দেশ টেলিভিশন লিমিটেড, কর্ণফুলী মিডিয়া পয়েন্ট, ৪২, শহীদ সাংবাদিক সেলিনা পারভীন সড়ক, মালিবাগ, ঢাকা-১২১৭, বাংলাদেশ।
টেলিফোন: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৫৮, ৮৩৩২৯২২ ফ্যাক্স: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৮১ মেইল: [email protected]

মুন্সীগঞ্জের পিটিআই পরীক্ষণ বিদ্যালয়ের এক শিক্ষক তৃতীয় শ্রেণির নয় বছরের এক ছাত্রীকে বিদ্যালয়ের বাথরুমে ধর্ষণের চেষ্টা করেছেন এমন অভিযোগের পর তাকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। এ ঘটনায় উত্তেজিত জনতা বিদ্যালয় ঘেরাও করে বিক্ষোভ শুরু করে এবং অভিযুক্ত শিক্ষককে পিটিয়ে আহত করে।
পুলিশ জানায়, রোববার (২০ নভেম্বর) দুপুর ৩টা ৩০ মিনিট থেকে ৪টার মধ্যে পিটিআই পরীক্ষণ বিদ্যালয়ের শিক্ষক রোমান মিয়া (৩৫) ওই ছাত্রীকে বিদ্যালয়ের বাথরুমে যৌন নিপীড়নের চেষ্টা করেন। শিশুটি বাসায় গিয়ে ঘটনার তথ্য জানালে তার পরিবার একইদিন বিকেল ৪টা ৩০ মিনিটে বিদ্যালয়ের অফিসে অভিযোগ জমা দেয়।
বিদ্যালয় বন্ধ থাকায় পিটিআই সুপারিন্টেনডেন্ট মো. আমিনুল ইসলাম ২৩ নভেম্বর সকাল ৯টা ৩০ মিনিটে জরুরি সভার আয়োজন করেন। তবে বিষয়টি এলাকায় দ্রুত ছড়িয়ে পড়ার পর ভিকটিমের পরিবার ও স্থানীয়রা সকাল ১০টার দিকে বিদ্যালয় ঘেরাও করে এবং অভিযুক্ত শিক্ষককে মারধর করেন। পরে মুন্সীগঞ্জ সদর থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে রোমান মিয়াকে উদ্ধার করে মুন্সীগঞ্জ সদর হাসপাতালে চিকিৎসা প্রদান করে থানায় নিয়ে আসে।
বিক্ষুব্ধ জনতা এরপরও বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে অবস্থান নিয়ে পিটিআই সুপারিন্টেনডেন্টের দায়িত্ব অবহেলার অভিযোগ তুলে তার অপসারণের দাবি জানায়। তারা অভিযুক্ত শিক্ষকের ফাঁসির দাবিতে স্লোগান দেয়। পুলিশ, যৌথবাহিনী এবং জেলা প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনেন।
বর্তমানে এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েনসহ নজরদারি জোরদার করা হয়েছে। ভিকটিমের বাবা আব্দুল কুদ্দুসের অভিযোগের ভিত্তিতে মুন্সীগঞ্জ সদর থানা নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন ২০০০-এর ৯(৪)(খ) ধারায় মামলা নং ২৬, তারিখ ২৩ নভেম্বর ২০২৫, রুজু করেছে। আদালতের মাধ্যমে অভিযুক্ত শিক্ষককে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।
মুন্সীগঞ্জ সদর থানার অফিসার ইনচার্জ মো. সাইফুল আলম বলেন, আমরা দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে অভিযুক্তকে উদ্ধার করেছি এবং আইনানুগ ব্যবস্থা নিয়েছি। বর্তমানে পরিস্থিতি সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণে আছে।
জে আই