দেশ টেলিভিশন লিমিটেড, কর্ণফুলী মিডিয়া পয়েন্ট, ৪২, শহীদ সাংবাদিক সেলিনা পারভীন সড়ক, মালিবাগ, ঢাকা-১২১৭, বাংলাদেশ।
টেলিফোন: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৫৮, ৮৩৩২৯২২ ফ্যাক্স: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৮১ মেইল: [email protected]

যশোরের চৌগাছা উপজেলার পল্লবী ক্লিনিকে দীর্ঘদিন ধরে রোগীদের সঙ্গে ভয়াবহ প্রতারণা চলছে। ডিএমএফ, পল্লী চিকিৎসক ও ভুয়া ডাক্তারদের মাধ্যমে রোগী দেখা থেকে শুরু করে বড় ধরনের অস্ত্রোপচার পর্যন্ত করা হচ্ছে অবাধে। এমনকি ক্লিনিকের মালিক মিজানুর রহমান নিজেও কোনো চিকিৎসা ডিগ্রি ছাড়াই নিয়মিত অপারেশন করে আসছেন।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, নিজেকে আরএমপি ডাক্তার পরিচয় দিয়ে মিজানুর রহমান গত কয়েক বছর ধরে এ ক্লিনিকে বিভিন্ন অস্ত্রোপচার চালিয়ে যাচ্ছেন। ক্লিনিকটিতে নিয়মিত রোগী দেখছেন ভুয়া ডাক্তার, কথিত পল্লী চিকিৎসক এবং ডিএমএফ ডিগ্রিধারীরা যারা অধিকাংশই বিএমডিসি রেজিস্ট্রেশনবিহীন। এমনকি কিছু এমবিবিএস চিকিৎসক উচ্চতর ডিগ্রি ছাড়াই নিজেদের ‘গাইনি সার্জন’ পরিচয়ে সার্জারি করে রোগীদের সঙ্গে প্রতারণায় জড়িত বলে অভিযোগ রয়েছে।
পল্লবী ক্লিনিকের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে গেলেই বাধার মুখে পড়তে হয় সংশ্লিষ্টদের। অভিযোগ রয়েছে, চৌগাছা পৌরসভার প্রভাবশালী বাজার পরিদর্শক মুকুরুল ইসলাম মিন্টু নিয়মিত এসব অনিয়মকে আড়াল করে আসছেন।
গত ৯ এপ্রিল ভুয়া ডাক্তার শেখর চন্দ্রকে ১ লাখ টাকা জরিমানা ও তিন মাসের কারাদণ্ড দেওয়া হলেও মিন্টুর প্রভাবেই তার জেল মওকুফ হয়ে যায় বলে স্থানীয়রা জানান।
এদিকে ক্লিনিক মালিক মিজানুর রহমান রোগ নির্ণয়ের তোয়াক্কা না করে সামান্য পেটব্যথাকেও অ্যাপেন্ডিসাইটিস বলে অপারেশন করে দেন এমন অভিযোগও উঠেছে। সম্প্রতি এক রোগী অপারেশন টেবিল থেকে অল্পের জন্য প্রাণে বেঁচে যান। পরে ক্ষতিপূরণ দিয়ে ঘটনাটি ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা করে ক্লিনিক কর্তৃপক্ষ।
ডিএমএফ ধারী তুহিন নামের এক তথাকথিত চিকিৎসকও ক্লিনিকে নিয়মিত রোগী দেখছেন। ডিপ্লোমা ইন মেডিকেল ফ্যাকাল্টি (ডিএমএফ) ডিগ্রিধারী দাবি করলেও তিনি ডিএমএফ-এর পূর্ণরূপ বলতে পারেননি এবং নিজের বিএমডিসি রেজিস্ট্রেশন নম্বরও মনে করতে পারেননি। দেশটিভি টিম তাকে সাক্ষাৎকার নিতে গেলে আবারও হাজির হন বাজার পরিদর্শক মিন্টু এবং ক্ষমতার প্রভাব খাটানোর চেষ্টা করেন।
এদিকে ‘গাইনী সার্জন’ নামের ভিজিটিং কার্ড ব্যবহার করে মাত্র কয়েক মাসের প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত ডা. ফারজিনা ফারুক মৌশি ও ডা. নাজনীন পারভিন রিমি উচ্চতর ডিগ্রি ছাড়াই সিজারসহ বিভিন্ন গাইনী সার্জারি করছেন যা সম্পূর্ণ অবৈধ।
অভিযোগ সম্পর্কে জানতে চাইলে যশোর সিভিল সার্জন বলেন, পল্লবী ক্লিনিকের বিরুদ্ধে দ্রুতই ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এসব ক্লিনিক মানুষের জীবনের সঙ্গে ভয়াবহ ঝুঁকি তৈরি করছে।
জেলা সদর থেকে ৩০ কিলোমিটার দূরের এই এলাকায় উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের সীমাবদ্ধতাকে সুযোগ হিসেবে নিয়ে গড়ে উঠেছে এ ধরনের ক্লিনিক। সরল-সোজা গ্রামের মানুষের অজ্ঞতাকে পুঁজি করে দীর্ঘদিন ধরে চলছে অবৈধ চিকিৎসা বাণিজ্য। ভুক্তভোগীরা অবিলম্বে এসব ভুয়া ক্লিনিক ও চিকিৎসকদের বিরুদ্ধে স্থায়ী ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন।
জে আই/ আরএ