দেশ টেলিভিশন লিমিটেড, কর্ণফুলী মিডিয়া পয়েন্ট, ৪২, শহীদ সাংবাদিক সেলিনা পারভীন সড়ক, মালিবাগ, ঢাকা-১২১৭, বাংলাদেশ।
টেলিফোন: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৫৮, ৮৩৩২৯২২ ফ্যাক্স: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৮১ মেইল: [email protected]

সুনামগঞ্জের দোয়ারাবাজার উপজেলার বাজারসংলগ্ন নদীপথে চলাচলকারী ফেরিতে নিয়ম বহির্ভূতভাবে অতিরিক্ত ভাড়া আদায়ের অভিযোগ উঠেছে ইজারাদারের বিরুদ্ধে। ফেরি পারাপারে যাত্রী ও যানবাহন চালকদের কাছ থেকে বিভিন্ন অজুহাতে নেওয়া হচ্ছে বাড়তি টাকা। এতে ভোগান্তিতে পড়েছেন সাধারণ মানুষ।
ফেরি পারাপারে ভুক্তভোগীরা জানান, ফেরিতে পারাপারের জন্য নির্ধারিত ভাড়ার বাইরে অতিরিক্ত অর্থ আদায় করা হচ্ছে প্রতিনিয়ত। বিশেষ করে রাত ৮টার পর ‘তেল খরচ বেশি’—এই অজুহাত দেখিয়ে বাড়তি ২০০ থেকে ৫০০ টাকা পর্যন্ত নেওয়া হয়। কোনো যাত্রী বা চালক ভাড়া দিতে অস্বীকৃতি জানালে ফেরি ছাড়তে অপারগতা প্রকাশ করে ইজারাদারের স্টাফ।
একজন সিএনজি চালক ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, “প্রতি টিপে ২০০ থেকে ৫০০ টাকা বেশি নেয়। যদি না দিই, বলে ফেরি ছাড়বে না। এটা তো এক ধরনের জুলুম।”
স্থানীয়রা জানায়, সবচেয়ে উদ্বেগজনক দিক হলো, জরুরি অ্যাম্বুলেন্স পারাপারেও কোনো বিশেষ সুবিধা নেই। ফেরি নির্দিষ্ট সময় অনুযায়ী না ছাড়ায় একাধিকবার রোগীবাহী অ্যাম্বুলেন্সকে অপেক্ষা করতে হয়েছে নদীপারে। এতে রোগীদের অবস্থা আরও সংকটাপন্ন হয়ে পড়ে।
একজন মোটরসাইকেল চালক আশরাফুল জানান, “৫ টাকার ভাড়া রশিদ ছাড়া ১০ টাকা দেই। তাড়াতাড়ি ছাড়বে এই বলে কখনো কখনো ২০ টাকা পর্যন্ত নেয়। এটা এখন নিয়মে পরিণত হয়েছে।”
এলাকাবাসী বলছেন, দিনের পর দিন প্রশাসনের নাকের ডগায় এমন অনিয়ম চললেও নেওয়া হচ্ছে না কোনো কার্যকর ব্যবস্থা। স্থানীয়রা দ্রুত ভাড়া নির্ধারণ, চার্ট টানানো ও নিয়মিত তদারকির দাবি জানান।
দোয়ারাবাজারের এক বয়োজ্যেষ্ঠ বাসিন্দা বলেন, “ফেরি হলো আমাদের নদী পারাপারের একমাত্র মাধ্যম। এটা নিয়েই যদি বাণিজ্য হয়, তাহলে আমরা যাব কোথায়?”
এ বিষয়ে দোয়ারাবাজার উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা অরূপ রতন সিংহ জানান, “রশিদ ছাড়া অতিরিক্ত ভাড়া নেওয়া হলে ইজারাদারের সঙ্গে কথা বলবো। সরকার নির্ধারিত ভাড়ার চার্ট ফেরিতে টানিয়ে রাখা উচিত।”
সড়ক ও জনপথ বিভাগের (সওজ) নির্বাহী প্রকৌশলী ড. মো. আহাদ উল্লাহ বলেন, “আমরা নির্ধারিত ভাড়া নির্ধারণ করে দিয়েছি এবং তা রশিদের মাধ্যমে আদায় করার নির্দেশ রয়েছে। যদি কেউ তা না মানে, তাহলে সেটা বেআইনি। আমি বিষয়টি দেখছি।”
ইজারাদার আমিরুল দাবি করেন, “রশিদ ও নির্ধারিত ভাড়া আছে। আমি বিষয়টি দেখছি।”
কিন্তু নৌকায় কর্মরত ইজারাদার নিয়োগপ্রাপ্ত এক স্টাফ জানান, “রশিদ এখনো পাইনি, তাই তেল খরচ বেশি হওয়ার কারণে একটু বাড়িয়ে ভাড়া নিচ্ছি। রশিদ পেলে নির্ধারিত ভাড়াই নেব।”
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ফেরির একজন স্টাফ বলেন, “ফেরি পারাপারে চলছে হরিলুট। রশিদ ছাড়া অতিরিক্ত ভাড়া নেওয়া হচ্ছে এবং মালিক পক্ষ তা জানে।”
এলাকাবাসী বলছেন, এই অনিয়ম শুধু আর্থিক শোষণ নয়—এটি তাদের মৌলিক যাতায়াত অধিকার এবং জরুরি সেবার ওপর সরাসরি আঘাত। তারা দ্রুত প্রশাসনের হস্তক্ষেপ দাবি করেছেন।
আরএ