দেশ টেলিভিশন লিমিটেড, কর্ণফুলী মিডিয়া পয়েন্ট, ৪২, শহীদ সাংবাদিক সেলিনা পারভীন সড়ক, মালিবাগ, ঢাকা-১২১৭, বাংলাদেশ।
টেলিফোন: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৫৮, ৮৩৩২৯২২ ফ্যাক্স: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৮১ মেইল: [email protected]

পাবনায় জেলা প্রশাসন ও ইসলামিক ফাউন্ডেশনের নির্দেশনায় জুমার খুতবায় আসন্ন গণভোট নিয়ে আলোচনা চলাকালে এক এনএসআই কর্মকর্তার বাধা দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় মসজিদের ইমাম ও মুসল্লিদের মধ্যে উত্তেজনার সৃষ্টি হয়।
শুক্রবার (২২ জানুয়ারি) পাবনা সদর উপজেলার আরিফপুর জেইউএস ফাজিল মাদ্রাসা মসজিদে এ ঘটনা ঘটে। অভিযুক্ত কর্মকর্তার নাম আব্দুল্লাহ আল মামুন।
তিনি জাতীয় নিরাপত্তা গোয়েন্দা সংস্থা (এনএসআই)-এর রাজশাহী বিভাগীয় যুগ্ম পরিচালক হিসেবে কর্মরত রয়েছেন। তিনি পাবনা সদর উপজেলার হাজিরহাটের মাদারবাড়িয়া এলাকার আব্দুল মান্নানের ছেলে।
মসজিদের ইমাম ও একাধিক মুসল্লির সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, জেলা প্রশাসক ও ইসলামিক ফাউন্ডেশনের নির্দেশনা অনুযায়ী জুমার খুতবায় মুসল্লিদের উদ্দেশ্যে গণভোটের গুরুত্ব তুলে ধরে বয়ান দিচ্ছিলেন মসজিদের ইমাম আহসান উল্লাহ। এ সময় মুসল্লিদের কাতার থেকে এক ব্যক্তি বয়ানের প্রতিবাদ করে গণভোট সংক্রান্ত আলোচনা বন্ধ করে দ্রুত নামাজ শুরু করার দাবি জানান।
একপর্যায়ে তর্কাতর্কির সৃষ্টি হলে ইমাম জেলা প্রশাসনের নির্দেশনার কপি দেখান।
অভিযোগ রয়েছে, ওই কর্মকর্তা নির্দেশনার কাগজটি ছুঁড়ে ফেলে দেন এবং নিজেকে ডিবির চেয়েও বড় কর্মকর্তা দাবি করে ইমামকে মারতে তেড়ে যান। পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে উঠলে অন্য মুসল্লিরা ইমামের পক্ষে অবস্থান নেন। পরে নামাজ শেষে অভিযুক্ত কর্মকর্তা দ্রুত মসজিদ ত্যাগ করেন।
স্থানীয়দের ভাষ্যমতে, আব্দুল্লাহ আল মামুন ছাত্রজীবনে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ে অধ্যয়নকালে ছাত্রলীগের রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। তিনি এলাকায় নিজেকে মুক্তিযোদ্ধা পরিবারের সন্তান ও আওয়ামী লীগ পরিবারের পরিচয় দিয়ে প্রভাব বিস্তার করেন বলে অভিযোগ রয়েছে।
স্থানীয়ভাবে গুঞ্জন রয়েছে, এসব পরিচয়ের সুযোগ নিয়েই তিনি ২০১২ সালে এনএসআইতে চাকরি পান। তার বাবার মুক্তিযোদ্ধার সনদ নিয়েও এলাকায় বিতর্ক রয়েছে বলে দাবি করেন স্থানীয়রা।
এ বিষয়ে অভিযুক্ত এনএসআই কর্মকর্তা আব্দুল্লাহ আল মামুন সংবাদ প্রকাশ না করার অনুরোধ জানিয়ে বলেন, এখানে একটু ভুল বোঝাবুঝি হয়েছে। ইমাম সাহেব সংবিধানসহ কিছু বক্তব্য দিচ্ছিলেন। আমি শুধু কোরআন-হাদিসের আলোকে কথা বলার অনুরোধ করেছি। গণভোটের বিরুদ্ধে কিছু বলিনি, আমরাও গণভোটের পক্ষে। বিষয়টি নিয়ে সংবাদ হলে আমার চাকরিতে সমস্যা হতে পারে ভাই হিসেবে অনুরোধ করছি বিষয়টি বিবেচনা করার জন্য।
এ বিষয়ে পাবনা জেলা প্রশাসক ও জেলা রিটার্নিং কর্মকর্তা শাহেদ মোস্তফা বলেন, বিষয়টি আমি আগে জানতাম না। আপনার কাছ থেকেই প্রথম শুনলাম। আমি খোঁজখবর নিয়ে পরে বিস্তারিত জানাতে পারবো।
জে আই