দেশ টেলিভিশন লিমিটেড, কর্ণফুলী মিডিয়া পয়েন্ট, ৪২, শহীদ সাংবাদিক সেলিনা পারভীন সড়ক, মালিবাগ, ঢাকা-১২১৭, বাংলাদেশ।
টেলিফোন: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৫৮, ৮৩৩২৯২২ ফ্যাক্স: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৮১ মেইল: [email protected]

শেরপুর-৩ (ঝিনাইগাতী–শ্রীবরদী) আসনে নির্বাচনি ইশতেহার ঘোষণার মঞ্চে চেয়ারে বসাকে কেন্দ্র করে বিএনপি ও জামায়াত নেতাকর্মীদের মধ্যে সংঘর্ষে গুরুতর আহত জামায়াত নেতা মাওলানা রেজাউল করিম মারা গেছেন।
বুধবার (২৮ জানুয়ারি) রাত ৯টা ২০ মিনিটে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেয়ার পথে তিনি মৃত্যুবরণ করেন বলে দলীয় সূত্র নিশ্চিত করেছে।
রাত ১০টার দিকে জামায়াতে ইসলামীর পক্ষ থেকে তার মৃত্যুর বিষয়টি আনুষ্ঠানিকভাবে জানানো হয়। নিহত রেজাউল করিমের মরদেহ বর্তমানে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে রাখা হয়েছে।
নিহত মাওলানা রেজাউল করিম শ্রীবরদী উপজেলার গড়জরিপা ইউনিয়নের চাউলিয়া এলাকার বাসিন্দা। তিনি ওই এলাকার মাওলানা আব্দুল আজিজের ছেলে এবং শ্রীবরদী উপজেলা জামায়াতের সেক্রেটারি ছিলেন। পাশাপাশি তিনি উপজেলার ফতেহপুর ফাজিল মাদ্রাসার আরবি প্রভাষক হিসেবে কর্মরত ছিলেন।
জামায়াতের মনোনীত প্রার্থী নুরুজ্জামান বাদল অভিযোগ করে বলেন, আমার প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীর সমর্থকেরা পূর্বপরিকল্পিতভাবে হামলা চালিয়েছে। গুরুতর আহত অবস্থায় রেজাউল করিমকে প্রথমে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স, পরে জেলা সদর হাসপাতালে নেয়া হয়। অবস্থার অবনতি হলে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেয়ার পথে তিনি মারা যান। আমরা এই ঘটনার সুষ্ঠু বিচার দাবি করছি। বিচার না পেলে কঠোর আন্দোলন গড়ে তোলা হবে।
এর আগে বুধবার শেরপুরের ঝিনাইগাতী উপজেলা প্রশাসনের উদ্যোগে জাতীয় সংসদ নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীদের নিয়ে নির্বাচনি ইশতেহার ঘোষণা অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। ঝিনাইগাতী উপজেলা পরিষদ মাঠে আয়োজিত ওই অনুষ্ঠানে চেয়ারে বসাকে কেন্দ্র করে বিএনপি ও জামায়াত নেতাকর্মীদের মধ্যে প্রথমে বাগবিতণ্ডা এবং পরে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, অনুষ্ঠানে বিএনপি প্রার্থী মাহমুদুল হক রুবেল ও জামায়াত মনোনীত প্রার্থী নুরুজ্জামান বাদলের কর্মী-সমর্থকদের মধ্যে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। একপর্যায়ে সংঘর্ষ ও ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া শুরু হলে পুরো এলাকা রণক্ষেত্রে পরিণত হয়।
এ ঘটনায় উভয় পক্ষের অন্তত ৩০ জন নেতাকর্মী আহত হন। এছাড়া সংবাদ সংগ্রহের সময় দুইজন সাংবাদিকও আহত হন এবং তাদের ব্যবহৃত মোটরসাইকেল ভাঙচুর করা হয়।
সংঘর্ষের খবর পেয়ে সেনাবাহিনী ও পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। পরে স্থানীয়দের সহায়তায় আহতদের উদ্ধার করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স ও জেলা সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।
ঘটনার পর এলাকায় অতিরিক্ত আইনশৃঙ্খলা বাহিনী মোতায়েন করা হয়েছে। পরিস্থিতি বর্তমানে নিয়ন্ত্রণে থাকলেও এলাকায় থমথমে অবস্থা বিরাজ করছে।
জে আই