দেশ টেলিভিশন লিমিটেড, কর্ণফুলী মিডিয়া পয়েন্ট, ৪২, শহীদ সাংবাদিক সেলিনা পারভীন সড়ক, মালিবাগ, ঢাকা-১২১৭, বাংলাদেশ।
টেলিফোন: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৫৮, ৮৩৩২৯২২ ফ্যাক্স: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৮১ মেইল: [email protected]

আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে নরসিংদী-২ (পলাশ) আসনে দশ দলীয় জোটের ভেতরে চরম রাজনৈতিক অস্বস্তি ও উত্তেজনা সৃষ্টি হয়েছে। জোটের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী জাতীয় নাগরিক পার্টিকে (এনসিপি) আসন ছেড়ে দেওয়ার কথা থাকলেও বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর মনোনীত প্রার্থী জেলা জামায়াতের সেক্রেটারি মো. আমজাদ হোসাইন শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত তার প্রার্থিতা প্রত্যাহার না করায় জোটের শৃঙ্খলা ভঙ্গের অভিযোগ উঠেছে।
মঙ্গলবার (২০ জানুয়ারি) মনোনয়ন প্রত্যাহারের শেষ দিনে প্রার্থিতা প্রত্যাহারের জন্য বাসা থেকে বের হওয়ার আগেই নরসিংদী শহরের গাবতলী এলাকায় আমজাদ হোসাইনের বাসায় জড়ো হন তার একাংশ কর্মী-সমর্থক। তারা প্রার্থিতা প্রত্যাহারের বিরোধিতা করে বাসার গেইটে তালা ঝুলিয়ে দেন। কর্মীদের স্লোগান ও অবস্থানের কারণে তিনি বাসা থেকে বের হতে না পারায় নির্ধারিত সময়ের মধ্যে মনোনয়ন প্রত্যাহার করা সম্ভব হয়নি বলে জানা গেছে।
একই ধরনের ঘটনা ঘটেছে নরসিংদী-৩ (শিবপুর) আসনেও। সেখানে দশ দলীয় জোটের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী বাংলাদেশ খেলাফত মজলিশের প্রার্থী মো. রাকিবুল ইসলাম (রাকিব) জোট প্রার্থী হিসেবে মনোনীত হলেও জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী মো. মোস্তাফিজুর রহমান মনোনয়ন প্রত্যাহার করেননি।
পলাশের ঘটনাকে ‘পরিকল্পিত নাটক’ আখ্যা দিয়ে জোটের সিদ্ধান্ত অবমাননার অভিযোগ তুলেছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) যুগ্ম আহ্বায়ক ও জোট প্রার্থী সারোয়ার তুষার। তিনি বলেন, “একটি নাটক মঞ্চস্থ করে দলীয় ও জোটের সিদ্ধান্ত অমান্য করা হয়েছে। এর মাধ্যমে জোটের শৃঙ্খলা ভঙ্গ করা হয়েছে। বিষয়টি আমরা জোটের শরিকদের সঙ্গে আলোচনা করেছি। এই আসনে যেন জামায়াতের প্রতীক ব্যালটে না আসে, সে বিষয়ে নির্বাচন কমিশনে চিঠি দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।”
তিনি আরও অভিযোগ করেন, দলীয় নির্দেশনা থাকা সত্ত্বেও আমজাদ হোসাইন তাকে নানাভাবে প্রার্থিতা থেকে সরে দাঁড়ানোর জন্য চাপ দিয়েছেন। এছাড়া তার কর্মী-সমর্থকদের একটি অংশ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তার বিরুদ্ধে কুৎসা রটনা করে তাকে মানসিক চাপে রেখেছে।
সারোয়ার তুষার বলেন, এই পরিস্থিতিতেও আমি ও আমার দল সর্বোচ্চ সহনশীল আচরণ করেছি। আমাদের জোটের মূল লক্ষ্য একটি ঐক্যবদ্ধ বাংলাদেশ গড়া। কিন্তু জোটের ভেতরেই যদি ঐক্য না থাকে, তাহলে বৃহত্তর ঐক্য বাস্তবায়ন কঠিন হয়ে পড়ে। আমরা আশা করবো, জামায়াতে ইসলামী তার বিরুদ্ধে শক্ত সাংগঠনিক ব্যবস্থা গ্রহণ করবে।
এ বিষয়ে নরসিংদী জেলা জামায়াতের আমির মাওলানা মুসলেহুদ্দিন এবং জেলা জামায়াতের সেক্রেটারি ও নরসিংদী-২ আসনের প্রার্থী মো. আমজাদ হোসাইনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাদের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
তবে নরসিংদী জেলা জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি ও নরসিংদী-৪ (মনোহরদী-বেলাব) আসনের প্রার্থী মো. জাহাঙ্গীর আলম বলেন, জামায়াতে ইসলামী যা বলে, তাই করে। আমরা আমাদের সিদ্ধান্তে অটুট। আজ মার্কা তোলার জন্য যাওয়া হয়নি। যাকে আমরা সমর্থন দিয়েছি, তিনিই নির্বাচনে থাকবেন।
জে আই