দেশ টেলিভিশন লিমিটেড, কর্ণফুলী মিডিয়া পয়েন্ট, ৪২, শহীদ সাংবাদিক সেলিনা পারভীন সড়ক, মালিবাগ, ঢাকা-১২১৭, বাংলাদেশ।
টেলিফোন: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৫৮, ৮৩৩২৯২২ ফ্যাক্স: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৮১ মেইল: [email protected]

নির্বাচনের লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড নিশ্চিত করতে প্রশাসন ব্যর্থ হয়েছে বলে অভিযোগ করেছেন জামায়াতে ইসলামীর ঢাকা মহানগরী উত্তরের সেক্রেটারি ও লক্ষ্মীপুর-৩ (সদর) আসনের এমপি প্রার্থী ড. মুহাম্মদ রেজাউল করিম।
শুক্রবার (১৬ জানুয়ারি) দুপুরে লক্ষ্মীপুর প্রেস ক্লাবে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব অভিযোগ করেন। বৃহস্পতিবার (১৫ জানুয়ারি) বিকেলে সদর উপজেলার চরশাহী ইউনিয়নের বটতলা গ্রামে জামায়াত নেতাকর্মীদের ওপর বিএনপির হামলার প্রতিবাদে জেলা জামায়াত এই সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করে।
ড. রেজাউল করিম বলেন, তফশিল ঘোষণার সঙ্গে সঙ্গেই এমপি প্রার্থী, জুলাই যোদ্ধা ও ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র ওসমান হাদীকে নির্মমভাবে হত্যা করা হয়েছে। সারাদেশে ঘটে যাওয়া এসব ঘটনা এবং লক্ষ্মীপুরের সাম্প্রতিক পরিস্থিতি প্রমাণ করে যে, নির্বাচনকে অবাধ ও সুষ্ঠু করতে প্রশাসন ব্যর্থতার পরিচয় দিচ্ছে। তিনি প্রশ্ন করেন, “যারা এসব ঘটনা ঘটাচ্ছে, তারা কি আদৌ একটি সুষ্ঠু নির্বাচন চায়?”
তিনি আরও অভিযোগ করে বলেন, প্রশাসনকে অনেক সময় একপেশী নীতি অবলম্বন করতে দেখা যাচ্ছে। মামলা গ্রহণের ক্ষেত্রে বলা হচ্ছে—‘আরেক পক্ষও মামলা করবে, আপনারা নিজেরা সমঝোতা করুন’। এ ধরনের বক্তব্য প্রশাসনের কাছ থেকে প্রত্যাশিত নয়। আমরা প্রশাসনের কাছ থেকে অরাজনৈতিক ও নিরপেক্ষ ভূমিকা আশা করি।
রেজাউল করিম বলেন, হামলার ঘটনায় আমরা রাতেই এজাহার দায়ের করেছি, কিন্তু এখনো মামলা গ্রহণ করা হয়নি। এতে প্রশাসনের নিরপেক্ষতা নিয়ে প্রশ্ন উঠছে। যাদের বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে, তাদের অবশ্যই গ্রেপ্তার করতে হবে।
সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন জামায়াতের লক্ষ্মীপুর জেলা সেক্রেটারি এ আর হাফিজ উল্লাহ। এ সময় আরও উপস্থিত ছিলেন জেলা শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশনের সভাপতি মমিন উল্লাহ পাটওয়ারী, লক্ষ্মীপুর শহর জামায়াতের আমীর অ্যাডভোকেট আবুল ফারাহ নিশান, চন্দ্রগঞ্জ থানা জামায়াতের সেক্রেটারি রেজাউল ইসলাম খান সুমনসহ জেলা ও উপজেলা পর্যায়ের নেতৃবৃন্দ।
প্রসঙ্গত, বৃহস্পতিবার বিকেলে লক্ষ্মীপুর সদর উপজেলার চরশাহী ইউনিয়নে জামায়াত ও বিএনপির নেতাকর্মীদের মধ্যে পালটাপালটি হামলার ঘটনা ঘটে। এতে উভয় পক্ষের অন্তত ১৫ জন আহত হন। আহতদের লক্ষ্মীপুর সদর হাসপাতালে ভর্তি করে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে।
ঘটনার পর রাতের দিকে সদর হাসপাতালে বিএনপি ও জামায়াতের নেতাকর্মীরা অবস্থান নিয়ে স্লোগান দিলে এলাকায় উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশ ও সেনাবাহিনীর সদস্যরা ঘটনাস্থলে উপস্থিত হন। হামলায় জড়িতদের গ্রেপ্তারের দাবিতে জামায়াত নেতাকর্মীরা সদর হাসপাতালের সামনে থেকে বিক্ষোভ মিছিলও করেন।