দেশ টেলিভিশন লিমিটেড, কর্ণফুলী মিডিয়া পয়েন্ট, ৪২, শহীদ সাংবাদিক সেলিনা পারভীন সড়ক, মালিবাগ, ঢাকা-১২১৭, বাংলাদেশ।
টেলিফোন: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৫৮, ৮৩৩২৯২২ ফ্যাক্স: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৮১ মেইল: [email protected]

তদন্ত চলাকালে ভিডিও ধারণ করে ফেসবুকে মিথ্যা অপপ্রচারের অভিযোগে নেত্রকোনার কেন্দুয়ায় সংরক্ষিত আসনের এক নারী ইউপি সদস্যসহ তিনজনের বিরুদ্ধে সাইবার সুরক্ষা আইনে মামলা হয়েছে। গত বুধবার (১৬ জুলাই) কেন্দুয়ায় এ মামলাটি দায়ের করেন উপজেলার গড়াডোবা ইউনিয়ন পরিষদের প্রশাসনিক কর্মকর্তা মোহাম্মদ আনোয়ার হোসেন।
মামলায় একই ইউনিয়ন পরিষদের সদস্য মো. কাঞ্চন মিয়া, মো. আলমগীর, মো. আবু হানিফা ও মো. আনিছুল হকসহ একাধিক ব্যক্তি সাক্ষি হয়েছেন।
মামলার আসামিরা হলেন, গড়াডোবা ইউনিয়ন পরিষদের সংরক্ষিত আসনের নারী সদস্য স্থানীয় বাঁশাটি গ্রামের ফারুক মিয়ার স্ত্রী মঞ্জুরা আক্তার (৪০), নেত্রকোনা সদর উপজেলার কে-গাতী ইউনিয়নের নাড়িয়াপাড়া গ্রামের মহিউদ্দিন তালুকদার (৪৫) ও নেত্রকোনার আটপাড়া উপজেলার স্বরমুশিয়া ইউনিয়নের যাদবপুর গ্রামের তানজিল শাহ রুবি (৩৫)। তাদের মধ্যে মহিউদ্দিন তালুকদার ও তানজিল শাহ রুবি গণমাধ্যমকর্মী বলে জানা গেছে।
বৃহস্পতিবার (১৭ জুলাই) দুপুরে স্থানীয় কেন্দুয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মিজানুর রহমান মামলার বিষয়টি নিশ্চিত করেন। ওসি বলেন, এরইমধ্যে মামলাটির তদন্ত শুরু হয়েছে।
মামলার বিবরণে জানা গেছে, গত ২৯ মে স্থানীয় সহকারী কমিশনার (ভূমি) নিলুফা ইয়াসমিন নিপা গড়াডোবা ইউনিয়ন পরিষদে একটি অভিযোগের তদন্ত কাজে যান। এ সময় আসামি মহিউদ্দিন তালুকদার অনুমতি ছাড়াই কক্ষে প্রবেশ করে ভিডিও ধারণ করেন এবং নিষেধ করা সত্ত্বেও ২০ মিনিট ধরে ভিডিও ধারণ চালিয়ে যান। পরে তিনি ওই ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে প্রকাশের মাধ্যমে মানহানির হুমকি দেন।
এছাড়া গত ২ জুলাই উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ওই ইউনিয়নে হোল্ডিং অ্যাসেসমেন্ট কার্যক্রম উদ্বোধনে গেলে পরিষদের সদস্যরা অভিযোগ করেন, সংরক্ষিত আসনের নারী সদস্য আসামি মঞ্জুরা আক্তার ও অপর আসামি তানজিলা শাহ রুবির সহায়তায় মহিউদ্দিন বিভিন্ন সময় পরিষদে এসে চাঁদা দাবি করেন এবং চাঁদা না দিলে মিডিয়ায় মিথ্যা অপপ্রচার চালানোর হুমকি দেন। ঘটনার পর ইউএনও তদন্ত পরিচালনা করলে মঞ্জুরা আক্তার তদন্তে বাধা দেন এবং উত্তেজিত হয়ে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করেন। এ সময় পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশকে ডাকা হয় এবং তাকে সাময়িকভাবে পাশের কক্ষে স্থানান্তর করা হয়। একই সময় তানজিলা রুবি ও মহিউদ্দিন আবারো ভিডিও ধারণ করে তা বিকৃতভাবে প্রচার করেন এবং তার ফেসবুক আইডিতে একাধিক মানহানিকর পোস্ট দেন। এরইমধ্যে গত ৪ জুলাই তিনি 'ঘুষ দুর্নীতির নেশায় মাতাল হওয়ার মুখ উন্মোচন করায় সাংবাদিককে মারধর করে হাত-পা বেঁধে কবর দেওয়ার আলটিমেটাম দেন কেন্দুয়া উপজেলার ইউএনও' শিরোনামে একটি পোস্ট করেন।
একই সঙ্গে ইউএনও ও ইউপি কর্মকর্তাদের নিয়ে অশ্লীল ভাষা ব্যবহার করে অপপ্রচার চালান। গত ১৩ জুলাই তিনি আরেকটি পোস্টে লেখেন, 'মহিলা ইউপি সদস্যকে মেম্বারী চু... দেবো বললেন কেন্দুয়ার ইউএনও' যা প্রশাসনের বিরুদ্ধে প্রকাশ্য বিদ্বেষ ছড়ানোর সামিল।
এছাড়া তানজিলা রুবি নিজেও তার ব্যক্তিগত ফেসবুক আইডিতে লাইভে এসে ইউএনও ও ইউপি কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে মিথ্যাচার ও আপত্তিকর বক্তব্য প্রদান করেন। মামলার বাদী মোহাম্মদ আনোয়ার হোসেন বলেন, আমার চাকরির বয়স মোটামুটি অনেক। বেশ কয়েকটি ইউনিয়ন পরিষদে চাকরি করেছি। বিভিন্ন সময় নানান তথ্যের জন্য সাংবাদিকরা পরিষদে এসেছেন। তাদের চাহিদা মত তথ্য উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের অনুমতি ক্রমে দিয়েছি। মহিউদ্দিন ও রুবির মত সাংবাদিক এর আগে কখনো দেখিনি। তারা আমার সঙ্গে এমন অচরণ করেছেন, যা ভাষায় প্রকাশ করার মত না। আমার উর্ধ্বতন কর্মকর্তারা পর্যন্ত আমার সাথে কখনো এরকম ব্যবহার করেননি। তাদের আচরণ এমন ছিল যে, আমি কাঠগড়ার আসামি। ধমক ছাড়া কোনো কথাই বলেননি। আমি নিরুপায় হয়ে আমার উর্ধ্বতন কর্মকর্তার স্মরণাপন্ন হয়েছি।
এ বিষয়ে স্থানীয় উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ইমদাদুল হক তালুকদার বলেন, আমি বিষয়টি অবগত আছি। সাংবাদিকরা সমাজের দর্পণ। আর তারা যদি সাংবাদিকতার নাম করে এসব কাজ করেন তাহলে সাধারণ মনুষ যাবে কোথায়? এই সব সাংবাকিদের কাছে থেকে সমাজ কি আশা করতে পারে? তারা যে কাজ করেছে, আমার মনে হয় সাংবাদিক সমাজকে কলঙ্কিত করেছে। আমি চিনি বা না চিনি আমার কাছে যে কেউ সাংবাদিক পরিচয় দিলে আমি সন্মানের সঙ্গে যথাযত মূল্যায়ন করি। আমি থাকা অবস্থায় আমার অফিসে এসে কোনো সাংবাদিক অন্তত এক কাপ চা পান না করে এখন পর্যন্ত যেতে পারেননি। একজন সাংবাদিক তার ফেসবুকে মানহানিকর পোস্ট দেবেন, সেটা আশা করিনি। এ ঘটনায় থানায় মামলা হয়েছে। পুলিশ আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করবে।
এ নিয়ে কথা হলে মহিউদ্দিন তালুকদার সাংবাদিকদের বলেন, আমি ও রুবির ব্যাপারে যে মামলা দায়ের করা হয়েছে- তা সম্পুর্ণ মিথ্যা। আমরা চাঁদাবাজি করতে যাইনি। আমরা গিয়েছিলাম মহিলা মেম্বারের বিষয়ে একটি অভিযোগের তদন্ত শোনার জন্য। আমরা এতটুকু জানি। আমাদের বিরুদ্ধে এজাহারে আনীত অভিযোগ মিথ্যা এবং ভিত্তিহীন।
এফএইচ/