দেশ টেলিভিশন লিমিটেড, কর্ণফুলী মিডিয়া পয়েন্ট, ৪২, শহীদ সাংবাদিক সেলিনা পারভীন সড়ক, মালিবাগ, ঢাকা-১২১৭, বাংলাদেশ।
টেলিফোন: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৫৮, ৮৩৩২৯২২ ফ্যাক্স: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৮১ মেইল: [email protected]

শরীয়তপুরের জাজিরায় ককটেল তৈরির সময় ভয়াবহ বিস্ফোরণে সোহান বেপারী (৩২) নামে এক যুবক নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় আরও দুইজন গুরুতর আহত হয়েছেন। বিস্ফোরণের তীব্রতায় একটি বসতঘরের টিনের চালা ও বেড়া উড়ে যায়, এতে এলাকায় ব্যাপক আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে।
বৃহস্পতিবার (৮ জানুয়ারি) ভোরে জাজিরা উপজেলার বিলাসপুর ইউনিয়নের মুলাই বেপারী কান্দি এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। নিহত সোহান বেপারী একই ইউনিয়নের ব্যাপারীকান্দী গ্রামের দেলোয়ার বেপারীর ছেলে। পরে তার মরদেহ ঘটনাস্থল থেকে প্রায় আধা কিলোমিটার দূরে সাতঘরিয়াকান্দি গ্রামের একটি ফসলি জমি থেকে উদ্ধার করা হয়।
স্থানীয় বাসিন্দা ও পুলিশ সূত্র জানায়, বিলাসপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান কুদ্দুস বেপারী ও স্বেচ্ছাসেবক লীগ নেতা জলিল মাদবরের সমর্থকদের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে আধিপত্য বিস্তার নিয়ে বিরোধ চলছিল। এ বিরোধকে কেন্দ্র করে এর আগেও দুই পক্ষের মধ্যে দেশীয় অস্ত্র ও ককটেল নিয়ে একাধিক সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে।
পুলিশের প্রাথমিক ধারণা, বৃহস্পতিবার ভোরে চেয়ারম্যান কুদ্দুস বেপারীর চাচাতো ভাই সাগর বেপারীর সদ্য নির্মিত একটি বসতঘরে ককটেল তৈরির সময় বিস্ফোরণ ঘটে। এতে ঘটনাস্থলেই সোহান বেপারী নিহত হন। বিস্ফোরণের প্রচণ্ডতায় তার মরদেহ ছিটকে অদূরের একটি রসুন ক্ষেতে পড়ে থাকতে দেখা যায়। এ সময় আরও দুইজন গুরুতর আহত হন। তাদের উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।
জানা গেছে, প্রায় তিন মাস আগে বসতঘরটি নির্মাণ করেন সাগর বেপারী। ঘর নির্মাণে আর্থিক সহায়তা দিয়েছিলেন ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান কুদ্দুস বেপারী। তবে বিদ্যুৎ সংযোগ না থাকায় এখনও পরিবার নিয়ে সেখানে বসবাস শুরু করেননি তিনি।
এ বিষয়ে সাগর বেপারীর স্ত্রী শিল্পী বেগম বলেন, ‘আমার স্বামী ভ্যান চালিয়ে সংসার চালান। মানুষের সহযোগিতায় ঘরটি করেছি। কয়েক দিনের মধ্যেই ওঠার কথা ছিল। ভোররাতে বিকট শব্দে ঘুম ভেঙে যায়। পরে জানতে পারি আমাদের নতুন ঘরে বিস্ফোরণ হয়েছে। সেখানে কে বা কারা ছিল, আমরা জানি না। ঘরে কোনো মালামাল ছিল না, তালাও দেওয়া হয়নি।’
স্থানীয় বাসিন্দা রাবেয়া খাতুন বলেন, ‘প্রথমে ভেবেছিলাম ট্রান্সফরমার বিস্ফোরণ হয়েছে। পরে দেখি ধোঁয়া উঠছে আর কয়েকজন লোক দৌড়ে পালাচ্ছে। আমরা খুব আতঙ্কের মধ্যে আছি।’
আরেক বাসিন্দা রেজাউল বলেন, ‘আগে এলাকায় অনেক মারামারি হতো। প্রায় এক বছর শান্তিতে ছিলাম। এখন আবার শুরু হয়েছে। আমরা শান্তি চাই। প্রশাসনের নজরদারি বাড়ানো দরকার।’
শরীয়তপুরের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম অ্যান্ড অপস) তানভীর হোসেন বলেন, ‘খবর পেয়ে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করা হয়েছে। একজনের মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য সদর হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের শনাক্তে তদন্ত চলছে। দোষীদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’
এবি/