দেশ টেলিভিশন লিমিটেড, কর্ণফুলী মিডিয়া পয়েন্ট, ৪২, শহীদ সাংবাদিক সেলিনা পারভীন সড়ক, মালিবাগ, ঢাকা-১২১৭, বাংলাদেশ।
টেলিফোন: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৫৮, ৮৩৩২৯২২ ফ্যাক্স: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৮১ মেইল: [email protected]

প্রায় ১৮৫ বছর ধরে সংরক্ষিত একটি বনমহিষের শিংসহ মাথার করোটি নওগাঁর পাহাড়পুর (সোমপুর) বৌদ্ধবিহার জাদুঘরে হস্তান্তর করা হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (৩১ জুলাই) দুপুরে নওগাঁ শহরের কালিতলা মহল্লার বাসিন্দা অধ্যাপক মো. ফজলুল হক পাহাড়পুর জাদুঘরের কাস্টোডিয়ান ফজলুল করিমের কাজে এটি হস্তান্তর করেন।
অধ্যাপক ফজলুল হক জানান, নওগাঁর দুবলহাটীর রাজা রায় বাহাদুর হরনাথ রায় চৌধুরী সিলেটে জমিদারি কেনার পর তিনি তার বিস্তৃত জমিদারি পরিদর্শনে সিলেটে যান। সেখানে তিনি অন্যান্য প্রাণীর সঙ্গে একটি বনমহিষ শিকার করেন। সিলেটে কিছুদিন থাকার পর দুবলহাটী রাজ প্রাসাদে ফিরে আসার সময় শিকার করা বিভিন্ন প্রাণির মাথার করোটি সঙ্গে নিয়ে আসেন। এর মধ্যেই ছিল বনমহিষটির মাথার করোটিও। পরে ১৮৯১ সালে তিনি প্রয়াত হলে তার স্থলে তার ছেলে রাজা কৃঙ্করীনাথ রায় চৌধুরী জমিদারি পান।
তিনি আরও জানান, দুবলহাটীর শিকারপুরের শৈলকোপা গ্রামের জোতদার সাকিম উদ্দীন শেখের সঙ্গে রাজা কৃঙ্করীনাথ রায় চৌধুরীর ঘনিষ্ঠতা ছিল। সেই সুবাদে রাজা কৃঙ্করীনাথ রায় চৌধুরী ১৯৩৫ সালে বনমহিষটির মাথার করোটি তার ঘনিষ্ঠতম বাল্যবন্ধু সাকিম উদ্দীন শেখকে উপহার দিয়েছিলেন। সাকিম উদ্দীন শেখের মৃত্যুর পর তার ছেলে আব্দুল গনি শেখ মহিষের মাথাটি সংরক্ষণ করছিলেন। আব্দুল গনি শেখের মৃত্যর পর তার ছেলে অধ্যাপক মো. ফজলুল হক মাথাটি তার সংগ্রহে রেখেছিলেন।
পাহাড়পুর বৌদ্ধবিহার জাদুঘরের কাস্টোডিয়ান ফজলুল করিম আরজু বলেন, এই মহিষের করোটিটি আমাদের জন্য একটি প্রাপ্তি হলো। এটি জাদুঘরে সংরক্ষণ করা হবে। দর্শনার্থীরা এটি দেখে অতীত ইতিহাস জানবে।
এ ধরনের কোনো বস্তু বা পুরাকীর্তি নিদর্শন কারো কাছে থাকলে তা পাহাড়পুর জাদুঘরে হস্তান্তর করার আহ্বান জানান কাস্টোডিয়ান ফজলুল করিম।
আরএ