দেশ টেলিভিশন লিমিটেড, কর্ণফুলী মিডিয়া পয়েন্ট, ৪২, শহীদ সাংবাদিক সেলিনা পারভীন সড়ক, মালিবাগ, ঢাকা-১২১৭, বাংলাদেশ।
টেলিফোন: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৫৮, ৮৩৩২৯২২ ফ্যাক্স: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৮১ মেইল: [email protected]

পঞ্চগড়ের সহকারী কমিশনার ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট (শিক্ষা ও কল্যাণ শাখা) মো. আসিফ আলী জিভালের বিরুদ্ধে গাড়ি কিনতে ২৫ লাখ টাকা না দেওয়ায় যৌতুকের দাবিতে মারধর ও মানসিক নির্যাতনের অভিযোগ করেছেন তার স্ত্রী দেওয়ান স্বীকৃতি রহমান ওরফে চৈতী।
এ ঘটনায় তিনি ঢাকা সিএমএম আদালত ও যশোরে আদালতে পৃথক দুটি মামলা করেছেন। ঘটনার পর তার স্বামী ম্যাজিস্ট্রেসি ক্ষমতা দেখিয়ে তাকে হেনস্তা করবেন বলে হুমকি ধামকি দিচ্ছেন বলে দাবি করেন চৈতী।
চৈতির দায়ের করা অভিযোগে তিনি উল্লেখ করেছেন, যশোর শহরের পুরোনো কসবা বিবি রোড এলাকার বাসিন্দা দেওয়ান স্বীকৃতি রহমান ওরফে চৈতি খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী। অপরদিকে, খুলনার সোনাডাঙ্গা উপজেলার বাসিন্দা মো. আসিফ আলী জিভালও একই বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী ছিলেন। পূর্বের জানাশোনা থেকে পরিচয় ও সম্পর্কের একপর্যায়ে ২০২৪ সালের ১৬ মার্চ তারা ৫০ লাখ টাকা দেনমোহরে বিয়ে করেন। তবে উভয়ের এর আগে বিয়ে হয় এবং তারা তালাকপ্রাপ্ত হয়ে এই বিয়ে করেন। চৈতির প্রথম পক্ষে একটি মেয়ে সন্তান রয়েছে, যা দুজনই তাদের অ্যাফিডেভিটে উল্লেখ করেছেন।
অভিযোগে বলা হয়, বিয়ের মাসখানেক যেতে না যেতে জিভাল ওই বছরের ১৯ এপ্রিল একটি গাড়ি কেনার জন্য তার কাছে ২৫ লাখ টাকা দাবি করেন। কাঙ্ক্ষিত টাকা দিতে না পারায় জিভাল তাকে শারীরিক ও মানসিকভাবে অত্যাচার করেন। পরদিন তিনি শ্বশুরবাড়ি থেকে যশোরে বাবার বাড়ি চলে আসেন এবং হাসপাতালে ভর্তি থেকে চিকিৎসা গ্রহণ করেন। পরে সংসার টিকিয়ে রাখতে দুই পক্ষের আপস-মীমাংসার পর তিনি ফের শ্বশুরবাড়িতে ফিরে যান।
এরপর ১৫ নভেম্বর তিনি বাবার বাড়ি বেড়াতে এলে জিভালও আসেন। যশোরে এসেও তিনি গাড়ি কেনার সেই ২৫ লাখ টাকার জন্য ফের চাপ দিতে থাকেন। পরিবারের অর্থনৈতিক দৈন্যতার কথা জানিয়ে ওই টাকা দিতে পারবে না জানালে জিভাল সেখানেও তাকে মারধর করেন। এতে তার শরীরের বিভিন্ন অংশে নীলাফোলা জখম হয়।
তিনি আবারও যশোর জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি হয়ে চিকিৎসা নেন। পরে গত ১৭ ফেব্রুয়ারি যশোর কোতোয়ালি থানায় যৌতুকের দাবিতে মারধরের অভিযোগ একটি মামলা করেন চৈতি।
চৈতি বলেন, ‘আমাদের দুজনের আগে বিয়ে হয়েছিল; বিষয়টি আমরা দুজনই অবগত। এসব জেনেশুনে আমরা বিয়ে করি। কিন্তু বিয়ের পর থেকেই জিভাল পল্লবী নামে আরেক বিবাহিত নারীর সঙ্গে পরকীয়া সম্পর্কে জড়ান। তাদের সেই সম্পর্কে বাঁধা হয়েছি বিধায় যৌতুকের দাবিতে আমাকে তিনি শারীরিক ও মানসিকভাবে নির্যাতন শুরু করেন। এসব ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে ঢাকার সিএমএম আদালতে একটি মামলা (নম্বর ১৬২৫/২৪) এবং যশোর আদালতে আরেকটি মামলা (৩১/১০৩) করি।’
এছাড়াও গত ২ জুলাই জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিবের কাছে ‘যৌতুকের দাবিতে মারধরসহ পরকীয়ায় আসক্তি’র ঘটনা উল্লেখ করে লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন চৈতি।
বাদীর আইনজীবী তাহমিদ আকাশ বলেন, ভুক্তভোগী যশোর কোতোয়ালি মডেল থানাতেও অভিযোগ দেন। পরে অভিযোগটি মামলা হিসেবে রের্কড হয়। তবে দুঃখের বিষয় হলো, এখনও আসামিকে আটক করতে পারেনি পুলিশ। এমনকি আদালতে চার্জশিট জমা দেওয়ার ধার্যকৃত তিনটা তারিখেও চার্জশিট জমা দিতে পারেনি পুলিশ।
অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে সহকারী কমিশনার ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মো. আসিফ আলী জিভাল বলেন, ‘পরিস্থিতির শিকার হয়ে তাকে বিয়ে করতে বাধ্য হয়েছিলাম। তবে কখনো একসঙ্গে স্বামী-স্ত্রীর সংসার বা থাকা হয়নি।’
জিভালের দাবি, মামলার এজাহারে মারধরের যে ঘটনার দিন উল্লেখ করা হয়েছে; ওই সময় সে অন্য বিভাগের ট্রেনিংয়ে ছিল। তাকে হেনস্তা করতেই এ মামলা করা হয়েছে। যেহেতু মামলা করেছে, আদালতের মাধ্যমেই তিনি নিষ্পত্তি করবেন। এছাড়া চৈতি এখন তার স্ত্রী নয় বলেও জানান জিভাল। তবে বিচ্ছেদের কারণ বা সময় জানাতে অনাগ্রহ প্রকাশ করেন তিনি।
আরএ