দেশ টেলিভিশন লিমিটেড, কর্ণফুলী মিডিয়া পয়েন্ট, ৪২, শহীদ সাংবাদিক সেলিনা পারভীন সড়ক, মালিবাগ, ঢাকা-১২১৭, বাংলাদেশ।
টেলিফোন: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৫৮, ৮৩৩২৯২২ ফ্যাক্স: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৮১ মেইল: [email protected]

কিশোরগঞ্জ-৫ (নিকলী–বাজিতপুর) আসনে বিএনপি মনোনীত প্রার্থী সৈয়দ এহসানুল হুদার মনোনয়ন বাতিলের দাবি জানিয়ে নির্বাচন কমিশনে (ইসি) আপিল করা হয়েছে। একই আসনে মনোনয়ন বাতিল হওয়া স্বতন্ত্র প্রার্থী ও বিএনপির কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য শেখ মজিবুর রহমান ইকবাল বুধবার (৭ জানুয়ারি) ঢাকায় নির্বাচন কমিশনে আপিল নম্বর–১৭৪ দায়ের করেন।
আপিল আবেদনের পাশাপাশি নিজের মনোনয়নপত্র বৈধ ঘোষণার জন্য পৃথক আবেদনও জমা দেন ইকবাল। তিনি অভিযোগ করেন, আপিল প্রস্তুতির জন্য রিটার্নিং কর্মকর্তার কাছে লিখিতভাবে আবেদন করা হলেও নির্ধারিত সময়ে বৈধ ঘোষিত প্রার্থীদের তালিকা সরবরাহ করা হয়নি।
মনোনয়ন বাতিলের আপিলে শেখ মজিবুর রহমান ইকবাল উল্লেখ করেন, রিটার্নিং কর্মকর্তা হলফনামার তথ্য যথাযথভাবে যাচাই না করেই সৈয়দ এহসানুল হুদার প্রার্থিতা বৈধ ঘোষণা করেছেন। হলফনামা সঠিকভাবে পরীক্ষা করলে এই মনোনয়ন বৈধ হওয়ার কোনো সুযোগ নেই।

আপিলের নথিতে বলা হয়, সৈয়দ এহসানুল হুদার হলফনামায় ছবি, স্বাক্ষর ও তারিখ নেই। এছাড়া ৩ নম্বর কলামের খ অনুচ্ছেদে ভুল তথ্য, গ অনুচ্ছেদে অসম্পূর্ণ তথ্য এবং ৭ নম্বর কলামের ক অনুচ্ছেদে ভুল তথ্য দেওয়া হয়েছে। ৮ নম্বর কলাম পূরণ করা হয়নি এবং ১০ নম্বর কলামের ক অনুচ্ছেদও ত্রুটিপূর্ণ। পাশাপাশি হলফনামাটি প্রথম শ্রেণির ম্যাজিস্ট্রেট বা নোটারি পাবলিক দ্বারা নিবন্ধিত নয় বলেও উল্লেখ করা হয়।
শেখ মজিবুর রহমান ইকবাল বলেন, আমার মনোনয়নপত্রে সামান্য তথ্যগত ভুলের কারণে সেটি বাতিল করা হয়েছে, অথচ এহসানুল হুদার মনোনয়নপত্রে একাধিক ভুল ও অসত্য তথ্য থাকার পরও সেটি বৈধ ঘোষণা করা হয়েছে। হলফনামায় স্বাক্ষর, ছবি ও তারিখ না থাকা সত্ত্বেও কীভাবে একটি মনোনয়ন বৈধ হয়—সে প্রশ্নও তোলেন তিনি।
এ বিষয়ে বিএনপি প্রার্থী সৈয়দ এহসানুল হুদা জানান, তিনি কিশোরগঞ্জ জেলা রিটার্নিং কর্মকর্তা ও বাজিতপুর উপজেলা সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তার কাছে পৃথক দুটি মনোনয়নপত্র দাখিল করেছিলেন এবং সব তথ্য সঠিক থাকায় তার মনোনয়ন বৈধ ঘোষণা করা হয়েছে।
কিশোরগঞ্জের জেলা প্রশাসক ও রিটার্নিং কর্মকর্তা মোহাম্মদ আসলাম মোল্লা বলেন, শেখ মজিবুর রহমান ইকবালের আবেদনের পর ৭ জানুয়ারি রেকর্ড রুম থেকে তাকে বৈধ ঘোষিত প্রার্থীদের তালিকার দুই কপি দেওয়া হয়েছে।
তিনি আরও বলেন, মনোনয়নপত্র যাচাই-বাছাই সঠিকভাবেই করা হয়েছে এবং কেউ সংক্ষুব্ধ হলে নির্বাচন কমিশনে আপিল করার সুযোগ রয়েছে।
জেলা নির্বাচন অফিস থেকে গণমাধ্যমকর্মীদের কাছে সরবরাহ করা কপিতে দেখা গেছে, কিশোরগঞ্জ-৫ আসনের বিএনপি প্রার্থী সৈয়দ এহসানুল হুদার হলফনামায় তার স্বাক্ষর নেই।
প্রসঙ্গত, গত ৩ ও ৪ ডিসেম্বর কিশোরগঞ্জের ছয়টি আসনে ৬১ জনের মনোনয়নপত্র যাচাই শেষে ৩৭ জনের মনোনয়ন বৈধ এবং ২৪ জনের মনোনয়ন বাতিল ঘোষণা করা হয়। কিশোরগঞ্জ-৫ আসনে প্রথমে শেখ মজিবুর রহমান ইকবাল বিএনপির দলীয় মনোনয়ন পেলেও পরে তাকে বাদ দিয়ে বাংলাদেশ জাতীয় দল বিলুপ্ত করে বিএনপিতে যোগ দেওয়া সৈয়দ এহসানুল হুদাকে মনোনয়ন দেয় দলটি।
/অ