দেশ টেলিভিশন লিমিটেড, কর্ণফুলী মিডিয়া পয়েন্ট, ৪২, শহীদ সাংবাদিক সেলিনা পারভীন সড়ক, মালিবাগ, ঢাকা-১২১৭, বাংলাদেশ।
টেলিফোন: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৫৮, ৮৩৩২৯২২ ফ্যাক্স: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৮১ মেইল: [email protected]

পিরোজপুরের নাজিরপুর উপজেলার স্থানীয়দের কাছে অযত্ন ও অবহেলার কচুরিপানা এখন স্বপ্ন দেখাচ্ছে আয়ের উৎস হিসেবে। ব্যবহার ও সহজলভ্যতার কারণে রপ্তানিযোগ্য পণ্য তৈরির কাঁচামাল হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছে কচুরিপানা। কচুরিপানা দিয়ে তৈরি পণ্য রপ্তানি হচ্ছে বিশ্বের বহু দেশে। পাপোশ, রকমারি ফুলদানি, দৃষ্টিনন্দন ফুলঝুড়ি, রঙ-বেরঙের পাটি তৈরির কাঁচামাল এ কচুরিপানা। এছাড়াও, ব্যাগ, টুপি ও জায়নামাজ তৈরি হচ্ছে কচুরিপানা থেকে। কচুরিপানা দিয়ে তৈরি পণ্যগুলো পরিবেশবান্ধব ও প্লাস্টিক সামগ্রীর বিকল্প হিসেবে বিবেচিত হয়। যার ফলে দেশে-বিদেশে এর চাহিদাও ব্যাপক।
উপজেলার দেউলবাড়ী দোবড়া ইউনিয়নের সোনাপুর গ্রামের ফেলে দেওয়া কচুরিপানায় শতশত মানুষের কর্মসংস্থান হয়েছে। কচুরিপানা এখন জোগান দিচ্ছে বৈদেশিক মুদ্রা। কচুরিপানা থেকে তৈরি হওয়া কুটির শিল্প বিদেশে রপ্তানি করে আয় হচ্ছে লাখ লাখ টাকা।
কচুরিপানাকে আয়ের মাধ্যম হিসেবে বেছে নিয়েছেন তারা। শুকনো কচুরিপানা বিক্রি করছেন প্রতি কেজি ৫০ টাকা দরে। প্রথমে জলাশয় থেকে ১৮ ইঞ্চি মাপের কচুরিপানা সংগ্রহ করা হয়। সেগুলো কেটে তিন থেকে চার দিন রোদে শুকানো হয়। পরে ওজনে সেগুলো বিক্রি করা হয়।
সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, গ্রামীণ ছোট ছোট রাস্তার পাশেই কাঁচা কচুরিপানা শুকানোর কাজে ব্যস্ত শ্রমিকরা। মাঘ থেকে জ্যৈষ্ঠ মাস পর্যন্ত ভরা মৌসুম থাকলেও এর সংগ্রহ চলে সারা বছর জুড়ে।
মাদরাসাছাত্র হাফিজুর রহমান বলেন, বাবা মায়ের কাজে সহযোগিতা করার জন্য মাদরাসা থেকে বাড়িতে ফিরে পড়াশোনার ফাঁকে অবসর সময়ে কচুরিপানা শুকিয়ে দৈনিক একশ থেকে দুইশ টাকা আয় করছি।
এ বিষয়ে উদ্যোক্তা আলমগীর হোসেন বলেন, খারাপ যোগাযোগ ব্যবস্থা এ ব্যবসা সমৃদ্ধির পথে প্রধান অন্তরায়। এই অঞ্চলের যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নয়ন ঘটলে এ ব্যবসার সমৃদ্ধি ঘটবে এবং জাতীয় অর্থনীতিতে ভূমিকা রাখতে সক্ষম হবে।
নাজিরপুর উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ কর্মকর্তা মাহফুজুর রহমান মিল্টন জানান, নাজিরপুরের কৃষকদের উদ্ভাবনী ক্ষমতা রয়েছে। তারা কচুরিপানার মতো অবহেলিত বিষয়কে প্রসেসিং করে কুটির শিল্পের কাঁচামাল তৈরি করে স্থানীয় বেকার সমস্যা সমাধানসহ বৈদেশিক মুদ্রা উপার্জন করে অর্থনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। কচুরিপানার তৈরি পণ্যকে জি আই পণ্যের স্বীকৃতির বিষয়ে ওপরের মহলে সঙ্গে যোগাযোগ করবো।
/অ