দেশ টেলিভিশন লিমিটেড, কর্ণফুলী মিডিয়া পয়েন্ট, ৪২, শহীদ সাংবাদিক সেলিনা পারভীন সড়ক, মালিবাগ, ঢাকা-১২১৭, বাংলাদেশ।
টেলিফোন: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৫৮, ৮৩৩২৯২২ ফ্যাক্স: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৮১ মেইল: [email protected]

নওগাঁর মহাদেবপুরে বুদ্ধি প্রতিবন্ধী এক গৃহবধূকে ধর্ষণের পর গ্রাম্য শালিসে জরিমানা নিয়ে ধর্ষককে ছেড়ে দেওয়ার পাশাপাশি ওই নির্যাতিতা গৃহবধূকে তালাক দেওয়ানোর ঘটনা ঘটেছে।
প্রকাশ্য দিবালোকে শতাধিক মানুষের উপস্থিতিতে অনুষ্ঠিত শালিসে নির্যাতিতা গৃহবধূর কান্না ও প্রতিবাদের পরও মাতব্বররা ধর্ষককে আইনের হাতে না তুলে উল্টো ভুক্তভোগীকেই শাস্তি দেন। এ ঘটনায় এলাকায় তোলপাড় চলছে।
স্থানীয়রা জানান, উপজেলার সফাপুর ইউনিয়নের গোবিন্দপুর গ্রামের দেলোয়ার হোসেনের ছেলে শামীম হোসেন (গ্রাম্য পশু চিকিৎসক) প্রতিবেশী এক যুবকের সঙ্গে সখ্য গড়ে প্রায়ই তার বাড়িতে যাতায়াত করতেন। গত ১৭ আগস্ট সকালে ওই বাড়িতে একা থাকা বুদ্ধি প্রতিবন্ধী স্ত্রীকে ফুসলিয়ে ধর্ষণ করেন শামীম। বিষয়টি জানাজানি হলে স্থানীয়রা শামীমকে আটক করে মারধর করে। পরে দুপুরে গ্রামে শালিস ডাকা হয়।
শালিসে নির্যাতিতা গৃহবধূ বারবার শামীমের শাস্তি দাবি করে বলেন, “সে আমার জীবন নষ্ট করেছে, আমি তাকে ছাড়বো না।” কিন্তু স্থানীয় মাতাব্বর ডাক্তার মোয়াজ্জেম হোসেন ও মাজেদ আলীর নেতৃত্বে শালিসে রায় দেওয়া হয়—ধর্ষক শামীম এক লাখ ১০ হাজার টাকা জরিমানা দিবে এবং ভুক্তভোগী গৃহবধূকে তার স্বামী তালাক দেবে। পরে নগদ জরিমানা পরিশোধ করে শামীম মুক্তি পান। এ সময় দেনমোহরও পরিশোধ না করেই নির্যাতিতা গৃহবধূকে তালাক দেন তার স্বামী।
এ বিষয়ে স্থানীয়রা ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, ফৌজদারি অপরাধ হওয়া সত্ত্বেও ধর্ষণের মতো ঘটনায় শালিস কিভাবে হয়, তা বোধগম্য নয়। এতে অপরাধীরা আরও উৎসাহিত হচ্ছে।
ধর্ষক শামীম নিজেও জরিমানা দেওয়ার বিষয়টি স্বীকার করেছেন। আর মাতাব্বর মোয়াজ্জেম হোসেন মোবাইল ফোনে বলেন, “ছেলের পরিবার আর মেয়ের পরিবার উভয়েই তালাক চাওয়ায় রায় দেওয়া হয়েছে। জরিমানার টাকা মেয়েকে দেওয়া হয়েছে।”
মহাদেবপুর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) শাহীন রেজা জানান, এ বিষয়ে তাকে কেউ অবহিত করেনি। অভিযোগ পেলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, এলাকায় ধর্ষণের মতো গুরুতর অপরাধে শালিস করার প্রবণতা বাড়ায় আইনের শাসনকে দুর্বল করছে। দোষীদের আইনের আওতায় না আনায় অপরাধপ্রবণতা বাড়ছে বলেও তারা দাবি করেছেন।
আরএ