দেশ টেলিভিশন লিমিটেড, কর্ণফুলী মিডিয়া পয়েন্ট, ৪২, শহীদ সাংবাদিক সেলিনা পারভীন সড়ক, মালিবাগ, ঢাকা-১২১৭, বাংলাদেশ।
টেলিফোন: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৫৮, ৮৩৩২৯২২ ফ্যাক্স: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৮১ মেইল: [email protected]

শরীয়তপুরের জাজিরায় তুচ্ছ ঘটনাকে কেন্দ্র করে সংঘাতের জেরে চাচাকে ছুরিকাঘাতে খুনের অভিযোগ উঠেছিল ভাতিজার বিরুদ্ধে। তবে ঘটনার মাত্র একদিন পরেই সেই ভাতিজার বস্তাবন্দি মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। একই ঘটনায় দুই মৃত্যুকে ঘিরে এলাকায় দেখা দিয়েছে রহস্য ও আতঙ্ক।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, মঙ্গলবার (২৬ আগস্ট) রাতে ফজরের আযান ও বয়ান দেওয়া নিয়ে দ্বন্দ্বের জেরে খবির সরদারকে (৫৫) ছুরিকাঘাতে হত্যা করেন তার চাচাতো ভাইয়ের ছেলে আলমাস সরদার (২৮)। এমন অভিযোগ তোলে নিহতের পরিবার। ঘটনার পর থেকে নিখোঁজ ছিলেন আলমাস। সবাই ভেবেছিল, হত্যার পর তিনি পালিয়ে গেছেন।
তবে বৃহস্পতিবার (২৮ আগস্ট) গভীর রাতে প্রশাসন ও স্থানীয় গণমাধ্যমকর্মীদের নিয়ে খোঁজ চালালে আবুল কালাম সরদারের বাড়ির পেছনে মাটি চাপা দেওয়া অবস্থায় আলমাসের বস্তাবন্দি মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। স্বজনদের অভিযোগ, খবির সরদারের অনুসারীরাই তাকে হত্যা করে মরদেহ গুমের চেষ্টা করেছে।
খবির সরদারের স্ত্রী মেঘনা বলেন, 'ফজরের আযান ও বয়ান দেওয়া নিয়ে স্বামীর সঙ্গে আলমাসের কথা কাটাকাটি হয়। একপর্যায়ে আলমাস ও তার লোকজন স্বামীকে ছুরি মেরে হত্যা করে। আমি এই হত্যাকাণ্ডের সুষ্ঠু বিচার চাই।'
অন্যদিকে নিহত আলমাসের বোন হালিমা অভিযোগ করেন, 'আমার ভাইকে খবির সরদারের লোকজন কুপিয়ে হত্যা করেছে। পরে মরদেহ গুম করতে চেয়েছিল। আমরা দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি চাই।'
এমন ঘটনা স্থানীয়দেরও হতবাক করেছে। সালেহা নামে এক বাসিন্দা বলেন, 'ফজরের আযান ও বয়ান নিয়ে দ্বন্দ্ব থেকে একসঙ্গে দুই খুন হয়েছে। এ ঘটনায় আমরা আতঙ্কে আছি। তদন্ত করে দোষীদের শাস্তি নিশ্চিত করা হোক।'
জাজিরা থানার ওসি মাইনুল ইসলাম জানান, 'খবির সরদার হত্যার আসামি আলমাস সরদারের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। ময়নাতদন্তের জন্য সদর হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। ঘটনার প্রকৃত কারণ খতিয়ে দেখা হচ্ছে। দ্রুত সময়ের মধ্যে জড়িতদের আইনের আওতায় আনা হবে।'
এফএইচ/