই পরিবারের তিন শিক্ষার্থী অংশ নিয়ে জিপিএ-৫ পেয়েছে। এতে আমাদের বিদ্যালয়ের সব শিক্ষক বেশ খুশি। দোয়া করি তাদের স্বপ্ন পূরণ হোক।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ভারপ্রাপ্ত) ও সহকারী কমিশনার (ভূমি) মুরাদ হোসেন বলেন, আমরা এরই মধ্যে বিষয়টি জেনেছি। আমরা খুবই খুশি যে আমাদের উপজেলায় এরকম একটি ফলাফল করেছে একই পরিবারের তিন শিক্ষার্থী। উচ্চ শিক্ষার জন্য উপজেলা প্রশাসনের কোনো সহায়তা লাগলে আমরা বিষয়টি নজর দেব।
জেবি