দেশ টেলিভিশন লিমিটেড, কর্ণফুলী মিডিয়া পয়েন্ট, ৪২, শহীদ সাংবাদিক সেলিনা পারভীন সড়ক, মালিবাগ, ঢাকা-১২১৭, বাংলাদেশ।
টেলিফোন: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৫৮, ৮৩৩২৯২২ ফ্যাক্স: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৮১ মেইল: [email protected]

চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ড উপজেলার জঙ্গল ছলিমপুর এলাকায় অভিযানে গিয়ে সন্ত্রাসী হামলায় র্যাবের এক কর্মকর্তা নিহত ও তিনজন গুরুতর আহত হয়েছেন। জানা গেছে, মসজিদের মাইকে ঘোষণা দিয়ে ৪০০ থেকে ৫০০ সন্ত্রাসী র্যাব সদস্যদের ওপর এ হামলা চালায়।
র্যাব-৭ সূত্র জানায়, সোমবার (১৯ জানুয়ারি) বিকাল চারটার দিকে অস্ত্রধারী সন্ত্রাসী গ্রেপ্তারের উদ্দেশ্যে পতেঙ্গা ব্যাটালিয়নের ৪৩ সদস্যের একটি দল জঙ্গল ছলিমপুর এলাকায় অভিযান চালায়। অভিযানের নেতৃত্ব দেন মেজর জালিস মাহমুদ খান। র্যাবের উপস্থিতি টের পেয়ে স্থানীয় একটি মসজিদের মাইকে ঘোষণা দিয়ে ইয়াছিন বাহিনীর নেতৃত্বে বিপুলসংখ্যক সন্ত্রাসী সংঘবদ্ধভাবে হামলা চালায়।
হামলাকারীরা র্যাব সদস্যদের মারধর করে, একটি মাইক্রোবাস ভাঙচুর করে এবং র্যাবের এক সোর্সসহ তিনজনকে অপহরণ করে দুর্গম আলীনগর পাহাড়ে নিয়ে যায়। সেখানে তাদের ওপর ভয়াবহ নির্যাতন চালানো হয়। পরে থানা পুলিশের সহায়তায় অপহৃতদের উদ্ধার করা হয়।
হামলায় গুরুতর আহত হন র্যাবের ডিএডি (উপ-সহকারী পরিচালক) মো. মোতালেব হোসেন ভূঁইয়া, ল্যান্সনায়েক এমাম, কনস্টেবল রিফাত ও নায়েক আরিফ। আহতদের চট্টগ্রাম সম্মিলিত সামরিক হাসপাতালে (সিএমএইচ) ভর্তি করা হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক ডিএডি মোতালেবকে মৃত ঘোষণা করেন। অপর তিনজন বর্তমানে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
র্যাব-৭-এর সিনিয়র সহকারী পরিচালক (গণমাধ্যম) এ আর এম মোজাফফর হোসেন জানান, ঘটনাটির প্রকৃত কারণ অনুসন্ধান এবং জড়িত সন্ত্রাসীদের শনাক্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।
স্থানীয় একাধিক সূত্র জানায়, ঘটনার দিন বিকালে ওই এলাকায় একটি রাজনৈতিক কার্যালয় উদ্বোধন উপলক্ষে সভা চলছিল। র্যাব সদস্যরা সভাস্থলে প্রবেশ করে একজন আসামিকে খোঁজার সময় ইয়াছিন বাহিনীর সদস্যরা হামলা চালায়।
স্থানীয়রা জানান, আওয়ামী লীগ সরকারের সময় জঙ্গল ছলিমপুর এলাকাটি নিয়ন্ত্রণ করতেন শীর্ষ সন্ত্রাসী মশিউর ও গফুর মেম্বার বাহিনী। ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পর জঙ্গল ছলিমপুর নিয়ন্ত্রণে নেন স্থানীয় যুবদল নেতা রোকন উদ্দিন মেম্বার। পরে গত বছরের বছরের জুলাইয়ে রোকন উদ্দিন বাহিনী ও ইয়াছিন বাহিনীর আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে দফায় দফায় সংঘর্ষ হয়। এতে অন্তত ২ জন মারা যায়। পরে ৩১ আগস্ট সেনাবাহিনী অভিযান পরিচালনা করে রোকন বাহিনীর সেকেন্ড ইন কমান্ড রেদোয়ানকে গ্রেপ্তার করে। পরের দিন ইয়াছিন বাহিনী প্রায় দুই হাজার অস্ত্রধারী সন্ত্রাসী নিয়ে জঙ্গল ছলিমপুর নিয়ন্ত্রণে নেয়।
মূলত বছরের পর বছর ইয়াছিন আলী নগরের অঘোষিত রাজা হিসেবে রাজত্ব করে আসছিলেন। রোকন বাহিনীর পতনের পর ইয়াছিন তার সাম্রাজ্য বাড়িয়ে জঙ্গল ছলিমপুর নিয়ন্ত্রণে রাখে। পাহাড় কেটে অবৈধ প্লট বাণিজ্য, পানি-বিদ্যুৎ সংযোগ, পরিবহন ও দোকানপাট থেকে মাসিক কোটি টাকার চাঁদাবাজির অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে।
এরপর আরও অন্তত ২ দফায় রোকন বাহিনীর সঙ্গে সংঘর্ষ হয় ওই এলাকায়। এসময় সংবাদ সংগ্রহে যাওয়া একটি বেসরকারি টেলিভিশনের ২ সাংবাদিকের ওপর হামলা করে তাদের অন্তত ১৫ লাখ টাকার মালামাল ছিনিয়ে নেয় সন্ত্রাসীরা। সেসময় সংঘর্ষে ২ জন নিহত হয়। এর আগেও আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে একাধিক দফা সংঘর্ষে প্রাণহানির ঘটনা ঘটেছে।
এলাকাবাসীর মধ্যে এই হামলার ঘটনায় চরম আতঙ্ক বিরাজ করছে। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে এলাকায় অতিরিক্ত আইনশৃঙ্খলা বাহিনী মোতায়েন করা হয়েছে।
এবি/