দেশ টেলিভিশন লিমিটেড, কর্ণফুলী মিডিয়া পয়েন্ট, ৪২, শহীদ সাংবাদিক সেলিনা পারভীন সড়ক, মালিবাগ, ঢাকা-১২১৭, বাংলাদেশ।
টেলিফোন: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৫৮, ৮৩৩২৯২২ ফ্যাক্স: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৮১ মেইল: [email protected]

আসন্ন ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে ইতোমধ্যেই মনোনয়ন ঘোষণা করেছে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)। ২৩৭টি আসনের জন্য প্রাথমিকভাবে মনোনয়ন ঘোষণা করেছে দলটি। মনোনয়ন ঘোষণার পর বিভিন্ন আসনে প্রার্থীর যোগ্যতা নিয়ে শুরু হয়েছে আলোচনা-সমালোচনা। এবারের নির্বাচনে বিএনপির সবচেয়ে বড় প্রতিপক্ষ হিসেবে ধরা হচ্ছে জামায়াত ইসলামীকে। তাই ভিন্ন ভিন্ন আসনে বিএনপির মনোনীত প্রার্থী শক্তিশালী নাকি দুর্বল তা নিয়ে চলছে ব্যাপক কাটাছেড়া।
মনোনয়নের পর সবচেয়ে বেশি আলোচনায় রয়েছে উত্তরবঙ্গের জেলাগুলো, বিশেষ করে বগুড়া কেন্দ্রীক জেলা। এসব জেলাকে সাধারণত বিএনপির ঘাঁটি বলা হয়। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো জয়পুরহাট জেলা। স্বৈরাচার শাসনের সময় ‘রাতের ভোট’ ও ডামি নির্বাচন বাদ দিলে এই জেলার দুটি আসনেই বিএনপির শক্তিশালী প্রভাব রয়েছে। গত মঙ্গলবার মনোনয়ন ঘোষণার পর সেটি আবারও নিশ্চিত হয়েছে। পাশের জেলা বগুড়া ৬ ও বগুড়া ৭ আসনে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার মনোনয়ন প্রার্থী হয়েছে।
১৯৮৪ সালে গঠিত জয়পুরহাট-১ আসনটি দীর্ঘদিন ধরেই বিএনপির একটি ঐতিহ্যবাহী ও শক্ত অবস্থানের প্রতীক হিসেবে বিবেচিত। ১৯৮৬ থেকে ২০২৪ সাল পর্যন্ত অনুষ্ঠিত দশটি জাতীয় নির্বাচনের মধ্যে চারবার এই আসনে বিজয়ী হয়েছে বিএনপি। এবারের নির্বাচনে বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য ফয়সল আলিম এবং জেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক মাসুদ রানা প্রধান দলটির মনোনয়নের জন্য আলোচনায় ছিলেন। ফয়সল আলিম হলেন প্রয়াত আব্দুল আলিমের পুত্র, যিনি ১৯৯৬ ও ২০০১ সালে পরপর দুইবার এই আসন থেকে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়ে বিএনপি সরকারের মন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছিলেন।
বিএনপির স্থানীয় ও তৃণমূল নেতাকর্মীদের ভাষ্য অনুযায়ী, জয়পুরহাট ও নওগাঁও মত জেলাগুলোতে বিএনপির শক্তিশালী প্রার্থী না দাঁড়ালে নির্বাচনে জয়ের সুযোগ হারানোর সম্ভাবনা রয়েছে। জয়পুরহাট-১ আসনে মনোনয়নপ্রাপ্ত প্রার্থীকে জামায়াত নেতারা খুব বেশি গুরুত্ব দিচ্ছেন না এমনটিও উঠে এসেছে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে। বিএনপির মনোনয়নের পরপরই জয়পুরহাটের অনেকে বিএনপি থেকে জামায়াতে ইসলামীতে যোগ দিয়েছেন। জয়পুরহাট-১ আসনটি জামায়াতে ইসলামীর কাছে হাতছাড়া হওয়ারও সম্ভাবনা দেখছেন অনেকে। স্থানীয় বিএনপি কর্মীদের মতে, এই মনোনয়ন জামায়াতকে একটি অপ্রত্যাশিত সুবিধা এনে দিতে পারে, যার ফলে জয়পুরহাট-১ আসনটি বিএনপির হাতছাড়া হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।
জয়পুরহাট-১ (জয়পুরহাট সদর ও পাঁচবিবি উপজেলা), ঐতিহাসিকভাবে বিএনপির একটি শক্তিশালী ঘাঁটি। বিএনপি থেকে মো. মাসুদ রানা প্রধানকে প্রাথমিক মনোনয়ন দেওয়ায় স্থানীয় রাজনৈতিক মহলে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। বিশেষ করে এই জেলার পাশের বগুড়ার মতো উল্লেখযোগ্য জেলা রয়েছে। সেখানে বিএনপির হেভিওয়েট প্রার্থীদের মনোনয়ন দেওয়া হয়েছে।
বিএনপির স্থানীয় ও তৃণমূল নেতাকর্মীদের ভাষ্য, সেই হিসেবে জয়পুরহাট ও নওগাঁওর মতো জেলাগুলোতে বিএনপির শক্ত প্রার্থী না দাঁড়ালে নির্বাচনে জয়ের সুযোগ হাতছাড়া হয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
জয়পুরহাট-১ আসনে মনোনয়ন পাওয়া প্রার্থীকে জামায়াত নেতারা খুব বেশি গুরুত্ব দিচ্ছে না। স্থানীয় বিএনপি কর্মীদের মতে, এই মনোনয়ন জামায়াতকে একটি অপ্রত্যাশিত সুবিধা এনে দিতে পারে যেখানে জয়পুরহাট-১ আসনটি বিএনপির হাতছাড়া হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।
তৃণমূলের নেতাকর্মীরা অভিযোগ করেছেন, জামায়াত বিএনপির প্রার্থীদের দুর্বল দিকগুলো স্থানীয় মানুষদের সামনে তুলে ধরছে। বিশেষ করে প্রার্থীদের বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি, আওয়ামী লীগ কর্মীদের পুনর্বাসনে হস্তক্ষেপ, আত্মীয়প্রীতি এবং অর্থ লেনদেনের মাধ্যমে কমিটি গঠনের অভিযোগ ভোটারদের মধ্যে নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে।
স্থানীয় নেতাকর্মীরা জানান, জয়পুরহাট-১ আসনে মোট ভোটার ৪ লাখ ৬৩ হাজার। এর মধ্যে মরহুম আব্দুল আলিমের প্রায় ৬০ থেকে ৭০ হাজারের মতো নিজস্ব ভোটব্যাংক আজও সক্রিয় রয়েছে, যা ফয়সাল আলিম সহজেই কাজে লাগাতে পারবেন।
আরএ