দেশ টেলিভিশন লিমিটেড, কর্ণফুলী মিডিয়া পয়েন্ট, ৪২, শহীদ সাংবাদিক সেলিনা পারভীন সড়ক, মালিবাগ, ঢাকা-১২১৭, বাংলাদেশ।
টেলিফোন: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৫৮, ৮৩৩২৯২২ ফ্যাক্স: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৮১ মেইল: [email protected]

ময়মনসিংহে জেল থেকে বেরিয়ে রেলওয়ের জমিতে আওয়ামী লীগ নেতার মার্কেট নির্মাণকে ঘিরে উত্তেজনা বিরাজ করছে। এতে হট্টগোল সৃষ্টি হলে ঘটনাস্থলে ছুটে যান রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ ও পুলিশ। অবৈধভাবে গড়ে তোলা মার্কেট ভেঙে ফেলারও নির্দেশনা দেন তারা। এদিকে স্থানীয়রা বলছেন, আওয়ামী লীগের প্রভাব খাটিয়ে মুসা মিয়া দীর্ঘদিন ধরে রেলওয়ের জমি ভোগদখল করে আসছেন। এতে করে প্রায়ই ঘটছে দুর্ঘটনা।
পুলিশের বিশেষ ক্ষমতা আইনের মামলায় ৪৬ দিন জেল খেটে গত ৭ অক্টোবর জামিনে বের হন ময়মনসিংহ নগরীর তিনকোনা পুকুর পাড়ের বাসিন্দা আলহাজ্ব মুসা মিয়া। জামিনে বের হয়েই তিনি বাড়ি সংলগ্ন রেললাইনের পাশে নির্মাণ করেন টিনশেডের মার্কেট। ১২টি দোকান বানিয়ে ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে জামানত হিসেবে নগদ টাকাও নেন এই আওয়ামী লীগ নেতা।
গত বুধবার (১৯ নভেম্বর) মার্কেট নির্মাণকে কেন্দ্র করে এলাকাবাসী ও মুসা মিয়ার মধ্যে হট্টগোল সৃষ্টি হলে ছুটে যান পুলিশ ও রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ। মার্কেটটি রেলওয়ে জমির মধ্যে হওয়ায় তা ভেঙে ফেলার নির্দেশনা দেন। কিন্তু এখনও পর্যন্ত মার্কেটি ভাঙা হয়নি। এ নিয়ে স্থানীয়ভাবে বিরাট উত্তেজনা বিরাজ করছে।
তিনকোনা পুকুর পাড়ের বাসিন্দা ইমন হাসান বলেন, এই এলাকায় রেললাইনের একপাশে ৪৬ ফুট এবং অন্যপাশে ১৮ ফুট করে রেলের জায়গা। যে পাশে ১৮ ফুট করে রেলের জায়গা সেই পাশে রেললাইন থেকে পাঁচ ফুট দূরত্ব ফাঁকা রেখে মুসা মিয়া মার্কেট নির্মাণ করেছেন। যা পুরোটাই অবৈধ।
আয়নাল হক নামে আরেকজন বলেন, গুগল বলছে ২৪১ দাগ পুরোটা রেলের জায়গা। তাহলে মুসা মিয়া কীভাবে নকশা অনুযায়ী সেই জায়গা তার দাবি করে মার্কেট নির্মাণ করলেন? সে জেল থেকে বের হয়েই এই কাজটি করে এলাকাবাসীর মধ্যে ক্ষোভের সৃষ্টি করেছে।
জামতলা মোড় এলাকার মো. জনি বলেন, মুসা মিয়া আওয়ামী লীগ নেতা ও সংগঠনের অর্থের জোগানদাতা। বিশেষ ক্ষমতা আইনের মামলায় ৪৬দিন জেল খেটে এসেই পুরোনো কায়দায় রেলের জায়গা দখল করতে মার্কেট নির্মাণ করেন। জুলাই অভ্যুত্থান পরবর্তী বাংলাদেশে এমনটি কোনোভাবেই হতে দেওয়া হবে না।
হোটেল ব্যবসায়ী মো. রোকন বলেন, মূসা মিয়ার বাসা ঘিরে রেললাইন। তাই ৮—১০ বছর আগে আমার বাবা উনাকে ৫০ হাজার টাকা এককালীন দিয়ে মাসিক ভাড়ায় রেলের জায়গায় একটি দোকান নেন। সম্প্রতি বাবা রেলে কাটা পড়ে মারা গেলে দোকান আমিই পরিচালনা করছি।
নকশা অনুযায়ী জমির মালিকানা দাবি করে মার্কেট নির্মাণের কথা জানিয়ে অভিযুক্ত মুসা মিয়া বলেন, ১৯৬৫ সালে ১৪ শতাংশ জায়গা বাবা কিনে ছিলেন। ১০ শতাংশ জায়গার মধ্যে আমি বাসা করেছি। বাকি ৪ শতাংশ জায়গার মধ্যে মার্কেট নির্মাণ করেছি। বড় ভাই আমার বিপক্ষে চলে গিয়ে আমাকে নানাভাবে হয়রানি করছে। তিনি পরিকল্পিতভাবে মামলায় আমার নাম দিয়ে জেলও খাটিয়েছে। আমি আওয়ামী লীগ সমর্থন করলেও কোথাও নাম পদবি নেই।
কোতোয়ালী মডেল থানার উপ—পরিদর্শক মো. আসাদুজ্জামান বলেন, জায়গা-জমি নিয়ে মুসা মিয়া ও এলাকাবাসীর মধ্যে উত্তেজনা তৈরি হলে সেখানে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনা হয়। রেলওয়ে কর্তৃপক্ষই ভালো বলতে পারবে প্রকৃত পক্ষে জায়গার মালিক কে।
মার্কেটটি রেলওয়ে জমির মধ্যে হওয়ায় তা ভেঙে ফেলার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে জানিয়ে রেলওয়ে ময়মনসিংহ অঞ্চলের সিনিয়র সহকারী নির্বাহী প্রকৌশলী নাজমুল হাসান বলেন, নির্মাণাধীন মার্কেটটি পুরোপুরিভাবে রেলের জমির মধ্যে পড়েছে। উনার বাড়ির কিছু অংশও পড়তে পারে। তাই আগে মার্কেটি ভাঙার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। নির্দেশ অনুযায়ী মার্কেট না ভাঙলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
/অ