দেশ টেলিভিশন লিমিটেড, কর্ণফুলী মিডিয়া পয়েন্ট, ৪২, শহীদ সাংবাদিক সেলিনা পারভীন সড়ক, মালিবাগ, ঢাকা-১২১৭, বাংলাদেশ।
টেলিফোন: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৫৮, ৮৩৩২৯২২ ফ্যাক্স: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৮১ মেইল: [email protected]

বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ে (বাকৃবি) অবরুদ্ধ দুইশো শিক্ষক কর্মকর্তাদের উদ্ধারে হামলা চালিয়েছে বহিরাগতরা। এতে সাংবাদিক শিক্ষার্থীসহ কমপক্ষে ১০জন আহত হয়েছে। ঘটনার পর সাধারণ শিক্ষার্থীরা ভিসির বাসভবন ঘেরাও করে বিক্ষোভ কর্মসূচি করছে।
ভেটেরিনারি অনুষদ এবং পশু পালন অনুষদের শিক্ষার্থীদের প্রায় এক মাস ধরে কম্বাইন্ড ডিগ্রির দাবিতে আন্দোলন চলছে। দুই অনুষদের ডিগ্রিকে একীভূত করে একটি কম্বাইন্ড ডিগ্রি দেওয়ার দাবি জানিয়ে শিক্ষার্থীরা প্রশাসনের কাছে দাবি জানিয়ে আসছেন।
সম্প্রতি বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের মধ্যে এ বিষয়ে ভোটাভুটি অনুষ্ঠিত হলেও বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন এখনো কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত দেয়নি।
রোববার (৩১ আগস্ট) একাডেমিক কাউন্সিলের মিটিংয়ে বিষয়টি সমাধান না হওয়ায় দুপুর একটার দিকে শিল্পাচার্য জয়নুল আবেদিন মিলনায়তনে ভিসিসহ প্রায় দুইশো শিক্ষক কর্মকর্তাকে আটকে রেখে সামনে তালা মেরে দেন শিক্ষার্থীরা।
বিষয়টি সমাধানে ছুটে যান জেলা প্রশাসক মফিদুল আলম, জেলা পুলিশ সুপার কাজী আখতার উল আলমসহ প্রশাসনের উদ্বর্তন কর্মকর্তারা।
তবে শিক্ষার্থীরা তাদের দাবিতে অনড় অবস্থানে থাকেন। পরে সন্ধ্যা সাড়ে সাতটার দিকে ভিসির বাসভবনের পাশ থেকে ২৫০-৩০০ জন বহিরাগত দেশীয় অস্ত্র নিয়ে শিক্ষার্থীদের ধাওয়া করে। শিক্ষার্থীরা ছত্রভঙ্গ হয়ে পড়লে বহিরাগতরা তালা ভেঙে দিলে অবরুদ্ধ শিক্ষকরা বেরিয়ে যায়। এসময় সাংবাদিক শিক্ষার্থীসহ কমপক্ষে ১০জন আহত হয়।
হামলায় আহত স্থানীয় দৈনিক ব্রহ্মপুত্র এক্সপ্রেস পত্রিকার স্টাফ রিপোর্টার আনিসুর রহমান ফারুক বলেন, সন্ধ্যার পর জেলা প্রশাসক এবং পুলিশ সুপার যখন আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের বুঝাচ্ছিলেন ঠিক তখনই বহিরাগত ২৫০-৩০০জন দেশীয় অস্ত্র নিয়ে শিক্ষার্থীদের ধাওয়া করে। পরে শিক্ষার্থীরা ছত্রভঙ্গ হয়ে পড়লে বহিরাগতরা তালা ভেঙে দিলে শিক্ষকরা বেরিয়ে যায়। এসময় প্রশাসনের লোকজন দাঁড়িয়ে ছিলেন। আমিও রাস্তায় দাঁড়িয়ে থাকা অবস্থায় একজন এসে আমার গাঁঢ়ে আঘাত করে। এতে রক্তাক্ত জখম হই।
আহত আঙ্গর টিভির সাংবাদিক সালমান সাদিক শাওন বলেন, হঠাৎ করে এমন হামলা হবে বুঝতে পারিনি। হামলাকারীরা আমাকে লাঠি দিয়ে আঘাত করেছে।
ভেটেরিনারী অনুষদের অধ্যাপক আমিনুল ইসলাম বলেন, কিছু ছেলে পেলে এসে তালা ভেঙে দিলে আমরা বের হই। কিন্তু এটা কোন সমাধান নয়। আমরা চাই বিষয়টির সুষ্ঠু সুরাহা হোক। বেশির শিক্ষক সমন্বিত ডিগ্রির পক্ষে কিন্তু গুটিকয়েক শিক্ষকের কারণে এই অবস্থা।
কোতোয়ালি মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মুহাম্মদ শিবিরুল ইসলাম বলেন, শিক্ষার্থীরা তাদের দাবিতে আন্দোলন করে আসছে, কিন্তু আজকে দুপুর থেকে শিক্ষকদের অবরুদ্ধ করে রাখা হয়। এক পর্যায়ে কিছু লোকজন শিক্ষার্থীদের ধাওয়া দিয়ে তাদের উদ্ধার করে। এনিয়ে ক্যাম্পাসে উত্তেজনা বিরাজ করছে। আমরা বিষয়টি সমাধানের লক্ষ্যে কাজ করছি।
এফএইচ/