দেশ টেলিভিশন লিমিটেড, কর্ণফুলী মিডিয়া পয়েন্ট, ৪২, শহীদ সাংবাদিক সেলিনা পারভীন সড়ক, মালিবাগ, ঢাকা-১২১৭, বাংলাদেশ।
টেলিফোন: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৫৮, ৮৩৩২৯২২ ফ্যাক্স: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৮১ মেইল: [email protected]

দীর্ঘ এক দশকের অধিক সময়ের প্রতীক্ষা আর আকাঙ্খার অবসান ঘটিয়ে তিস্তা নদীর ওপর দাঁড়িয়ে গেল যুগান্তকারী এক স্থাপত্য। গাইবান্ধার হরিপুর ও চিলমারীকে সংযুক্ত করে উত্তরাঞ্চলের যোগাযোগ ও অর্থনীতিতে নতুন গতির সঞ্চার করল বহুল প্রতীক্ষিত ‘মাওলানা ভাসানী সেতু’। আনুষ্ঠানিকভাবে উদ্বোধন হওয়া এই সেতু কেবল একটি নির্মাণ প্রকল্পই নয়, হয়ে উঠেছে উন্নয়ন ও সম্ভাবনার নতুন প্রতীক।
বুধবার (২০ আগস্ট) দুপুরে গাইবান্ধায় এক উৎসবমুখর পরিবেশে সেতুটির ফলক উন্মোচনের মাধ্যমে এর কার্যক্রমের সূচনা করেন অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে মোনাজাতের মধ্য দিয়ে সেতুর সুরক্ষা ও কল্যাণ কামনা করা হয়। এরপর আনুষ্ঠানিকভাবে ফিতা কেটে সেতুটি সর্বসাধারণের জন্য উন্মুক্ত করে দেওয়া হয়। উৎসুক জনতার ভিড়ে উপচে পড়েছিল সেতুর দুই প্রান্ত। স্থানীয় বাসিন্দাদের সঙ্গে করমর্দন এবং আনন্দ ভাগাভাগি করেন উপদেষ্টা।
এর আগে গত ১০ আগস্ট স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের স্থানীয় সরকার বিভাগ সেতুটির নামকরণ সংক্রান্ত সরকারি প্রজ্ঞাপন জারি করে। সেখানে বলা হয়, ১৪৯০ মিটার দীর্ঘ এই পিসি গার্ডার সেতুটি হবে ‘মওলানা ভাসানী সেতু, গাইবান্ধা’।
২০১৪ সালের ২৫ জানুয়ারি তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে এ সেতুর ভিত্তিপ্রস্তর উদ্বোধন করেন। নানা জটিলতা ও একাধিকবার তারিখ পরিবর্তনের পর অবশেষে ১১ বছর পর চালু হলো এই সেতু।
সেতুটি নির্মাণে ব্যয় হয়েছে প্রায় ৮৮৫ কোটি টাকা। সৌদি সরকারের অর্থায়নে এবং চায়না স্টেট কনস্ট্রাকশন ইঞ্জিনিয়ারিং লিমিটেডের তত্ত্বাবধানে স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি) এই মেগা প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করে। ১৪৯০ মিটার দৈর্ঘ্যের এই পিসি গার্ডার সেতুটি এলজিইডির ইতিহাসের সবচেয়ে বড় প্রকল্প। সেতুর পাশাপাশি নির্মাণ করা হয়েছে ৮০ কিলোমিটার এক্সেস রোড, ৫৮টি বক্স কালভার্ট ও ৯টি আরসিসি ব্রিজ। নির্মাণ কাজে ব্যবহার করা হয়েছে ২৯০টি পাইল, ৩০টি পিলার, ২৮টি স্প্যান এবং ১৫৫টি গার্ডার।
এই সেতু চালু হওয়ায় কেবল যাতায়াতের সময়ই কমায়নি, এটি গাইবান্ধা ও কুড়িগ্রাম জেলার কৃষি পণ্য পরিবহন, শিল্পায়ন, শিক্ষা ও স্বাস্থ্যসেবা প্রাপ্তি এবং পর্যটন বিকাশে বিরাট ভূমিকা রাখবে বলে প্রত্যাশা স্থানীয় জনগোষ্ঠী ও অর্থনীতিবিদদের। এলাকাবাসীর ধারণা, এই সেতুকে কেন্দ্র করে গড়ে উঠবে নতুন শিল্প-কারখানা, বাণিজ্যিক কেন্দ্র, যা তৈরি করবে হাজার হাজার নতুন কর্মসংস্থান। সেতু চালু হলে কুড়িগ্রাম থেকে ঢাকার দূরত্ব ৯০ থেকে ১০০ কিলোমিটার কমে যাবে। এতে সময় ও খরচ দুটোই সাশ্রয় হবে। সবচেয়ে বড় কথা, সোনাহাট স্থলবন্দর আর চিলমারী নদীবন্দরের সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগ স্থাপন হবে। এতে ব্যবসা-বাণিজ্যের নতুন দুয়ার খুলবে।
উল্লেখ্য, ২০১৪ সালের ২৫ জানুয়ারি তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে এই সেতুর ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেছিলেন। দীর্ঘ সময় পর সেই স্বপ্ন বাস্তবায়নের মধ্য দিয়ে উত্তরাঞ্চলের মানুষের দীর্ঘদিনের দাবি পূরণ হয়েছে। মাওলানা ভাসানী সেতু এখন কেবল একটি নির্মাণ প্রকল্পই নয়, উন্নয়ন ও সম্ভাবনার নতুন প্রতীকে পরিণত হয়েছে। তৃতীয় এই তিস্তা সেতুটি উত্তরাঞ্চলের যোগাযোগ ব্যবস্থায় আমূল পরিবর্তন এনে ইতিহাস তৈরি করবে বলে আশাবাদ সংশ্লিষ্ট সকলের।
এফএইচ/