দেশ টেলিভিশন লিমিটেড, কর্ণফুলী মিডিয়া পয়েন্ট, ৪২, শহীদ সাংবাদিক সেলিনা পারভীন সড়ক, মালিবাগ, ঢাকা-১২১৭, বাংলাদেশ।
টেলিফোন: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৫৮, ৮৩৩২৯২২ ফ্যাক্স: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৮১ মেইল: [email protected]

চোখে আলো নেই, তবু মায়ের হৃদয়ে সন্তানকে বাঁচানোর আকুল আকুতি। শরীয়তপুর সদর উপজেলার চিকন্দী গ্রামের পশ্চিম আটপাড়ার অন্ধ নারী জোসনা বেগম এখন মানবতার প্রতীক হয়ে উঠেছেন। অন্ধত্ব আর অভাব—দুয়ের ভারে নুয়ে পড়েও সন্তানকে বাঁচাতে থেমে যাননি তিনি।
দুই বছর আগে ভয়াবহ ব্রেনস্ট্রোকে দুই চোখের দৃষ্টি হারান জোসনা বেগম। তখন থেকেই অন্ধকার নামে তার জীবনে। সেই অন্ধকার আরও গভীর হয় যখন মাত্র ছয় দিনের শিশু ছেলে আব্দুল্লাহকে হাসপাতাল থেকে অপহরণ করে দুর্বৃত্তরা। কিছুই দেখতে না পারা জোসনা শুধু সন্তানের কান্নার শব্দ শুনেছিলেন। পরে অপহরণকারীরা শিশুটিকে ঘুমের ইনজেকশন দেয়, যাতে সে চুপ থাকে।
বাবার সম্পত্তি বিক্রি ও মানুষের সহায়তায় জোসনা কোনোভাবে সন্তানকে অপহরণকারীদের হাত থেকে উদ্ধার করেন। কিন্তু অতিরিক্ত ঘুমের ইনজেকশনের কারণে ছোট্ট আব্দুল্লাহর হৃদযন্ত্র দুর্বল হয়ে পড়ে। এখন সে গুরুতর হৃদরোগে ভুগছে।
সন্তানের চিকিৎসার জন্য ভিক্ষা করে প্রায় পাঁচ লাখ টাকা ব্যয় করেন জোসনা। এতে কিছুটা সুস্থ হয় শিশু আব্দুল্লাহ। কিন্তু বিপদ কাটেনি। আরও উন্নত চিকিৎসার জন্য প্রয়োজন প্রায় চার লাখ টাকা, যা জোগাড় করা তার পক্ষে অসম্ভব।
২০২৩ সালে স্বামী চাঁন মিয়া দুই সন্তানকে রেখে নিজ জীবনের ঠিকানায় চলে যান। তারপর থেকে নিঃস্ব, অন্ধ ও অসহায় জোসনা দুই সন্তানকে নিয়ে শরীয়তপুরের বিভিন্ন স্থানে রাতদিন কাটাচ্ছেন। নিজের বাবার বাড়িতেও ঠাঁই হয়নি তার।
বর্তমানে শরীয়তপুর সদর হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় রয়েছেন জোসনার সন্তান আব্দুল্লাহ। চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, উন্নত চিকিৎসা না পেলে শিশুটির অবস্থা আরও অবনতির দিকে যেতে পারে।
সন্তানকে বাঁচাতে শেষ সম্বলও বিক্রি করে দিয়েছেন জোসনা বেগম। এখন তিনি সরকারের সহায়তা ও সমাজের মানবিক মানুষের দিকে চেয়ে আছেন। স্থানীয়রা জানিয়েছেন, জোসনা ও তার অসুস্থ সন্তানের পাশে দাঁড়ানো এখন সময়ের দাবি।
জোসনার দুর্দশার খবর পেয়ে উপজেলা প্রশাসন বিষয়টি যাচাই করে তাদের আর্থিক ও চিকিৎসা সহায়তার আশ্বাস দিয়েছে।
/অ