দেশ টেলিভিশন লিমিটেড, কর্ণফুলী মিডিয়া পয়েন্ট, ৪২, শহীদ সাংবাদিক সেলিনা পারভীন সড়ক, মালিবাগ, ঢাকা-১২১৭, বাংলাদেশ।
টেলিফোন: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৫৮, ৮৩৩২৯২২ ফ্যাক্স: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৮১ মেইল: [email protected]

সুদানে জাতিসংঘ শান্তিরক্ষী মিশনে দায়িত্ব পালনকালে বিচ্ছিন্নতাবাদী সশস্ত্র গোষ্ঠীর ড্রোন হামলায় আহত হয়েছেন বাংলাদেশি নারী শান্তিরক্ষী চুমকি আক্তার। গ্রেনেডের একাধিক স্প্লিন্টার তার ডান হাত ও ডান পায়ে বিদ্ধ হয়েছে। বর্তমানে তিনি সুদানের একটি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
রোববার (১৪ ডিসেম্বর) বিকেলে চুমকি আক্তারের পারিবারিক সূত্রে এসব তথ্য নিশ্চিত করা হয়।
চুমকি আক্তার মানিকগঞ্জ জেলার ঘিওর উপজেলার পেচারকান্দা এলাকার কৃষক আব্দুল হামিদ ও জহুরা বেগমের কন্যা। তিনি চার বোনের মধ্যে সবার ছোট। মাত্র ৩৬ দিন আগে চলতি বছরের ৭ নভেম্বর জাতিসংঘ শান্তিরক্ষী মিশনে দায়িত্ব পালনের জন্য সুদানে যান তিনি।
হামলার সময় একটি গ্রেনেড বিস্ফোরণের স্প্লিন্টার তার শরীরে আঘাত হানে। গুরুতর আহত অবস্থায় হেলিকপ্টারে করে প্রায় ৭০০ কিলোমিটার দূরের একটি হাসপাতালে তাকে স্থানান্তর করা হয়। বর্তমানে সেখানে চিকিৎসা চলছে। সেনাবাহিনীর মাধ্যমে নিয়মিত তার শারীরিক অবস্থার খোঁজখবর পাচ্ছে পরিবার।
চুমকি আক্তারের স্বামী মো. ইকরামুল হোসেন নিজেও বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর একজন সদস্য। দাম্পত্য জীবনে তাদের একমাত্র সন্তান দুই বছর বয়সী ইব্রাহিম আরাবি। শান্তিরক্ষী মিশনে যাওয়ার সময় সন্তানকে মায়ের কাছেই রেখে যান চুমকি।
চুমকির মা জহুরা বেগম কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলেন, আমার কোনো ছেলে সন্তান নেই। চার মেয়ের মধ্যে চুমকি সবচেয়ে ছোট। ওর ডান হাত আর পায়ে আঘাত লেগেছে। এত দূরের দেশে হাসপাতালে ভর্তি আছে এই দুশ্চিন্তা সহ্য করা খুব কষ্টের। সবার কাছে মেয়ের দ্রুত সুস্থতা আর নিরাপদে দেশে ফেরার জন্য দোয়া চাই।
আইএসপিআর সূত্রে জানা গেছে, সুদানে জাতিসংঘ শান্তিরক্ষী মিশনে দায়িত্ব পালনকালে ওই ড্রোন হামলায় ছয়জন বাংলাদেশি শান্তিরক্ষী শহীদ হয়েছেন এবং আরও আটজন আহত হয়েছেন। আহতদের মধ্যে চুমকি আক্তারও রয়েছেন।
আরএ