দেশ টেলিভিশন লিমিটেড, কর্ণফুলী মিডিয়া পয়েন্ট, ৪২, শহীদ সাংবাদিক সেলিনা পারভীন সড়ক, মালিবাগ, ঢাকা-১২১৭, বাংলাদেশ।
টেলিফোন: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৫৮, ৮৩৩২৯২২ ফ্যাক্স: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৮১ মেইল: [email protected]

চারদিকে বইছে ভোটের আমেজ। শহর, নগর পাড়া-মহল্লা আর গ্রামগঞ্জের চায়ের কাপে চলছে আলোচনার ঝড়। সেই আলোচনায় পিছিয়ে নেই উপকূলের নৌকাভাসি মান্তা পরিবারেও। মেঘনার কোলঘেঁষা জনপদে বসবাসকারী এসব মান্তা পরিবারের খোঁজ নেয় না কেউ।
ভোটের মাধ্যমে সরকার বদল হলেও তাদের ভাগ্যের পরিবর্তনে কেউ এগিয়ে আসে না, এমন অভিযোগ তাদের।
জানা গেছে, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনেও ভোট চাইতে তাদের কাছে এসেছেন প্রার্থীরা, তবে এবার প্রতিশ্রুতিতে বিশ্বাসী নন তারা, মান্তাদের উন্নয়নে যারা কাজ করবেন এমন প্রার্থীকেই বেছে নেবেন তারা। পাশাপাশি সুষ্ঠু নির্বাচনের দাবিও তাদের।
মান্তা সদস্য বিশু সরদার বলেন, ‘আমাদের ঘরভিটা নেই, নৌকাই সম্বল। ভোটের সময় সবাই আসে, পরে আর কেউ আসে না।’
মান্তা নারী সদস্য মাইরম বিবি বলেন, ‘ভোট দেওয়ার সময় আমাদের কদর থাকে, পরে কেউ খোঁজ নেয় না। অসুখ হলে হাসপাতালে নেওয়ার মতো কেউ নেই।’
আরেক মান্তা জেলে কালাম সর্দার জানান, ‘ছেলেমেয়েদের পড়াশোনা করাতে চাই, কিন্তু নৌকায় থেকে স্কুলে পাঠানো সম্ভব হয় না। ভোট দিতে পারি, কিন্তু নাগরিক সুবিধা পাই না।’
মান্তা বৃদ্ধা রহিমা বেগমের আক্ষেপ, ‘জীবনভর নদীতে কাটালাম। শেষ বয়সে একটু নিরাপত্তা চাই, চিকিৎসা চাই। কিন্তু আমাদের কথা কেউ শোনে না।’
স্বাভাবিক জীবন থেকে অনেকটাই ভিন্ন যাদের জীবন-জীবিকা। যাদের নেই ঘরবাড়ি, বসতঘর-ভিটা কিংবা সামান্যটুকু জমি। সহায় সম্বল বলতে নৌকাই যাদের একমাত্র জীবিকা।
মান্তাদের আক্ষেপ, ভোটের মাধ্যমে জনপ্রতিনিধি নির্বাচিত হলেও প্রার্থীরা কথা দিয়ে, সেই কথা রাখেন না। তাই এমন প্রার্থীকে খুঁজছেন যাদের সুখে দুখে পাশে পাবেন।
দেশের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের উপকূলীয় জেলাগুলোতে বসবাসকারী যাযাবর মান্তা সম্প্রদায়। তবে তাদের অভিযোগ একটাই—ভোটের সময় ছাড়া কেউ খোঁজ নেয় না।
ভোলা সদর উপজেলার রাজাপুর, শিবপুর, ধনিয়া ইউনিয়ন, তজুমদ্দিন, চরফ্যাশন ও মনপুরা দ্বীপসংলগ্ন কলাপাড়া এলাকার খাল-নদীর পাড়ে নৌকাকেই ঘর বানিয়ে বসবাস করেন মান্তারা।
জন্ম, বিয়ে, মৃত্যু—জীবনের প্রতিটি অধ্যায় কাটে ছোট নৌকায়। মাছ ধরা তাদের প্রধান ও একমাত্র জীবিকা। স্থায়ী ঠিকানা না থাকায় দীর্ঘদিন ধরে শিক্ষা, চিকিৎসা ও রাষ্ট্রীয় নাগরিক সুবিধা থেকে তারা কার্যত বঞ্চিত।
নির্বাচন এলেই সাধারণত নিম্নবিত্ত মানুষের কদর বাড়ে। মান্তা সম্প্রদায়ের ক্ষেত্রেও ব্যতিক্রম হয় না। এবারের নির্বাচনে বিভিন্ন প্রার্থী ভোট চাইতে গেছেন নৌকাভাসি এসব মানুষের কাছেও। কিন্তু মান্তাদের অভিজ্ঞতা সুখকর নয়।
মেঘনার কোলঘেঁষা এসব জনপদে বসবাসকারী মান্তা পরিবারগুলোর সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, তারা এখন আর কাগুজে প্রতিশ্রুতিতে আস্থা রাখেন না। শিক্ষা, চিকিৎসা, বাসস্থান ও জীবিকায় বাস্তব উন্নয়ন যিনি করবেন—এমন প্রার্থীকেই তারা ভোট দিতে চান। একই সঙ্গে তারা সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচনের দাবিও জানিয়েছেন।
এবি/