দেশ টেলিভিশন লিমিটেড, কর্ণফুলী মিডিয়া পয়েন্ট, ৪২, শহীদ সাংবাদিক সেলিনা পারভীন সড়ক, মালিবাগ, ঢাকা-১২১৭, বাংলাদেশ।
টেলিফোন: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৫৮, ৮৩৩২৯২২ ফ্যাক্স: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৮১ মেইল: [email protected]

পাবনার চাটমোহর উপজেলায় এক সৌদি প্রবাসীর স্ত্রীকে নিয়ে উধাও হয়েছেন চাটমোহর থানার এএসআই শাকিল আহমেদ। এ নিয়ে উপজেলায় বেশ চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করেছে।
বৃহস্পতিবার (১৪ আগস্ট) উপজেলার গুনাইঘাছা ইউনিয়নের রামচন্দ্রপুর গ্রামে এই ঘটনা ঘটে।
অভিযুক্ত এএসআই শাকিল সিরাজগঞ্জ জেলার শাহজাদপুর উপজেলার বাসিন্দা ও চাটমোহর থানায় কর্মরত। অপরদিকে প্রবাসীর স্ত্রী মাসুরা খাতুনের বাড়ি নোয়াখালী জেলার চাটখিল উপজেলায়। সে গুনাইঘাছা ইউনিয়নের রামচন্দ্রপুর গ্রামের সাবেক সেনা সদস্য বজলুল হকের ছেলে প্রবাসী শহীদের স্ত্রী।
স্থানীয় ও উভয়ের পরিবার সূত্রে জানা গেছে, প্রবাসীর স্ত্রী মাসুরা খাতুন প্রেমের সম্পর্ক গড়ে চাটখিলে একটি বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হন। সেই ঘরে তার একটি সন্তান আছে। বিয়ের কিছুদিন পরে বনি বনা না হওয়ায় সেই সংসার ছেড়ে ঢাকাতে অবস্থান নেন মাসুরা। সেখানে চাটমোহর উপজেলার রামচন্দ্রপুর গ্রামের সাবেক সেনা সদস্য বজলুল হকের ছেলে শহীদ চাকরির সুবাদের একই এলাকায় অবস্থান করছিলেন। পরে শহীদের সঙ্গে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে।
বিয়ের পরে মাসুরার বাবা শহীদকে সৌদি আরবের কাজ করতে নিয়ে যায়। এদিকে শহীদের পরিবারের সঙ্গে বনি বনা না হওয়ায় চাটমোহর পৌর সদরের চৌধুরীপাড়ায় দুই সন্তান নিয়ে ভাড়া বাসায় থাকতেন মাসুরা। অপরদিকে এএসআই শাকিল আহমেদের প্রথম স্ত্রীর একটি সন্তান হওয়ার পরে তাদের ছাড়াছাড়ি হয়ে যায়। এরপর পুলিশে চাকরিরত আরেক পুলিশ কনস্টেবলের সঙ্গে বিয়ে হয় এএসআই শাকিলের। সেই সংসারে দুটো সন্তান আছে।
প্রায় ছয় মাস আগে চাটমোহর থানায় পোস্টিং হলে থানার পেছনে চৌধুরীপাড়ায় বসবাসরত মাসুরার সঙ্গে সক্ষ্যতা গড়ে ওঠে শাকিলের। সেই সুবাদেই শাকিলের নিয়মিত যাতায়াত ছিল মাসুরার বাড়িতে। পরে সকল বাধা বিপত্তি উপেক্ষা করে শাকিল মাসুরাকে নিয়ে বৃহস্পতিবার আত্মগোপনে চলে যায়। উভয় পরিবার অনেক খোঁজাখুঁজি করেও তাদের কোনো হদিস মেনেনি।
বিষয়টি নিয়ে চাটমোহর পৌর সদরসহ বিভিন্ন এলাকায় ব্যাপক গুঞ্জনের সৃষ্টি হয়েছে। একই সঙ্গে চাটমোহর থানায় ওপেন হাউজ ডে অনুষ্ঠান চলাকালীন এই থানায় কর্মরত এএসআই শাকিলের কর্তব্যরত অবস্থায় এহেন কর্মকাণ্ডকে ভালোভাবে নিতে পারছে না সাধারণ মানুষ। শাকিলের বিরুদ্ধে আইননুগ ব্যবস্থাও গ্রহণের অনুরোধ জানান সুধী সমাজ।
এ বিষয়ে এএসআই শাকিলের পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তারা জানান, আমরা ঘটনাটি জেনেছি। তবে শাকিল বাসায় আসেনি।
এ ব্যাপারে পাবনার সিনিয়র সহকারী পুলিশ সুপার (চাটমোহর সার্কেল) আঞ্জুমা আক্তার জানান, ঘটনাটি আমরা জানতে পেরেছি। এএসআই শাকিলের বিরুদ্ধে তদন্ত শেষে বিভাগীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
আরএ