দেশ টেলিভিশন লিমিটেড, কর্ণফুলী মিডিয়া পয়েন্ট, ৪২, শহীদ সাংবাদিক সেলিনা পারভীন সড়ক, মালিবাগ, ঢাকা-১২১৭, বাংলাদেশ।
টেলিফোন: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৫৮, ৮৩৩২৯২২ ফ্যাক্স: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৮১ মেইল: [email protected]

মাসকান্দা বাস কাউন্টারে ভাংচুর ও লুটপাটের ঘটনায় ৯ ঘণ্টা পর ময়মনসিংহসহ বৃহত্তর এলাকায় বাস চলাচল পুনরায় শুরু হয়েছে। একই সঙ্গে জেলা প্রশাসন এই ঘটনায় চার সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করেছে।
মঙ্গলবার (১৯ আগস্ট) রাত ১০টা থেকে ঢাকা-ময়মনসিংহ, ময়মনসিংহ থেকে শেরপুর, নেত্রকোনা, হালুয়াঘাট, ধোবাউড়া, পুর্বধলা ও কিশোরগঞ্জসহ বৃহত্তর ময়মনসিংহে বাস চলাচল শুরু হয়েছে।
এর আগে দুপুর ১টায় নগরীর ঢাকা বাসস্ট্যান্ডের কাউন্টার ভাঙচুর ও লুটপাট করে দুর্বৃত্তরা। কাউন্টার ভাঙচুর ও লুটপাটে দেড় শতাধিক দুর্বৃত্ত অংশ নেয়। এর প্রতিবাদে ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কসহ বৃহত্তর ময়মনসিংহে বাস চলাচল বন্ধ করে দেয় শ্রমিকরা।
ময়মনসিংহ জেলা মটর মালিক সভাপতি আলমগীর মাহমুদ আলম এসব তথ্য নিশ্চিত করে বলেন, দুপুর ১টার দিকে মাসকান্দা কাউন্টারে ভাঙচুর ও লুটপাটের ঘটনা ঘটান একদল দুর্বৃত্ত। পরে শ্রমিকরা বৃহত্তর ময়মনসিংহে বাস চলাচল বন্ধ করে দেয়। এরপর রাতে জেলা প্রশাসনের সঙ্গে আলোচনা করে ৪ সদস্য বিশিষ্ট কমিটি গঠন করা হয়েছে।
এই ঘটনার সঙ্গে কারা জড়িত জানতে চাইলে তিনি বলেন, তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। তদন্তে প্রকৃত দোষীরা বেরিয়ে আসবে।
দুপুরে একদল দুর্বৃত্ত মোটরসাইকেলে এসে নগরীর মাসকান্দা বাস টার্মিনালে প্রবেশ করে অতর্কিতভাবে ইউনাইটেড বাস সার্ভিসের টিকিট কাউন্টারটি ভেঙে গুড়িয়ে দেয়। বন্ধ করে দেয় ইউনাইটেড বাস সার্ভিসের কাউন্টার। ইউনাইটেড বাস সার্ভিসের কাউন্টারটি বন্ধ করে দেওয়াতে ভোগান্তিতে পড়ে কয়েকশ’ যাত্রী। যাত্রীরা অগ্রীম টিকেট করেও যেতে না পেরে ক্ষোভ প্রকাশ করেন।
মাসকান্দা বাস কাউন্টারের এক কর্মী নাম না প্রকাশ করার শর্তে বলেন, দুপুরের দিকে হঠাৎ একদল দুর্বৃত্ত দেশিয় অস্ত্র নিয়ে বাস কাউন্টারে হামলা চালায়। হামলা করে কাউন্টার ও ভেতরে ভাঙচুর করে। এসময় কাউন্টারে থাকা টাকা লুটপাটের ঘটনা ঘটেছে।
মজিবুর রহমান নামে ঢাকাগামী এক যাত্রী বলেন, আমি অগ্রিম টিকেট করে রেখেছিলাম। বাসস্ট্যান্ডে এসে দেখি কে বা কারা ভাঙচুর করেছে। এতে বাস চলাচল বন্ধ রয়েছে। আমি ঢাকা গিয়ে সেখান থেকে রবিশাল যাব। লঞ্চের টিকেট কেনা। এখন কোনোভাবেই ঢাকা যেতে পারছি না।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে প্রত্যক্ষদর্শী বাসস্ট্যান্ডের আরেক কর্মী বলেন, যারা ভাঙচুর করতে এসেছিল। তারা স্লোগান দিচ্ছিল আওয়ামী লীগ নেতা শামীমের কোনো বাস চলবে না। এসব স্লোগান দিতে দিতে কাউন্টার ভাঙচুর করে।
কোতোয়ালী মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত (ওসি) মুহাম্মদ শিবিরুল ইসলাম বলেন, গত বছরের ৫ অগাস্টের আগে যারা বাসস্ট্যান্ড নিয়ন্ত্রণ করতো এখনও তারা করছে, এমন অভিযোগে অজ্ঞাতরা ভাঙচুর চালিয়েছে। তবে, জেলা প্রশাসনের সঙ্গে বাস মালিক সমিতি ও শ্রমিক সমিতির নেতারা আলোচনা করে বাস চলাচলের সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।
আরএ