দেশ টেলিভিশন লিমিটেড, কর্ণফুলী মিডিয়া পয়েন্ট, ৪২, শহীদ সাংবাদিক সেলিনা পারভীন সড়ক, মালিবাগ, ঢাকা-১২১৭, বাংলাদেশ।
টেলিফোন: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৫৮, ৮৩৩২৯২২ ফ্যাক্স: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৮১ মেইল: [email protected]

রংপুরের গঙ্গাচড়ায় ধর্ম অবমাননার অভিযোগে এক কিশোর (১৭) গ্রেপ্তার হলেও উত্তেজিত জনতা ওই কিশোরের বাড়িসহ সনাতন ধর্মাবলম্বীদের অন্তত ১৮টি বসতঘরে দফায় দফায় হামলা ও ভাঙচুর চালিয়েছে। এ ঘটনায় সেখানে বাসিন্দাদের মধ্যে আতঙ্ক বিরাজ করছে এবং ভয়ে অনেকে বাড়ির জিনিসপত্র নিয়ে অন্যত্র চলে যাচ্ছেন।
এ ঘটনার পরে সেখানে সেনাবাহিনী ও পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে । তবু হিন্দুপল্লীর লোকজনের ভয় কাটছে না। তারা বাড়ির জিনিসপত্র ভ্যানে নিয়ে দূরে আত্মীয়স্বজনের বাড়িতে চলে যাচ্ছেন। তারা বলছেন, 'দোষীকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে, তার শাস্তি হোক। কিন্তু মাইকিং করে হিন্দুপল্লীতে হামলা, বাড়িঘর ভাঙচুর ও লুটপাট করা হচ্ছে।'
পুলিশ বলছে, সামাজিক মাধ্যমে ধর্ম অবমাননার অভিযোগ পেয়ে শনিবার রাতে ওই কিশোরকে আটক করে থানায় আনা হয়। পরদিন সাইবার সুরক্ষা আইনে তার বিরুদ্ধে মামলা হয়। রোববার দুপুরে আদালত তাকে শিশু পুনর্বাসনকেন্দ্রে পাঠান। ওই কিশোর একটি বেসরকারি পলিটেকনিক ইনস্টিটিউটে তৃতীয় পর্বের শিক্ষার্থী।
এ ঘটনায় উত্তেজিত জনতা শনিবার রাতে ওই কিশোরের বিচারের দাবিতে মিছিল করে। পরে তার বাড়িতে হামলা ও ভাঙচুর করা হয়। একই সময় আশপাশের কয়েকটি বাড়িতেও হামলা চালায় উত্তেজিত জনতা। পরে রাতে পুলিশ ও সেনাবাহিনী গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।
ধর্ম অবমাননার প্রতিবাদে রোববার নীলফামারীর কিশোরগঞ্জের বাংলাবাজার এবং খিলালগঞ্জ এলাকায় মানববন্ধন হয়। মাইকিং করে সেখানে লোকজন জড়ো করে বিকেলে ওই হিন্দুপল্লীর অন্তত ১৮টি বাড়ি ভাঙচুর করা হয়।
এদিন গ্রামের প্রমোদ মোহন্ত, সুজন রায়, কিশোব রায়, জয়চাঁদ রায়, অমিত মোহন্ত, রবিন্দ্রনাথ রায়, ধরনী মোহন্ত, অতুল রায়, সুমন রায়, ধনঞ্জয় রায়, কমলাকান্ত রায়, সুবল রায়, অবিনাশ রায়, লালমোহন রায়, হরিদাস রায়, মনোরঞ্জন শীল, লিটন মোহন্ত ও উপিন চন্দ্র মোহন্তর বাড়িতে হামলা ও ভাঙচুর করা হয়।
এসব পরিবারের সদস্যদের দাবি, হামলাকারীরা অধিকাংশ কিশোরগঞ্জের বাংলাবাজার এলাকার। তারা শুধু বাড়িঘর ভাঙচুর করেনি; স্বর্ণ, নগদ টাকা, চালের বস্তা, গরু, কাপড়-চোপড় ও আসবাবপত্র লুটপাট করেছে।
সোমবার দুপুর পর্যন্ত অন্তত ২৫টি পরিবার গ্রাম ছেড়েছে বলে জানিয়েছেন স্থানীয় ইউপি সদস্য পরেশ চন্দ্র রায়। তিনি বলেন, 'বিভিন্ন নম্বর থেকে মোবাইলফোনে হুমকি পাচ্ছে গ্রামবাসী। ফলে ভয়ে অনেকে গ্রাম ছাড়ছে। ভয়ে অনেকে বাড়ি থেকে বের হচ্ছেন না।'
এ বিষয়ে গঙ্গাচড়া মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আল এমরান বলেন, 'কিছু পরিবার আতঙ্কে বাড়ি ছেড়েছে। অনেকে হামলার ভয় করছেন। তবে আমরা তাদের আশ্বস্ত করেছি। ওই গ্রামে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী মোতায়েন রয়েছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রয়েছে।' তিনি আরও বলেন, 'হামলার ঘটনায় এখনও লিখিত অভিযোগ পাইনি। তাই এ ঘটনায় কাউকে আটক করা হয়নি।'
গঙ্গাচড়ার উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মাহমুদ হাসান মৃধা বলেন, ‘ধর্ম অবমাননার অভিযোগে গ্রেপ্তার ওই কিশোরের পরিবার ও স্বজন ভয়ে বাড়ি ছেড়েছেন। এ ছাড়া কিছু পরিবার হামলার ভয়ে বাড়ি ছেড়েছে বলে জেনেছি। তবে আমরা গ্রামবাসীদের আশ্বস্ত করেছি, বাড়ি ছাড়ার প্রয়োজন নেই।’ পরিস্থিতি এখন শান্ত উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর জন্য শুকনো খাবার সরবরাহ করা হচ্ছে। তাদের আর্থিক সহায়তা দেওয়া হবে।’
এফএইচ/