দেশ টেলিভিশন লিমিটেড, কর্ণফুলী মিডিয়া পয়েন্ট, ৪২, শহীদ সাংবাদিক সেলিনা পারভীন সড়ক, মালিবাগ, ঢাকা-১২১৭, বাংলাদেশ।
টেলিফোন: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৫৮, ৮৩৩২৯২২ ফ্যাক্স: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৮১ মেইল: [email protected]

গাজীপুরের শ্রীপুরে টাকা চেয়ে না পাওয়া মা’কে আঘাত করে খলিলুর রহমান (২৬) নামে এক যুবক। পরে তাকে আটক করে কোমর পর্যন্ত গর্তে পুঁতে রাখে এলাকাবাসী। এ ঘটনার ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে ওই যুবককে আটক করে। এছাড়াও বাবা নুরুদ্দিন ছেলের বিরুদ্ধে শ্রীপুর থানায় মামলা করেছে।
খলিলুর রহমান তেলিহাটি ইউনিয়নের টেপিরবাড়ি (মধ্যপাড়া) গ্রামের নূরউদ্দিনের ছেলে। শনিবার (১৩ ডিসেম্বর) সকাল ১০টার দিকে উপজেলার তেলিহাটি ইউনিয়নের টেপিরবাড়ি (মধ্যপাড়া) গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।
খলিলের মা খোদেজা বেগম বলেন, ‘কয়েকদিন আগে ঘর ভাড়ার আড়াই হাজার টাকা তুলে আমার কাছে জমা দেয়। শনিবার (১৩ ডিসেম্বর) সকালে ওই টাকা আমার কাছে চাইলে আমি দেয়নি। আমি তাকে বলি বিদ্যুৎ বিল, খাওয়ার বাজার, আমার ঔষধ আনতে হবে। পরে আবার টাকা চায়। আমি টাকা দিতে না চাইলে তর্কের একপর্যায়ে ইটের সুরকি ঢিল মারলে পায়ে আঘাত পায়। তার মাথায় একটু সমস্যা আছে। টাকা দিয়ে বিড়ি অথবা গাঁজা খাইতো হয়তো।’
তিনি বলেন, ‘মাঝে মাঝে টাকা চায়, না দিলে মারে, আরো দুইদিন আমাকে মারছে। আমার ছেলেও আমার মতো অসুস্থ, সেও কাঁপে, কাজকর্ম করতে পারে না। সে (ছেলে খলিল) যখর ক্লাশ ফাইভে পড়ে তখন অনেক অসুস্থ ছিল। তখন বাংলাদেশ মেডিকেল, পিজি হাসপাতালসহ বিভিন্ন হাসপাতালে এক মাস যাবত থেকে চিকিৎসা করিয়েছি। চিকিৎসক বলেছিল— আবার যাওয়ার জন্য। গাফিলতি করে যাইনি, এখন দেখি মাথায় আরও সমস্যা। আগে যে সে আমাকে দুইদিন মারছিল, আমি যে লাঠি দিয়ে ভর করে হাঁটি ওই লাঠি দিয়ে আমিও তাকে দুই দিন মারছি। আমাকে মারার খবর শুনে এলাকাবাসী আসলে আমি তাদেরকে বলেছি তাকে বেঁধে বিচার কর তরা। মাইরা হাত-পা ভেঙ্গে দে। যেহেতু সে কাজ কর্ম করতে পারে না হাত-পা ভেঙে ঘরে বওয়ায়ে রাখে।’
খলিলের ভাবি রেহেনা আক্তার বলেন, ‘সকালে একজন ফোন করে আমাকে জানায়— খলিল তার মাকে মারছে। খবর পেয়ে এসে দেখি সত্যিই তার মাকে খলিল মারছে। পরে পাড়া-প্রতিবেশী এবং মুরুব্বিরা তাকে গর্তের মধ্যে বুক পর্যন্ত মাটি চাপা দিয়ে রাখে। পরে সে একাই গর্ত থেকে উঠে গেলে আবার তাকে ধরে বেঁধে রাখে। তার মাকে টাকার জন্য সে আরও দুইদিন মারধর করছে। সে মাঝে মাঝে একটু নেশা করে। তবে, আজকে নেশা করে নাই সুস্থই ছিল। খলিলের নানির বাড়ির লোকজন এসে একটু মারছে তাকে।’
খলিলের বাবা নুরুদ্দিন বলেন, ‘খলিল তার মার কাছে টাকা চাইছিল। না দেওয়ায় সে তার মাকে মারধর করেছে। খবর পেয়ে তার মামাতো ভাইয়েরা এসে কিছু বিচার (মারধর) করছে। পরে তাকে খুঁটিতে বেঁধে রাখছিল। পরে আনছার টেপিরবাড়ী-ছাতির বাজার সড়কের পশ্চিম পাশে গর্তে পুঁতে রাখে। তবে গর্তে পুঁতে রাখার বিষয়ে আমি কিছুই বলতে পারব না।’
খলিল নেশা করে কিনা প্রশ্ন করলে তিনি বলেন, ‘আমি আলাদা থাকি। তার মা মামলা করার পর আমি এক সপ্তাহ জেল খাটি। পরে একটু জমি দিয়ে তার মামার সঙ্গে আমার মীমাংসা হয়। এরপর থেকে আমি তাদের কাছ থেকে একেবারেই বিচ্ছিন্ন (আলাদা) বসবাস করি। সামনে একটা দোকান ছিল। তখন দেখছিলাম ভালোভাবে চলাফেরা করছে।’
শ্রীপুর থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) মুহাম্মদ আবুল বাশার বলেন, ‘মাকে মারধরের ঘটনায় তার বাবা নুরুউদ্দিন বাদী হয়ে ছেলে খলিলকে আসামি করে মামলা দায়ের করেছে।’
এবি/