দেশ টেলিভিশন লিমিটেড, কর্ণফুলী মিডিয়া পয়েন্ট, ৪২, শহীদ সাংবাদিক সেলিনা পারভীন সড়ক, মালিবাগ, ঢাকা-১২১৭, বাংলাদেশ।
টেলিফোন: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৫৮, ৮৩৩২৯২২ ফ্যাক্স: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৮১ মেইল: [email protected]

পটুয়াখালীর কুয়াকাটায় শুঁটকি মৌসুম শুরু না হতেই পল্লী নির্মাণে ব্যস্ত সময় পার করছেন শ্রমিকরা। শীতের বাজার ধরতে শুঁটকি পল্লীগুলোতে এখন দিনরাত চলছে চাং, ঘর ও দোকান নির্মাণের কাজ। স্থানীয় ব্যবসায়ীরা জানান, প্রায় চার মাসের মৌসুমে কোটি টাকার কেমিক্যালমুক্ত শুঁটকি বিক্রি হয়।
সরেজমিনে দেখা গেছে, শ্রমিকরা পল্লী তৈরির কাজে দম ফেলার ফুরসতও পাচ্ছেন না। কুয়াকাটার শুঁটকি ব্যবসায়ীরা দীর্ঘদিন ধরে কেমিক্যালমুক্ত ও পরিচ্ছন্নভাবে শুঁটকি উৎপাদন করে দেশ-বিদেশে সুনাম অর্জন করেছেন। এ বছরও শীতের শুরুতেই প্রস্তুত চলছে পুরোদমে, আর কয়েকদিনের মধ্যেই শুরু হবে শুঁটকি তৈরির কাজ, যা চলবে প্রায় সাড়ে চার মাস।
স্থানীয় শ্রমিক মো. বেল্লাল বলেন, ‘নভেম্বরের শুরুতেই শুঁটকি মৌসুম শুরু হয়। তাই এখন দিনরাত পরিশ্রম করে পল্লী তৈরির কাজ করছি। মাছ ধরার নৌযানগুলো সমুদ্র থেকে ফিরে এলেই শুরু হবে শুঁটকি তৈরির ব্যস্ততা।’
তিনি আরও বলেন, ‘একটি পল্লী নির্মাণে প্রায় ১৮ দিন সময় লাগে। এখানে কেমিক্যাল ছাড়াই পরিচ্ছন্ন পরিবেশে শুঁটকি তৈরি করা হয়, ফলে অনেক শ্রমিকের কর্মসংস্থান হচ্ছে।’
ব্যবসায়ীরা জানান, অনুকূল আবহাওয়া ও পর্যাপ্ত মাছ ধরা পড়লে এ বছর শুঁটকি উৎপাদনে ভালো মৌসুম যাবে বলে আশা করছেন তারা। মৌসুম ঘিরে স্থানীয়দের জন্য তৈরি হয়েছে মৌসুমি কর্মসংস্থানের সুযোগও।
দীর্ঘ ২০ বছর ধরে শুঁটকি প্রস্তুতকারী ইউসুফ মৃধা বলেন, ‘এ পল্লীতে লইট্ট্যা, ফাইস্যা, ছুরি, ছোট চিংড়ি, পোয়া, রূপচাঁদা, লাক্ষাসহ প্রায় ৩০ প্রজাতির মাছ শুঁটকি করা হয়। প্রতিবছর কয়েক কোটি টাকার শুঁটকি বিক্রি হয়।’
কলাপাড়া উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও পৌর প্রশাসক ইয়াসীন সাদেক বলেন, ‘কুয়াকাটায় শুঁটকি প্রস্তুতকারীদের জন্য পরিকল্পিতভাবে একটি স্থায়ী জায়গা তৈরি করা হচ্ছে, যাতে কেউ বিশৃঙ্খলভাবে শুঁটকি শুকাতে না পারে। কাজ ইতোমধ্যে চলছে, দ্রুত বাস্তবায়ন করা হবে।’
এমএস/