দেশ টেলিভিশন লিমিটেড, কর্ণফুলী মিডিয়া পয়েন্ট, ৪২, শহীদ সাংবাদিক সেলিনা পারভীন সড়ক, মালিবাগ, ঢাকা-১২১৭, বাংলাদেশ।
টেলিফোন: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৫৮, ৮৩৩২৯২২ ফ্যাক্স: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৮১ মেইল: [email protected]

একদিনের ব্যবধানে তাপমাত্রা ২ দশমিক ৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস কমে উত্তরের সীমান্তবর্তী জেলা নওগাঁ মৃদু শৈত্যপ্রবাহের কবলে পড়েছে। হঠাৎ করে তাপমাত্রা কমে যাওয়ায় ঘন কুয়াশা, হিমেল হাওয়া ও কনকনে ঠান্ডায় বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে জনজীবন।
নওগাঁর বদলগাছী কৃষি আবহাওয়া পর্যবেক্ষণাগারের তথ্য অনুযায়ী, শনিবার (৩ ডিসেম্বর) সকাল ৯টায় জেলায় সর্বনিম্ন তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে ৯ ডিগ্রি সেলসিয়াস। যা চলতি বছর এখন পর্যন্ত এ জেলার সর্বনিম্ন তাপমাত্রা। এর আগের দিন শুক্রবার সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ছিল ১১ দশমিক ৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস।
স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, শনিবার ভোর থেকেই চারপাশ ঘন কুয়াশায় ঢাকা পড়ে যায়। সঙ্গে উত্তর দিক থেকে বয়ে আসা হিমেল হাওয়ায় তীব্র শীত অনুভূত হচ্ছে। গত দুই দিন সূর্যের দেখা মিললেও বিকেল গড়ানোর সঙ্গে সঙ্গে আবারও তাপমাত্রা দ্রুত কমতে শুরু করে। রাত বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে শীতের তীব্রতাও বাড়ছে। এতে সবচেয়ে বেশি দুর্ভোগে পড়েছেন ছিন্নমূল মানুষ ও খেটে খাওয়া শ্রমজীবীরা।
ভ্যানচালক রেজাউল ইসলাম বলেন, গত দুই দিন শীত কিছুটা কম ছিল। কিন্তু আজ হঠাৎ করে যে ঠান্ডা পড়ছে, তাতে যাত্রীই পাওয়া যাচ্ছে না। সকাল ১০টা বাজলেও কুয়াশার কারণে পাঁচ হাত দূরের কিছু দেখা যাচ্ছে না।
হাপানিয়া এলাকার বাসিন্দা দুলু বলেন, সন্ধ্যার পর থেকেই শীতের প্রকোপ বেড়ে যায়। কুয়াশা আর হিমেল হাওয়া মিলে শীত কয়েকগুণ বাড়িয়ে দেয়। মানুষ সন্ধ্যার পর থেকেই গরম কাপড় পরে চলাফেরা করছে। ভোর থেকে এখনো চারপাশ কুয়াশায় আচ্ছন্ন।
ঘন কুয়াশা ও তীব্র শীতের কারণে সবচেয়ে বেশি বিপাকে পড়েছেন পরিবহন শ্রমিকরা। ট্রাকচালক দুলাল হোসেন বলেন, ঘন কুয়াশা আর শীতের কারণে গাড়ি চালানো খুব কষ্টকর হয়ে গেছে। ২০ হাত দূরের রাস্তাও স্পষ্ট দেখা যায় না। প্রায় প্রতিদিনই কোথাও না কোথাও দুর্ঘটনা ঘটছে। জীবনের ঝুঁকি নিয়েই পেটের দায়ে গাড়ি চালাতে হচ্ছে।
ভ্যানচালক জলিল বলেন, সকালে বের হলেই হাত-পা শক্ত হয়ে আসে। যাত্রীও খুব কম। তারপরও সংসারের তাগিদে রাস্তায় নামতে হয়। এই শীতে কাজ করা সত্যিই অনেক কষ্টের।
শ্রমজীবী মোরশেদ আলী বলেন, শীত বাড়লেই কাজ কমে যায়। কাজ না থাকলে খাবার জোটে না। রাতে আগুন পোহালেও ঠান্ডা যায় না। সবচেয়ে বেশি কষ্ট হয় ছোট বাচ্চাদের নিয়ে।
এ বিষয়ে বদলগাছী কৃষি আবহাওয়া পর্যবেক্ষণাগারের কর্মকর্তা মিজানুর রহমান জানান, শনিবার সকাল ৯টায় নওগাঁ জেলায় সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ৯ ডিগ্রি সেলসিয়াস রেকর্ড করা হয়েছে। গতকাল ছিল ১১ দশমিক ৮ ডিগ্রি। অর্থাৎ ২৪ ঘণ্টার ব্যবধানে তাপমাত্রা কমেছে ২ দশমিক ৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস। উত্তর দিক থেকে বয়ে আসা হিমেল হাওয়ার কারণে আগামী কয়েকদিন শীত আরও বাড়তে পারে।
জেলা ত্রাণ ও দুর্যোগ বিষয়ক কর্মকর্তা আশিকুর রহমান জানান, জেলা এবং দেশ উপজেলা প্রশাসনের মাধ্যমে এখন পর্যন্ত প্রায় ৩০ হাজার ৬০০ পিস কম্বল বিতরণ করা হয়েছে। অতিরিক্ত প্রায় ১ লাখ ১০ হাজার পিস কম্বল বরাদ্দ চাওয়া হয়েছে।
/অ