দেশ টেলিভিশন লিমিটেড, কর্ণফুলী মিডিয়া পয়েন্ট, ৪২, শহীদ সাংবাদিক সেলিনা পারভীন সড়ক, মালিবাগ, ঢাকা-১২১৭, বাংলাদেশ।
টেলিফোন: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৫৮, ৮৩৩২৯২২ ফ্যাক্স: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৮১ মেইল: [email protected]

সড়ক ভালো থাকা সত্ত্বেও পুনর্নির্মাণের নামে সরকারি অর্থ নয়ছয়ের অভিযোগ উঠেছে নেত্রকোনার মদনে। তিন বছরের মেয়াদি ফিটনেস থাকা একটি নতুন সড়কে কোনো ধরনের এস্টিমেট ছাড়াই প্রায় দুই কোটি টাকার পুনর্নির্মাণ কাজ করছে মদন পৌরসভা। বিষয়টি নিয়ে স্থানীয়দের মধ্যে তীব্র সমালোচনা তৈরি হয়েছে।
স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি) সূত্রে জানা গেছে, মদন-কেন্দুয়া ইউজেডআর ভাটি মনোহরপুর ভায়া দেওয়ান বাজার সড়কটি ২০২৪ সালে এলজিইডির মাধ্যমে নির্মিত হয়। প্রায় ১ কোটি ৫৫ লাখ টাকা ব্যয়ে ‘রাহাত এন্টারপ্রাইজ’ নামের একটি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান ২০২৪ সালের জুন মাসে কাজটি সম্পন্ন করে। তথ্য অনুযায়ী, সড়কটির ফিটনেস রয়েছে তিন বছরের।
এরই মধ্যে একই সড়কের অংশবিশেষে নতুন করে নির্মাণ কাজ শুরু করেছে মদন পৌরসভা।
পৌরসভা সূত্রে জানা গেছে, স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের আইইউজিআইপি প্রকল্পের আওতায় মদন পল্লিবিদ্যুৎ সাব-স্টেশন থেকে জাহাঙ্গীরপুর ফাজিল মাদরাসা পর্যন্ত ৮০৫ মিটার সড়কের পুনর্নির্মাণে ১ কোটি ৯০ লাখ টাকা ব্যয়ে কাজ চলছে। কাজটি বাস্তবায়ন করছে ‘কবির সিন্ডিকেট সেন্স’ নামের একটি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান। ২০২৪ সালের ২৩ জুলাই কাজ শুরু হয়ে ২০২৫ সালের ২৪ জুলাই শেষ হওয়ার কথা রয়েছে।
তবে স্থানীয়রা অভিযোগ করেছেন, সম্পূর্ণ ব্যবহার উপযোগী ও নতুন সড়কে কোনো প্রকার এস্টিমেট ছাড়াই কাজ চলছে—যা মূলত সরকারি অর্থ আত্মসাতের উদ্দেশ্যেই করা হচ্ছে।
ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান সূত্রে জানা গেছে, নিয়ম অনুযায়ী বক্সকাটিং করে বালু ফেলে সিসি ঢালাই দেওয়ার কথা থাকলেও পুরোনো পাকা সড়কের ওপরই নতুন ঢালাই দিচ্ছে তারা।
‘কবির সিন্ডিকেট সেন্স’-এর প্রতিনিধি আব্দুল্লাহ আল রোমান বলেন, সড়কটির পুরাতন এস্টিমেট বাতিল করে নতুন এস্টিমেট করার কথা। আমাকে ড্রয়িং দেওয়া হয়েছে, আমি সেই অনুযায়ী কাজ করছি। নতুন এস্টিমেট এখনো হাতে পাইনি।
মদন পৌরসভার উপ-সহকারী প্রকৌশলী জামিল হাসান বলেন, ৮০৫ মিটারের স্থলে ১ হাজার ২০০ মিটার সড়ক নির্মাণের সিদ্ধান্ত হয়েছে। যেহেতু আগের সড়কের ওপর ঢালাই হচ্ছে, তাই বক্সকাটিং ও বালু ফেলার বিষয়টি বাদ দেওয়া হয়েছে। ড্রয়িং অনুযায়ী প্রায় অর্ধেক কাজ সম্পন্ন হয়েছে, তবে নতুন এস্টিমেট এখনো হাতে আসেনি।
এ বিষয়ে মদন উপজেলা প্রকৌশলী এস এম শাহাদত হোসেন বলেন, এই সড়কটি ২০২৪ সালে এলজিইডির মাধ্যমে নির্মিত এবং তিন বছরের ফিটনেস রয়েছে। সেখানে পৌরসভার পুনরায় কাজের বিষয়ে আমাদের কোনো মতামত চাওয়া হয়নি।
মদন পৌরসভার প্রশাসক ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. অলিদুজ্জামান বলেন, স্থানীয় লোকজনের মতামতের ভিত্তিতেই কাজটি শুরু করা হয়েছে। তবে এস্টিমেট ছাড়া কাজ করা সম্ভব নয়। বিষয়টি খতিয়ে দেখা হবে।
এ নিয়ে স্থানীয়দের দাবি—ফিটনেস থাকা সড়কে পুনরায় কাজ করে সরকারি অর্থের অপচয় ও নয়ছয় হচ্ছে। তারা দ্রুত তদন্তের মাধ্যমে দায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন।
/অ