দেশ টেলিভিশন লিমিটেড, কর্ণফুলী মিডিয়া পয়েন্ট, ৪২, শহীদ সাংবাদিক সেলিনা পারভীন সড়ক, মালিবাগ, ঢাকা-১২১৭, বাংলাদেশ।
টেলিফোন: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৫৮, ৮৩৩২৯২২ ফ্যাক্স: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৮১ মেইল: [email protected]

ইট–পাথরের ব্যস্ত শহুরে জীবনে একটু স্বস্তি পেতে মানুষ ছুটে যায় প্রকৃতির সান্নিধ্যে। শরৎ এলে নদীর চরে সাদা শুভ্র কাশফুল শুধু সৌন্দর্যই ছড়ায় না এটি নদী পাড়ের মানুষের জীবিকারও অন্যতম ভরসা হয়ে ওঠে। খরচ ছাড়াই জন্ম নেওয়া এ কাশগাছ বিক্রি করে বছরে একবার উল্লেখযোগ্য আয় করছেন চরাঞ্চলের বাসিন্দারা।
সরেজমিনে দেখা গেছে, কুড়িগ্রামের ধরলা, তিস্তা, দুধকুমার ও ব্রহ্মপুত্র নদীর বিস্তীর্ণ চর এখন কাশগাছ কাটার ব্যস্ততায় সরগরম। বন্যার পানি সরে গেলে এসব বালুময় চরজমিতে কোনো পরিচর্যা ছাড়াই নিজে নিজেই বেড়ে ওঠে কাশগাছ। ফুল ঝরে যাওয়ার পর কৃষকরা গাছ কেটে রোদে শুকিয়ে বাজারজাত করেন। জমি আবাদ বা পরিচর্যার কোনো ঝামেলা নেই তবু এই কাশ বিক্রি করেই ঘুরে দাঁড়ান অনেক পরিবার।
স্থানীয় কৃষকরা জানান, কাশগাছ সংগ্রহে কোনো খরচ লাগে না। “আমরা শুধু কেটে শুকাই। এ সময়টাতেই হাতে কিছু টাকা পাই। কাশই আমাদের পরিবার চালায়,” বলেন এক কৃষক। শুকনো কাশের প্রতিটি বোঝা বিক্রি হচ্ছে ৫ থেকে ১০ টাকায়। আর প্রতি বিঘায় কৃষকের আয় হচ্ছে গড়ে ১৫ থেকে ২০ হাজার টাকা যা নদীভাঙন ও কর্মহীনতার মধ্যে তাদের জন্য বড় স্বস্তি।
মৌসুমি এই কর্মযজ্ঞ দিনমজুরদের জন্যও আশীর্বাদ। কাজের অভাবে দীর্ঘ সময় বেকার থাকা শ্রমিকদের জন্য কাশ কাটার মৌসুমই ভরসার জায়গা।
দিনমজুর রহিম বলেন, বছরের অনেক সময় কাজ থাকে না। কাশ কাটার মৌসুমে কয়েকদিন কাজ পাই এটুকুই দিয়ে পরিবারটা চালাই।
রাজশাহী থেকে কাশগাছ কিনতে আসা ব্যবসায়ী আবুল হোসেন জানান, কুড়িগ্রামের বিভিন্ন চরে প্রচুর কাশ পাওয়া যায়। এসব কাশ দিয়ে পানের বড়জ তৈরি করেন পানচাষীরা। এই ব্যবসা করে ভালোই লাভ হচ্ছে বলেন তিনি।
কুড়িগ্রাম কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক আব্দুল্লাহ আল মামুন বলেন, কাশ শুধু আয়ের উৎস নয় এটি চরের বালুময় মাটিতে পলি ধরে রাখে, মাটির ক্ষয় রোধ করে এবং পরিবেশের জন্যও অত্যন্ত উপকারী।
এদিকে কুড়িগ্রাম সরকারি কলেজের অধ্যক্ষ মীর্জা মো. নাসির উদ্দিন মনে করেন, কাশগাছকে শিল্পজাত পণ্যে রূপ দিতে পারলে নতুন সম্ভাবনার দুয়ার খুলবে।
তিনি আরও জানান,বায়ুদূষণ কমাতেও কাশগাছ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে এই কাশগাছ দিয়ে পর্যটন, হস্তশিল্প বা ওষুধ শিল্পে কাশ ব্যবহার করা গেলে নদী পাড়ের অর্থনীতিতে নতুন প্রাণ আসবে।