দেশ টেলিভিশন লিমিটেড, কর্ণফুলী মিডিয়া পয়েন্ট, ৪২, শহীদ সাংবাদিক সেলিনা পারভীন সড়ক, মালিবাগ, ঢাকা-১২১৭, বাংলাদেশ।
টেলিফোন: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৫৮, ৮৩৩২৯২২ ফ্যাক্স: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৮১ মেইল: [email protected]

বগুড়ার শাজাহানপুরে সাদিয়া আক্তার (২৪) নামের এক গৃহবধূর ঝুলন্ত মরদেহ ও তার দুই শিশুর গলাকাটা মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ।
মঙ্গলবার (২৫ নভেম্বর) বেলা ১১ টার দিকে উপজেলার খলিশাকান্দি গ্রামে বাড়ির শয়ন কক্ষ থেকে মরদেহগুলো উদ্ধার করা হয়।
তবে সাদিয়া আত্মহত্যা করেছে নাকি পুরো ঘটনাটি পরিকল্পিত তা খতিয়ে দেখছে পুলিশ।
এ ঘটনায় নিহতের স্বামী শাহাদতকে হেফাজতে নিয়েছে পুলিশ।
ঘটনাস্থলে গিয়ে দেখা যায়, একসঙ্গে পরিবারের তিন সদস্যকে হারিয়ে বুকফাটা আহাজারিতে ফেটে পরেন স্বজনরা। শয়ন কক্ষের বিছানায় পড়েছিল ছয় মাস বয়সী সাইফ ও তিন বছর বয়সী সাঈফার গলাকাটা নিথর দেহ। আর ঘরের সিলিং ফ্যান থেকে ঝুলছিল তাদের মা সাদিয়ার মরদেহ।

স্বজনরা জানান, ছয় বছর আগে পারিবারিকভাবে শাজাহানপুরের খলিশাকান্দি গ্রামের সেনা সদস্য শাহাদত হোসেনের সঙ্গে ভান্ডার পাইকার গ্রামের সাদিয়ার বিয়ে হয়। তবে পারিবারিক নানা বিষয় নিয়ে স্বামী–স্ত্রীর মধ্যে প্রায়ই ঝগড়া-বিবাদ লেগে থাকত। গত শুক্রবার কর্মস্থল ময়মনসিংহ থেকে ছুটিতে বাড়ি ফেরেন শাহাদত। মঙ্গলবার সকালে পরিবারের সদস্যদের জন্য রান্না শেষে সাদিয়া শয়নকক্ষে গিয়ে দরজা বন্ধ করে দেন। এ সময় শাহাদত পাশের ঘরে ঘুমাচ্ছিলেন বলে দাবি করেন তারা। পরে সকাল আনুমানিক দশটার দিকে দীর্ঘসময় ডাকাডাকির পর কোনো সাড়া না পেয়ে দরজা ভেঙে তারা সিলিং ফ্যানে ওড়না প্যাঁচানো সাদিয়ার ঝুলন্ত মরদেহ ও দুই শিশুর গলাকাটা মরদেহ পড়ে থাকতে দেখেন।
তবে সাদিয়ার পরিবারের সদস্যদের অভিযোগ, শাহাদত পরিকল্পিতভাবেই স্ত্রী ও দুই সন্তানকে হত্যা করেছেন। একজন মা কখনোই তার আদরের সন্তানদের হত্যা করতে পারেন না।
এ প্রসঙ্গে বগুড়ার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম এন্ড অপস) হোসাইন মোহাম্মদ রায়হান বলেন, স্ত্রী ও সন্তানদের মরদেহ দেখার পর সাদিয়ার স্বামী শাহাদাৎ অসুস্থ হয়ে পরলে তাকে পুলিশ হেফাজতে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রাখা হয়েছে। এছাড়াও ময়নাতদন্ত প্রতিবেদনে মৃত্যুর প্রকৃত কারণ জানা যাবে। তদন্ত সাপেক্ষে এ ঘটনায় আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এছাড়াও নিহতদের মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়েছে।
কে